১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামানের জন্মদিন আজ

জন্মের ৮১ বছর পূর্ণ করলেন প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রবর্তী ও জাতির বিবেকসম বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান। বয়সের ৮২তম কোটায় পা দিলেন তিনি। দেশের মুক্তিসংগ্রাম ও নানা বিপর্যয়ে বরেণ্য এই শিক্ষাবিদের অগ্রণী ভূমিকা চিরস্মরণীয়।

১৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার তার জন্মদিনে সকালে বারডেম হাসপাতালে ইব্রাহিম স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন। এ ছাড়া বাকি দিনটি বাড়িতেই কাটাবেন বলে জানা গেছে।

১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রণ করেন আনিসুজ্জামান। তার বাবা এটিএম মোয়াজ্জেম ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। ১৯৫৬ ও ১৯৫৭ সালে স্নাতক সম্মান এবং এমএতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। অনার্সে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কৃতিত্বস্বরূপ ‘নীলকান্ত সরকার স্বর্ণপদক’ বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এ ছাড়া শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত গণআদালতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।

আনিসুজ্জামানের উল্লেখযোগ্য রচনাবলীর মধ্যে স্মৃতিপটে সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্মারকগ্রন্থ, নারীর কথা, মধুদা, ফতোয়া, ওগুস্তে ওসাঁর বাংলা-ফারসি শব্দসংগ্রহ ও আইন-শব্দকোষ অন্যতম। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন। সম্প্রতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।

জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামানের জন্মদিন আজ

প্রকাশিত : ১২:৪৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

জন্মের ৮১ বছর পূর্ণ করলেন প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রবর্তী ও জাতির বিবেকসম বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান। বয়সের ৮২তম কোটায় পা দিলেন তিনি। দেশের মুক্তিসংগ্রাম ও নানা বিপর্যয়ে বরেণ্য এই শিক্ষাবিদের অগ্রণী ভূমিকা চিরস্মরণীয়।

১৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার তার জন্মদিনে সকালে বারডেম হাসপাতালে ইব্রাহিম স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন। এ ছাড়া বাকি দিনটি বাড়িতেই কাটাবেন বলে জানা গেছে।

১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রণ করেন আনিসুজ্জামান। তার বাবা এটিএম মোয়াজ্জেম ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। ১৯৫৬ ও ১৯৫৭ সালে স্নাতক সম্মান এবং এমএতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। অনার্সে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কৃতিত্বস্বরূপ ‘নীলকান্ত সরকার স্বর্ণপদক’ বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এ ছাড়া শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত গণআদালতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।

আনিসুজ্জামানের উল্লেখযোগ্য রচনাবলীর মধ্যে স্মৃতিপটে সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্মারকগ্রন্থ, নারীর কথা, মধুদা, ফতোয়া, ওগুস্তে ওসাঁর বাংলা-ফারসি শব্দসংগ্রহ ও আইন-শব্দকোষ অন্যতম। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন। সম্প্রতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।