নরসিংদীর চরাঞ্চলে মৌসুমি ফল বাঙ্গি চাষ করে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। অতি গরমে অতিষ্ঠ প্রাণ খোঁজে একটু স্বস্তি, সেই সময় একটু রসালো বাঙ্গি প্রাণে এনে দেয় প্রশান্তি। দূর করে শরীরের কান্তি। গ্রীষ্মের অন্যতম ফলগুলোর মধ্যে এ বাঙ্গি অন্যতম, যা জেলার রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকের মাঠে শোভা পাচ্ছে।
অল্প শ্রম ও কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই বাঙ্গি চাষে ঝুঁকছেন ওই অঞ্চলের কৃষকরা। তাছাড়া বাঙ্গি বিক্রি করতেও কৃষকের তেমন একটা চিন্তা করতে হয় না। ক্ষেতেই পাইকারি ক্রেতারা এসে শতক দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের মধ্যে চরাঞ্চলই আটটি ইউনিয়ন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঙ্গি চাষাবাদ হয়, পাড়াতলী, চানপুর, বাঁশগাড়ি, শ্রীনগর, নিলক্ষা, চরমধূয়া ও মির্জাচর ইউনিয়নে। ওই এলাকাগুলোর বেলে-দোআঁশ মাটি অনেক উর্বর। এতে কৃষকদের ফলনও অনেক ভালো হয়। চলতি মৌসুমে এ চরাঞ্চলে বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে মোট ৪০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর হয়েছিল ৩৬ হেক্টর জমিতে। সে অনুযায়ী এবার ৪ হেক্টর জমিতে বেশি বাঙ্গি চাষ হয়েছে। এ বছর বাঙ্গি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন। ঝুড়িতে (স্থানীয় ভাষায় চাং) বাঙ্গি ভরে নৌকায় নেওয়া শ্রমিক মধ্যনগর গ্রামের আলী হোসেন বলেন, ‘বাঙ্গির পুরা মৌসুমে এই গ্রামের কেউ বইস্যা থাহে না। সবাই কিছু না কিছু করে। জমি থাইক্যা একটা বাঙ্গির ঝুড়ি (চাং) নৌকা ঘাটে নিলে ২০ টাকা পাই। এতে প্রতিদিন আমরা ৫ থেকে ৬ শত টাকা মজুরি পাই।’
রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান বলেন, ‘রায়পুরার চরাঞ্চলে বাঙ্গি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাঙ্গি চাষ সম্প্রসারণে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে কৃষকরা নিজেদেরই উৎপাদিত বীজই ব্যবহার করছেন। তবে বাঙ্গি চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ভালো বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের।’





















