আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ১১ প্রশ্নের জবাব মিলছে না মোসারাত জাহান মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহানের কাছ থেকে। শুরু থেকে তার রহস্যময় ভূমিকা নানামুখি প্রশ্ন তৈরি করছে।
নুসরাতের অতিলোভ ও নষ্টামির কারণে মুনিয়ার খারাপ জগতে প্রবেশ বলে ভাই সবুজ অভিযোগ করছেন। চাচা থেকে শুরু করে পরিবারের সবার অসন্তোষ নুসরাতের প্রতি। এই পরিবারের এমন অবস্থার জন্য তারা নুসরাতকে দায়ী মনে করেন।
তদন্তে দেখা গেছে, প্রথম বিয়ের পর মুনিয়াকে ঢাকায় এনে ২০১৬ সালে কাকরাইল সিনেমা পাড়াতে নিয়ে যান নুসরাত। পরিচয় করিয়ে দেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে সঙ্গে। এই সময় অভিনেতা বাপ্পি রাজকে মুনিয়া বিয়ে করতে গেলে বাঁধা দেন নুসরাত। তিনি বোনকে নায়িকা বানাতে গিয়ে সর্বনাশ করেন। কেন এইভাবে নিজের আপন বোনকে কুমিল্লা থেকে ঢাকা এনে নষ্ট করতে গেলেন এই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন না নুসরাত।
এরপর কিভাবে একজন কলেজ পড়ুয়া তরুণীকে অভিজাত এলাকায় রাখার জন্য প্রথমে বনানী পরে গুলশানে বাড়ি ভাড়া করলেন, কিভাবে চাকচিক্যময় জীবন যাপন করেছেন দুই বোন, তার আয়ের উৎসই বা কি ছিল? কত মানুষের সাথে মুনিয়ার সখ্যতা ছিল? কোন কিছুর জবাব দিচ্ছে না নুসরাত।
তদন্তে দেখা গেছে , ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য নুসরাতের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়েছিলেন। বাড়ির মালিককে বলেছেন, তিনি ব্যবসা করেন। বাড়ির মালিক নুসরাতের সঙ্গে সকল লেনদেনের বিষয়টি পরিস্কার করেছেন পুলিশের কাছে।
জানা গেছে, নিজের লোভ থেকে বোনকে দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করাতে এত টাকায় বাড়ি ভাড়া করেছিলেন নুসরাত। এর আগে মুনিয়ার প্রথম বিয়ের পর মামলা করে নেওয়া টাকাও মেরে দিয়েছেন নুসরাত। নিজে ডাচ বাংলা ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার ম্যানেজারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করে টাকা আদায়ের পর ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের নেশা ধরে যায় তার। এই নেশাতে আপন চাচার বিরুদ্ধে জমি নিয়ে মামলা করেছেন।
নুসরাতের অবৈধ কাজ, ছোট বোনকে অভিজাত পাড়ার পতিতা বানানো মেনে নিতে পারেনি ভাই সবুজ। তাই দুই বোনের কাছ থেকে দুরে সরে পড়েন ভাই সবুজ। ভাইকে তোয়াক্কা না করে অবৈধ জগতে ব্যবসার প্রসার বাড়ান নুসরাত। বিভিন্ন সময় পুলিশের কোন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে একটি বিশেষ চক্র গড়ে এখনো বাণিজ্য করছেন নুসরাত। নুসরাত কান্ডে বিব্রত বোধ করছে পুলিশ ও তার পরিবারের অন্যরা। নুসরাতের স্ববিরোধী কথায় তদন্তও ব্যহত হচ্ছে।
তবে নুসরাত এখন পুলিশকে দোষারোপ করছে আর বোন সম্পর্কে বলছে, নোংরা কাজ করত তার বোন অবাধ্য হয়ে। মুনিয়ার এসব আচরণ মেনে নেয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। বোনকে তো আর ফেলে দিতে পারি না! নুসরাতের এই কথার সঙ্গে এক মত নন ভাই সবুজ । তিনি বলছেন, মুনিয়ার সকল উশৃঙ্খল কাজের দায় নুসরাতের। বেপরোয়া নুসরাত সব সময় নষ্টামি আর মামলাবাজ হিসাবে ছিল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক হুইপ পুত্র শারুনের সঙ্গে মুনিয়ার নানা চ্যটিং, টাকা লেনদেন এর বিষয়েও নীরব নুসরাত। সদুত্তর মেলেনি শারুনকে অভিযুক্ত করে তাদের একমাত্র সহোদর ভাইয়ের মামলার আবেদনের বিষয়েও। মুনিয়ার চলচ্চিত্র প্রযোজকদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও নুসরাত নীরব আছেন। এছাড়া থানায় যাওয়ার সময় নুসরাতের ব্যবহার করা তিনটি দামি গাড়ির মালিক কে, পুলিশকে ছাড়া মুনিয়ার বন্ধ ঘরের দরজা খোলা, অনেক ডকুমেন্ট লুকানো, নতুন করে গুছিয়ে মামলার নাটক সাজানো, পোস্টমরটেম রিপোর্ট ও কোন প্রমান ছাড়া বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে মামলা করা, সেই প্রশ্নের জবাবও তিনি দিচ্ছেন না।
তিনি কথা বলছেন না, পিয়াসা, পাপিয়ার সঙ্গে কেন বোনকে পরিচয় করে দিয়েছিলেন তা নিয়ে। কাকরাইলে প্রযোজকদের রুমে বোনকে রেখে নিজে কেন বাইরে বসে থাকতেন সেই প্রশ্নও আসছে। নুসরাতের রহস্যময় কান্ড নিয়ে পুলিশের সাবেক একজন কর্মকর্তা বলেন, মুনিয়ার বিষয়ে সব জানা যাবে নুসরাতকে আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞেস করলে। সকল পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে সব কিছুতে তার লোভ লালসা। জরুরীভাবে তার ফোনের কল লিস্ট ও ব্যাংক লেনদেন পরীক্ষা করা দরকার। তাতে আরও অনেক কিছু আসবে।




















