০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যু হার

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৪৬ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ বছরে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে মা ও শিশু মৃত্যু। মৌলিক চিকিৎসা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে মাধ্যমে মানুষের আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে মা ও শিশু মৃত্যু অনেকাংশে রোধ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে রোবাবার এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এ সব তথ্য উপস্থাপন করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু অনেক বেড়েছে। কমেছে শিশু মৃত্যুর হার। টিকাদান কর্মসূচির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে। আমাদের স্বাস্থ্যের অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে অনেক। গড় আয়ু বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্কালে দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ দশমিক ৫, তা ১৯৯৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২ আর বর্তমানে আরও বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর। এটা আমাদের দেশের বড় অর্জন। শিশু মৃত্যুর হার কমের পরিসংখ্যানে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ছিল প্রায় দুইশর কাছাকাছি। এটা বর্তমানে কমে প্রতি হাজার ৫০ এর নিচে আনা সম্ভব হয়েছে। যেভাবে কমে আসছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমাদের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০ সালে পৌঁছাতে পারবো। মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিহাজারে চারশ জন মা সন্তান জন্ম দেয়ার সময় মারা যেতেন, তা কমে বর্তমানে দুইশর নিচে নামিয়ে আসার সম্ভব হয়েছে। অপুষ্টি হ্রাস পেয়েছে। আমরা প্রতিটি ধাপে উন্নতি লাভ করেছি। ১৯৯৬ সালে শতকরা ২১ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করতো, তা কমে বর্তমানে ৮ শতাংশে নেমেছে। গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে অধ্যাপক নাসিমা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মাঠ পর্যায়ের মানুষের সেবা দেয়া হচ্ছে। দেশের সব মানুষের সেবা নিশ্চিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ক্লিনিক তৈরি হয়েছে। সে সব ক্লিনিকে বর্হিবিভাগ ও অন্তবিভাগে সেবা দেয়া হচ্ছে। ছুটির দিনেও এসব সেবা দেয়া হয়। দেশে চিকিৎসার প্রসার বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আর দেশের মানুষের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় না। বাংলাদেশে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। দেশীয় চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। ভার্চুয়াল সভায় অন্যান্যের মাঝে অংশ নেন স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে মা ও শিশুমৃত্যু হার

প্রকাশিত : ১২:০১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ মে ২০২১

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৪৬ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ বছরে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে মা ও শিশু মৃত্যু। মৌলিক চিকিৎসা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে মাধ্যমে মানুষের আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে মা ও শিশু মৃত্যু অনেকাংশে রোধ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে রোবাবার এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এ সব তথ্য উপস্থাপন করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু অনেক বেড়েছে। কমেছে শিশু মৃত্যুর হার। টিকাদান কর্মসূচির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে। আমাদের স্বাস্থ্যের অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে অনেক। গড় আয়ু বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্কালে দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ দশমিক ৫, তা ১৯৯৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২ আর বর্তমানে আরও বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর। এটা আমাদের দেশের বড় অর্জন। শিশু মৃত্যুর হার কমের পরিসংখ্যানে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ছিল প্রায় দুইশর কাছাকাছি। এটা বর্তমানে কমে প্রতি হাজার ৫০ এর নিচে আনা সম্ভব হয়েছে। যেভাবে কমে আসছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমাদের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০ সালে পৌঁছাতে পারবো। মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিহাজারে চারশ জন মা সন্তান জন্ম দেয়ার সময় মারা যেতেন, তা কমে বর্তমানে দুইশর নিচে নামিয়ে আসার সম্ভব হয়েছে। অপুষ্টি হ্রাস পেয়েছে। আমরা প্রতিটি ধাপে উন্নতি লাভ করেছি। ১৯৯৬ সালে শতকরা ২১ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করতো, তা কমে বর্তমানে ৮ শতাংশে নেমেছে। গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে অধ্যাপক নাসিমা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মাঠ পর্যায়ের মানুষের সেবা দেয়া হচ্ছে। দেশের সব মানুষের সেবা নিশ্চিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ক্লিনিক তৈরি হয়েছে। সে সব ক্লিনিকে বর্হিবিভাগ ও অন্তবিভাগে সেবা দেয়া হচ্ছে। ছুটির দিনেও এসব সেবা দেয়া হয়। দেশে চিকিৎসার প্রসার বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আর দেশের মানুষের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় না। বাংলাদেশে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। দেশীয় চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। ভার্চুয়াল সভায় অন্যান্যের মাঝে অংশ নেন স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম।