২০২১-২২ অর্থ বছরে চাল, ডাল, তেল চিনিসহ বেশ কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে কোনো ধরনের করারোপ করা না হলেও ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। যে কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।
এদিকে, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে মানুষের উপার্জন কমতে থাকলেও বাজারে নতুন করে মাথাচাড়া নিয়ে উঠছে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম। বছরখানেক ধরে চালের দাম নিম্ন আয়ের মানুষদের ভুগিয়ে ঈদের আগেও কিছুটা সহনীয় দামে পৌঁছেছিল। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে আবারও বাড়তে শুরু করেছে দেশের মানুষের এই প্রধান খাদ্যের দাম। বিভিন্ন ধরনের মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি তিন থেকে চার টাকা। নিম্ন আয়ের মানুষের হতাশ মোটা চালের দাম বেড়ে যাওয়ায়।
রাজধানী কারওয়ান বাজারের একজন চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘মিনিকেট চাল যেটা বেচতাম ৫৪ থেকে ৫৫ টাকায়, সেটা এখন ৫৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। স্বর্ণা চাল এখন ৩৬ বা ৩৭ টাকা থাকার কথা সেটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।
এভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় হতাশা ঝরে পড়ে একজন ক্রেতার মুখ থেকে। তিনি বলেন, ‘অসুবিধা হচ্ছে। খুবই অসুবিধা হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। বিষেশ করে আমাদের।’
দোকানীরা জানিয়েছে, বাজারে পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা। কিছুটা বেড়েছে আমদানি করা রসুন ও আদার দাম। এদিকে, তেলের দামে আবারও শুরু হয়েছে অস্থিরতা। বিভিন্ন ধরনের ব্রান্ডের পাশাপাশি বেড়েছে খোলা তেলের দামও।
একজন মুদি ব্যবসায়ী বলেন, ‘সোয়াবিন তেল ৬৪০ টাকা ছিল পাঁচ লিটার আর এখন ৬৯০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা হয়ে গেছে। গত ঈদের পর থেকে তেলে দাম বাড়ছে দুই তিন ধাপে।’
তেল কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, ‘আগে তেলের দাম কত ছিল? আর এখন কত হইছে? আমরা যারা প্রাইভেট চাকরি করি আমাদের তো বেতন বাড়েনি?’
আমদানি করা ভারতীয় মসুরের ডালের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। বেড়েছে দারুচিনি, লবঙ্গ, চিনি ও আটা-ময়দার দাম।
রাজধানীর বৃহৎ এ বাজারের একজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভারতীয় মসুরের ডালের দাম বাড়ছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। মসলার ভেতর লবঙ্গের দামটা বেশি। লবঙ্গ এক মাসের মধ্যে কেজিতে বাড়ছে দেড়শ থেকে ২০০ টাকার মতো। দারুচিনি কেজিতে বাড়ছে ৫০ টাকা।’
মুরগির দাম কিছু স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম। গত ১০ দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ডজন প্রতি আট থেকে ১০ টাকা।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

























