০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজৈরে রাজনৈতিক সহিংসতা চরমে

মাদারীপুরের রাজৈরে আওয়ামীলীগের ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজৈর থানার ওসিসহ ৭ পুলিশ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপু এবং সাবেক চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন খানের সমর্থকদের মধ্যে। এ ঘটনায় টিপু চেয়ারম্যান ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলা আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন ধরেই ২ টি ধারায় বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান এবং অপর অংশের নেতৃত্ব দেন কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম অনুসারী জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা । গত ঈদুল ফিতরের পরবর্তী এক মত বিনিময় সভায় সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা শাজাহান খান এমপির পিতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আছমত আলী খানের মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া এবং স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তি নিয়ে বক্তব্য দেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে চলে সভা-প্রতিবাদ সভা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা আমগ্রাম চাতালে এক প্রতিবাদ সভা করেন। সে সভায় আমগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন খানের সমর্থক বিচরন বাড়ৈ (৪০) বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপুকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়। বিচরন বাড়ৈ আমগ্রাম পূর্বপাড়ার বিরেন বাড়ৈর ছেলে। বিচরনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ২ গ্রুপের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তপ্ত কথা বিনিময় হতে থাকে। শুক্রবার বিকালে বিচরন বাড়ৈ আমগ্রাম বাজারে আসলে টিপু চেয়ারম্যানের ভাই রনি লোকজন নিয়ে তাকে হকিষ্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে বিচরনের পায়ের হাড় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী বিচরনকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জমিরউদ্দিন খানের সমর্থকরা একত্রিত হয়ে আমগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালায়। এ সময় চেয়ারম্যান পরিষদে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি পরিষদের ৩ তলায় অবস্থান নেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ আসতেই সহ¯্রাধিক জনতা একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিষদে হামলা চালায় এবং মুহুর্মুহ ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মাদারীপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ২ ঘন্টার চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় তারা ৬৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক, তদন্ত ওসি আনোয়ার হোসেন , সেকেন্ড অফিসার এস আই শরীফ আশিকুর রহমান, এসআই মীর নাজমুল হাসান, এস আই সোহাগ হোসেন, কনস্টেবল ওসমান লস্কর ও সাইফুল ইসলাম আহত হয়। পুলিশের রাবার বুলেট এবং ইট পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ আহত হয়েছে।  বিচরন বাড়ৈ, নরোত্তম রায়, দিলীপ রায়, নজরুল, হায়দার বেপারী, রাজা খানসহ আহতরা ফরিদপুর, রাজৈর ও টেকেরহাটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপু জানান, বাজারে গন্ডগোলের কথা শুনেছি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শত শত লোক এসে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হামলা চালায়। এসময় আমি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ি। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।

সাবেক চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন খান জানান, আমি অসুস্থ। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। বর্তমান চেয়ারম্যান অনর্থক আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে।

রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক জানান, শুক্রবার সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে আমগ্রামে যায়। সেখানে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাদারীপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পরিসিথতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের ৬৬ রাউন্ড রাবার বুলেপ নিক্ষেপ করতে হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

রাজৈরে রাজনৈতিক সহিংসতা চরমে

প্রকাশিত : ০৮:৫৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুন ২০২১

মাদারীপুরের রাজৈরে আওয়ামীলীগের ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজৈর থানার ওসিসহ ৭ পুলিশ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপু এবং সাবেক চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন খানের সমর্থকদের মধ্যে। এ ঘটনায় টিপু চেয়ারম্যান ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলা আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন ধরেই ২ টি ধারায় বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান এবং অপর অংশের নেতৃত্ব দেন কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম অনুসারী জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা । গত ঈদুল ফিতরের পরবর্তী এক মত বিনিময় সভায় সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা শাজাহান খান এমপির পিতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আছমত আলী খানের মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া এবং স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তি নিয়ে বক্তব্য দেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে চলে সভা-প্রতিবাদ সভা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা আমগ্রাম চাতালে এক প্রতিবাদ সভা করেন। সে সভায় আমগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন খানের সমর্থক বিচরন বাড়ৈ (৪০) বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপুকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়। বিচরন বাড়ৈ আমগ্রাম পূর্বপাড়ার বিরেন বাড়ৈর ছেলে। বিচরনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ২ গ্রুপের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তপ্ত কথা বিনিময় হতে থাকে। শুক্রবার বিকালে বিচরন বাড়ৈ আমগ্রাম বাজারে আসলে টিপু চেয়ারম্যানের ভাই রনি লোকজন নিয়ে তাকে হকিষ্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে বিচরনের পায়ের হাড় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী বিচরনকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জমিরউদ্দিন খানের সমর্থকরা একত্রিত হয়ে আমগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালায়। এ সময় চেয়ারম্যান পরিষদে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি পরিষদের ৩ তলায় অবস্থান নেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ আসতেই সহ¯্রাধিক জনতা একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিষদে হামলা চালায় এবং মুহুর্মুহ ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মাদারীপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ২ ঘন্টার চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় তারা ৬৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক, তদন্ত ওসি আনোয়ার হোসেন , সেকেন্ড অফিসার এস আই শরীফ আশিকুর রহমান, এসআই মীর নাজমুল হাসান, এস আই সোহাগ হোসেন, কনস্টেবল ওসমান লস্কর ও সাইফুল ইসলাম আহত হয়। পুলিশের রাবার বুলেট এবং ইট পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ আহত হয়েছে।  বিচরন বাড়ৈ, নরোত্তম রায়, দিলীপ রায়, নজরুল, হায়দার বেপারী, রাজা খানসহ আহতরা ফরিদপুর, রাজৈর ও টেকেরহাটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপু জানান, বাজারে গন্ডগোলের কথা শুনেছি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শত শত লোক এসে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হামলা চালায়। এসময় আমি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ি। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।

সাবেক চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন খান জানান, আমি অসুস্থ। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। বর্তমান চেয়ারম্যান অনর্থক আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে।

রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক জানান, শুক্রবার সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে আমগ্রামে যায়। সেখানে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাদারীপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পরিসিথতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের ৬৬ রাউন্ড রাবার বুলেপ নিক্ষেপ করতে হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ