০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

তিন হাজার কোটি টাকা তুলতে বেঙ্মিকোকে অনুমতি

সুদবিহীন সুকুক বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা তোলার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেঙ্মিকো লিমিটেড। এই টাকা তুলে বেশির ভাগ অংশই দুটি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি হলো তিস্তা সোলার লিমিটেড ও করতোয়া সোলার লিমিটেড। এই দুটি কেন্দ্র বেঙ্মিকো পাওয়ার লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। তবে সব অর্থই এই দুই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ হবে না। বেঙ্মিকোর টেক্সটাইলের ব্যবসা সম্প্রসারণেও ব্যয় হবে একটি অংশ। বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুমোদন দিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, সুকুকের অভিহিত মূল্য হবে ১০০ টাকা, বিনিয়োগকারীরা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর জন্য ৫০টি সুকুক পাবেন তারা। এর মেয়াদ পাঁচ বছর, যা থেকে বিনিয়োগকারীরা কমপক্ষে ৯ শতাংশ মুনাফা পাবেন। সুকুক বন্ডের মাধ্যমে টাকা তুলতে বেঙ্মিকোকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মঙ্গলবার বেঙ্মিকোর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সুকুকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার তা ডিএসই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সুকুকটির ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৭৫০ কোটি টাকা বিদ্যমান শেয়াধারীদের কাছ থেকে এবং ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শেয়ারহোল্ডার বাদে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেয়া হবে। বাকি ৭৫০ কোটি টাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ইস্যুর মাধ্যমে নেয়া হবে। সুকুকটির ট্রাস্ট্রি হিসাবে থাকবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদশে এবং ইস্যু ম্যানেজার থাকবে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্স ও অগ্রণী ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম স্বাক্ষারিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বেঙ্মিকোর পক্ষ থেকে অভিপ্রায় পত্র পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সুকুকের প্রস্তাবিত ট্রাস্ট্রির নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে। সুকুকের টাকায় কী হবে: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা ও লাঠশালার চরে ১ হাজার একর জমির উপর নির্মাণ হচ্ছে ২০০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এটিই দেশে এ ধরনের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর তিস্তা সোলারের সঙ্গে সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় ও বাস্তবায়ন চুক্তি হয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ৩০ মেগাওয়াটের করতোয়া সোলার লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। বেঙ্মিকো পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮০ শতাংশের মালিক। বাকি ২০ শতাংশ চীনের জিয়াংসু ঝংটিয়ান টেকনোলজি। এই কেন্দ্র থেকে আগামী ২০ বছর ১৩.৯ টাকা করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। এই দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭৫ শতাংশের মালিক বেঙ্মিকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। আর এই প্রতিষ্ঠানের ৭৫ শতাংশের মালিক বেঙ্মিকো লিমিটেড। সম্প্রতি পিপিই শিল্প পার্ক স্থাপনে ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বেঙ্মিকো। এখান থেকে বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখান থেকে পণ্য কেনার চুক্তি করেছে। সুকুক বন্ড কী: সুকুক বন্ডে কোনো সুদ নেই। এটি ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মূলত বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। আর ওই প্রকল্পের মালিকানার অংশীদার হন সুকুক বন্ডের বিনিয়োগকারীরা, অন্য বন্ডে এই সুযোগ নেই। সুকুক বন্ডের বিনিয়োগ ব্যর্থ হলে ওই প্রকল্পের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ থাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলেছে সরকার। এ অর্থ সারা দেশে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র ১০০০তম বোর্ড সভা

তিন হাজার কোটি টাকা তুলতে বেঙ্মিকোকে অনুমতি

প্রকাশিত : ১২:০০:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১

সুদবিহীন সুকুক বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা তোলার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেঙ্মিকো লিমিটেড। এই টাকা তুলে বেশির ভাগ অংশই দুটি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি হলো তিস্তা সোলার লিমিটেড ও করতোয়া সোলার লিমিটেড। এই দুটি কেন্দ্র বেঙ্মিকো পাওয়ার লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। তবে সব অর্থই এই দুই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ হবে না। বেঙ্মিকোর টেক্সটাইলের ব্যবসা সম্প্রসারণেও ব্যয় হবে একটি অংশ। বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুমোদন দিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, সুকুকের অভিহিত মূল্য হবে ১০০ টাকা, বিনিয়োগকারীরা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর জন্য ৫০টি সুকুক পাবেন তারা। এর মেয়াদ পাঁচ বছর, যা থেকে বিনিয়োগকারীরা কমপক্ষে ৯ শতাংশ মুনাফা পাবেন। সুকুক বন্ডের মাধ্যমে টাকা তুলতে বেঙ্মিকোকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মঙ্গলবার বেঙ্মিকোর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সুকুকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার তা ডিএসই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সুকুকটির ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৭৫০ কোটি টাকা বিদ্যমান শেয়াধারীদের কাছ থেকে এবং ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শেয়ারহোল্ডার বাদে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেয়া হবে। বাকি ৭৫০ কোটি টাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ইস্যুর মাধ্যমে নেয়া হবে। সুকুকটির ট্রাস্ট্রি হিসাবে থাকবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদশে এবং ইস্যু ম্যানেজার থাকবে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্স ও অগ্রণী ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম স্বাক্ষারিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বেঙ্মিকোর পক্ষ থেকে অভিপ্রায় পত্র পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সুকুকের প্রস্তাবিত ট্রাস্ট্রির নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে। সুকুকের টাকায় কী হবে: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা ও লাঠশালার চরে ১ হাজার একর জমির উপর নির্মাণ হচ্ছে ২০০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এটিই দেশে এ ধরনের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর তিস্তা সোলারের সঙ্গে সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় ও বাস্তবায়ন চুক্তি হয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ৩০ মেগাওয়াটের করতোয়া সোলার লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। বেঙ্মিকো পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮০ শতাংশের মালিক। বাকি ২০ শতাংশ চীনের জিয়াংসু ঝংটিয়ান টেকনোলজি। এই কেন্দ্র থেকে আগামী ২০ বছর ১৩.৯ টাকা করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। এই দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭৫ শতাংশের মালিক বেঙ্মিকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। আর এই প্রতিষ্ঠানের ৭৫ শতাংশের মালিক বেঙ্মিকো লিমিটেড। সম্প্রতি পিপিই শিল্প পার্ক স্থাপনে ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বেঙ্মিকো। এখান থেকে বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখান থেকে পণ্য কেনার চুক্তি করেছে। সুকুক বন্ড কী: সুকুক বন্ডে কোনো সুদ নেই। এটি ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মূলত বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। আর ওই প্রকল্পের মালিকানার অংশীদার হন সুকুক বন্ডের বিনিয়োগকারীরা, অন্য বন্ডে এই সুযোগ নেই। সুকুক বন্ডের বিনিয়োগ ব্যর্থ হলে ওই প্রকল্পের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ থাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলেছে সরকার। এ অর্থ সারা দেশে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।