মাগুরার ১০ গ্রামে শতাধিক লিচু চাষীদের স্বপ্ন ম্লান হতে শুরু করেছে । জ্যেষ্ঠ মাসের প্রথম দিকে লিচুর ভরা মৌসুম। এ সময় মাগুরা সদরের হাজীপুর, হাজরাপুর, মির্জাপুর, ইছাখাদা, সত্যপুর, শিবরামপুর , নড়িহাটি’র প্রতিটি লিচু বাগানে উৎসব শুরু হয়ে যায় । লিচু চাষীরা জানান, লিচু ভরা মৌসুমে ঢাকা, চট্রগ্রাম, নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানের লিচু ব্যাপারিরা মাগুরায় এসে লিচু সংগ্রহ করতো । আবার কোন কোন ব্যাপারিরা ১ মাস আগেই লিচু সংগ্রহের জন্য লিচু’র বাগান মালিকদের আগাম টাকা দিত । প্রতি বছর লিচু চাষীরা খরচ বাদে লাভ করতো লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতো কিন্তু এবার অতিরিক্ত খরা, প্রচন্ড তাপদাহ ও নির্ধারিত সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়াতে মাগুরায় লিচুর ফলন বিপর্যয়ের ফলে লিচু চাষে উৎপাদন খরচ না উঠার শঙ্কা করছেন অনেক চাষীরা । লিচু মৌসুমের ঠিক শেষের দিকে আবার অনেক বাগানে কিছুটা ভালো ফল দেখা গেছে । সব দিক মিলিয়ে এবার লিচু চাষীদের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার শঙ্কা ।
কৃষি বিভাগ বলছে , চলতি মৌসুমে এবার জেলায় মোট লিচুর আবাদ হয়েছে ৫৮৮ হেক্টর জমিতে । চাষীরা এবার স্থানীয় জাত হাজরাপুরী, মোজাফফরী, বোম্বায়, চায়না-৩ সহ বিভিন্ন জাতের লিচু আবাদ করেছে । জেলার চার উপজেলার মধ্যে সদরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়ে থাকে । প্রচন্ড খরা ও তীব্র তাপদাহে এবার সদরের বিভিন্ন লিচু বাগানের লিচগুলো ফেটে যাচ্ছে । এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষী নানা বিধ পরামর্শ দেয়া হয়েছে ।
মাগুরা সদরের শিবরামপুর গ্রামের লিচু চাষী আকামত জানান, আমার ৬ টি লিচু বাগানে মোট ৬শ’ লিচু গাছ রয়েছে । বাগানের প্রতিটি লিচু গাছে এবার মুকুল আসেনি । কিছু কিছু গাছে মুকুল এসেছে । এখন প্রতিটি গাছে ফল না থাকাতে আমার আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে । ৬ টি বাগানে আমার ৫ লক্ষ টাকা লিজ নিয়ে চাষ করি । লিচুর মুকুল আসার আগে নিয়মিত সেচ ও সার প্রদান করে আসছি । মুকুল শেষে লিচু ফল যখন একটু একটু বড় হতে কওে ঠিক তখনই বৈশাখের শুরুতে তাপদাহ বাড়তে থাকে । এ সময় আমি প্রতিটি গাছের গোড়ায় পানি দিতে শুরু করি । কিন্তু প্রচন্ড তাপে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে যায় । অনেক গাছের লিচু তাপে পুড়ে রং নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে এতে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে । বর্তমানে বাইরের ব্যাপারিরা এসে লিচু সংগ্রহ করছে । কিন্তু দাম আগের মতো পাচ্ছি না ফলে আমার উৎপাদন খরচ না উঠার শঙ্কা ।
মাগুরা সদরের ইছাখাদা গ্রামের লিচু চাষী জিয়ারুল জানান, আমার ২ শতাধিক লিচুর গাছ রয়েছে । বাগান রয়েছে ৩টি । এবার বাগানের প্রতিটি গাছে মুকুল আসেনি । নিদিষ্ট সময়ে হয়নি বৃষ্টি । লিচুর ফল একটু বড় হতে শুরু করলে দেখা দিয়েছে প্রচন্ড খরা ও তাপদাহ । প্রচন্ড তাপদাহে এবার প্রতিটি গাছের অধিকাংশ লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে যায় । গত বছর লিচু ভালো ফলনে আমাদের আর্থিক সংকট হয়নি কিন্তু এবার লিচু’র ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে । এই ইছাখাদা গ্রামকে বলে লিচুর গ্রাম কিন্তু এবার বাগানের প্রতিটি গাছে তুলনামুলক লিচু না থাকাতে চাষীরা হয়েছেন বিপাকে । বছর শেষে এই সময়ে চাষী লিচুর বাগানের দিকে চেয়ে খুশি হাসি হাসেন কিন্তু এবার ফলন বিপর্যয়ে চাসীর মাথায় হাত । এবার আমার ৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে । কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ লক্ষ টাকার । করোনার কারণে বাইরের লিচু ব্যাপারিরা আসছে না তাই আমাদেও বেচাবিক্রি কম ।
ঢাকা থেকে আসা লিচু ব্যাপারি মহসিন ও হিমেল জানান, এবার করোনার কারণে লিচু বাজার মন্দা । মাগুরা থেকে ঢাকা’য় নিতে লিচু যাতায়াত খরচ খুবই বেশি । পূর্বেও বছর গুরোতে আমরা লিচু যে দামে ক্রয় কওে ঢাকায় বিক্রি করতাম এখন লিচু বাগান থেকে কিনে আমাদের খরচ উঠছে না । পরিবহন কম ,ভাড়া বেশি তাই আমরা লিচু খুব কম সংগ্রহ করছি ।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক বলেন, জেলায় মোট ৫৮৮ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে । এবার নিদিষ্ট সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়া ও প্রচন্ড তাপদাহে অনেক লিচুর বাগানে লিচু নষ্ট হয়ে গেছে । আমরা লিচু চাষীদের নিয়মিত ফ্রেস পানি দিয়ে সেচ ও গাছের গোড়ায়, পাতায় এবং ফলে স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















