রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে চলছে চা মেলা। তিন দিনব্যাপী এই মেলা আজ মঙ্গলবার শেষ হবে। বাংলাদেশে চা শিল্পের অবস্থান, বিভিন্ন ধরনের চা, এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্য উৎপাদকদের নিয়ে এ মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। ইস্পাহানী, ডানকান, সিলোন, ম্যাগনোলিয়া, ফিনলে’র মতো বড় বড় চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এই মেলায়।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকও চা নিয়ে এসেছে মেলায়। চায়ের পাশাপাশি মেলায় পাওয়া যাচ্ছে ফাস্ট ফুড। বাংলাদেশ চা বোর্ড, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, চা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের স্টলও রয়েছে মেলায়। মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্বাদ ও গন্ধের চা কেনার সুযোগ। পাশাপাশি জানা যাবে চা পানের উপকারিতা, চা কীভাবে তৈরি হয়, চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায় সে সবের পাশাপাশি চা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য। সোমবার সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে দর্শনার্থীদের তেমন চাপ নেই। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের মেলার ভিতরে প্রবেশ করতে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। মেলায় প্রবেশে আগ্রহীদের আগেই অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। তাদের কনভেনশন সিটিতে ঢুকতেই নিবন্ধনের প্রমাণপত্র দেখাতে হচ্ছে। এরপর সেই গেট পার হয়ে মেলাস্থলের গেটে আবারও প্রমাণপত্র দেখাতে হয়। এদিকে ক্রেতা-দর্শনার্থী না থাকায় মেলায় অংশ নেয়া স্টলগুলোর কর্মীদের অনেকটাই অলস সময় পার করতে হচ্ছে।

মেলায় অংশ নেয়া সিলোটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. কাওসর বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ১৯৯০ সালে নিবন্ধিত। তার পর থেকে আমরা অকশনে পণ্য বিক্রি করতাম। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে নিজেরাই সরাসরি বাজারে চা বিক্রি করছি। আমাদের তিন ধরনের প্যাকেট করা চা আছে। এগুলো হলো- স্পেশাল ব্লে- টি, স্পেশাল বোল্ড টি এবং প্রিমিয়াম ক্লোন টি। আমাদের চা স্বাদে-ঘ্রাণে অতুলনীয়। তিনি বলেন, আমরা মেলায় এসেছি মূলত প্রচারণা চালানোর জন্য। পাশাপাশি ক্রেতারা চাইলে এখানে আমাদের স্টল থেকে খুচরা ও পাইকারি চা কিনতে পারবেন। আর যারা ডিস্টিবিউটর হতে আগ্রহী, আমরা তাদের কার্ড নিয়ে রেখে দিচ্ছি। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কারণ এখানে কমিশনের একটি বিষয় আছে। মেলায় ফাস্টফুডের স্টল দিয়ে বসেছে ক্যাপটেন্সি ওয়ার্ল্ড।
স্টলটির সুপারভাইজার বলেন, দর্শনার্থীরা আমাদের স্টল থেকে বিভিন্ন ধরণের ফাস্টফুড ও পিঠা কিনতে পারবেন। আমাদের খাবার স্বাস্থ্যসম্মত এবং দামও তুলনামূলক কম। মেলায় এসে দর্শনার্থীরা চা এর পাশাপাশি ফাস্টফুড খেতে পছন্দ করেন, তাই আমরা এই স্টল দিয়েছি। শুধু মেলা উপলক্ষেই চায়ের স্টল দিয়ে বসেছে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক। স্টলটিতে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ রাশেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা শুধু মেলাতেই চা বিক্রি করছি। মেলার বাহিরে আমরা কোনো চা বিক্রি করি না এবং মেলার পরেও করবো না। তিনি আরও বলেন, খোলা বাজারে চা বিক্রি না করলেও ব্র্যাকের তিনটি চা বাগান আছে। সেখান থেকে চা অকশনে বিক্রি করা হয়। মেলায় আমাদের চা নিয়ে আসার উদ্দেশ্য হলো দর্শনার্থীরা যাতে ভালো চা পেতে পারেন। বাংলাদেশ চা সংসদের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান বলেন, চা কাপে আসার আগে অনেক ধাপ অতিক্রম করে। মেলায় এসে দর্শনার্থীরা এ বিষয়ে জানতে পারবেন।
পাশাপাশি জানতে পারবেন চা শ্রমিকদের কী ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। তিনি বলেন, আমরা প্রতি সপ্তাহে শ্রমিকদের ২ টাকা কেজি রেশন দেই। এর আওতায় শ্রমিকরা চাল ও আটা পান। একজন শ্রমিক নিজের এবং পরিবারের আরও তিন সদস্যের জন্য এই রেশন নিতে পারেন। দর্শনার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, মেলায় লোকজন মোটামুটি আসছে। সকালের দিকে দর্শনার্থী খুব একটা থাকে না, বিকেলে আসে।






















