করোনা মহামারির মধ্যেও দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চলতি অর্থবছরেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর মধ্যেই সুখবর এসেছে বিদেশি বিনিয়োগে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে, করোনা মহামারির মধ্যেও দেশে নিট ও গ্রস বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে বড় আকারে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) নিট বিদেশি বিনিয়োগর পরিমাণ বেড়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ। মুদ্রার হিসাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিমাণ ১৪৬ কোটি ডলার। এদিকে শুধু বিদেশি বিনিয়োগই নয়, এই সময়ে দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বিদেশি ঋণ ও অনুদান সহায়তার অর্থছাড়ও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় হয়েছে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ, বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে যে পরিমাণ ঋণ ও অনুদান পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল বাংলাদেশ তার মধ্যে ৬৫ ভাগ বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট (গ্রস) বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৯৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। আর এই সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৩২ দশমিক ১২ শতাংশ। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো লভ্যাংশ বাবদ যে অর্থ নিয়ে যায় মোট বিদেশি বিনিয়োগ থেকে তা বাদ দিলে নিট বিনিয়োগ পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই-এপ্রিল সময়ে গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ শতাংশ বেড়ে ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার হয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়েনি। উল্টো শেয়ার বিক্রি করে ২২ কোটি ডলার উঠিয়ে নিয়ে গেছেন বিদেশিরা। এদিকে জুলাই-এপ্রিল সময়ে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এর প্রভাবে বাণিজ্যি ঘাটতির পরিমাণ গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩শ কোটি ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২২ কোটি ডলারে। যার প্রভাবে জুলাই-মার্চ সময়ে উদ্বৃত্ত থাকা কারেন্ট একাউন্ট ব্যালেন্স জুলাই-এপ্রিলে এসে ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও গেল অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে কারেন্ট একাউন্ট ব্যালেন্সের এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি ডলার। জুলাই-এপ্রিল সময়ের আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চাল আমদানিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বেড়েছে। এরপরই আছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, মরিচ, সয়াবিন, ডাল, ওষুধ তৈরি উপকরণ, রাসায়নিক ক্লিংকার ইত্যাদি আমদানির ব্যয়। তবে বিনিয়োগের অন্যতম বড় অনুষঙ্গ মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ব্যয় জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাড়েনি। উল্টো গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই ব্যয় ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। এদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বৈদেশিক খাত থেকে ৭৪১ কোটি ডলার বা ৬৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট ৪৮১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬৭ কোটি ৭১ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে; বাকি ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার অনুদান হিসেবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে এককভাবে সবচেয়ে বেশি ১২৯ কোটি ডলারের বেশি ছাড় করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা)। বিশ্বব্যাংক করেছে ৯৪ কোটি ১৮ লাখ ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ছাড় করেছে ৭৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। রাশিয়া ছাড় করেছে ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। চীন ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং প্রতিবেশী ভারত ছাড় করেছে ৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশ মাসে দাতাসংস্থা ও দেশ মিলে নতুন করে আরও ৫২৭ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ৪৬৮ কোটি ২৩ রাখ ডলার ঋণ হিসেবে এবং ৫৯ কোটি ৩১ লাখ ডলার অনুদান হিসেবে। গত অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত দশ মাসের প্রতিশ্রুতি ছিল ৩৭৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এদিকে এই দশ মাসে দাতাদের পুঞ্জীভূত পাওনা থেকে বাংলাদেশ ঋণ ও আসল হিসেবে পরিশোধ করেছে ১৬০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে সুদ হিসেবে ৪২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং আসল হিসেবে ১১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে দাতাদের কাছে পরিশোধ করেছিল ১০৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।
১২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশি বিনিয়োগ ও সহায়তায় গতি
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - প্রকাশিত : ১২:০০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১
- 53
ট্যাগ :
জনপ্রিয়




















