নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ স্বামীকে নির্যাতন, হয়রানী, হুমকি প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রী রাবিয়া খাতুন (৫২)’র বিরুদ্ধে রুপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বামী মো: রফিকুল ইসলাম (৬৫)।
অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, আমার প্রথম স্ত্রী সামসুন্নাহার জীবিত থাকাবস্থায় দুই ছেলে আমির হোসেন ও জামির হোসেন এবং এক মেয়ে নার্গিস সুলতানাকে বৈধ ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
পরবর্তীতে আমার সন্তানদের অনুমতি নিয়ে বিগত ১৯৮৭ সালে জনৈকা রাহিমা বেগম (৫০)’কে বিবাহ করি। উক্ত সংসারে এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। যার নাম কবির হোসেন। অতঃপর আমার ২য় স্ত্রী ও তার সন্তান এবং আমার ১ম স্ত্রীর সন্তানদের যার যার মতো পৃথকভাবে ঘর-বাড়ী করে দেই। অতঃপর বিগত ১৯৯২ সালে জনৈক রাবিয়া খাতুন (পিতা-শ্রীবাস চন্দ্র দেবনাথ, সাং-সুদল বাগপাড়া, থানা ও জেলা-কিশােরগঞ্জ, বর্তমান সাং-হাউলীপাড়া, থানা-রূপগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ) ভাড়া থেকে মুড়াপাড়াস্থ কলোনীতে কাজ করতো এবং আমি মুড়াপাড়াস্থ গাউছিয়া জুট মিলে চাকুরি করতাম।
সেই সময় রাবিয়া খাতুন আমাকে বিভিন্ন প্রবঞ্চনায় ফুসলিয়ে বিবাহ করে। তারপর আমি উক্ত রাবিয়া খাতুনকে সাথে নিয়ে আমার ব্রাহ্মনগাঁও সাকিনে বসবাস করা অবস্থায় জানতে পারি যে, রাবিয়া খাতুন পূর্বে হিন্দু সম্প্রদায় ছিল। উক্ত বিবাদী হিন্দু ধর্মালম্বী থাকাবস্থায় তাদের ধর্মালম্বী তপন দাসকে বিবাহ করে। পরবর্তীতে উক্ত বিবাদী অত্যন্ত কৌশলে তার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করে তার এলাকার মুসলিম পরিবারের সন্তান জনৈক মো: আব্দুল রাশেদ বিবাহ করে। ঐ ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। যার নাম সুর্বনা আক্তার।
অতঃপর আব্দুল রাশেদের ছোট ভাই বিভিন্ন সময়ে আমাকে উক্ত বিবাদীর পূর্বের কুকর্মের ঘটনা জানায়। পরবর্তীতে আমি বিবাদী রাবিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে সে কোন সদোত্তর দেয় না। তারপরও আমি বিবাদীকে নিয়ে ঘর সংসার করে আসছি। আমাদের দাম্পত্য সংসার জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। যথাক্রমে মেয়ে সোনিয়া আক্তার, লিজা আক্তার ও ছেলে মনির হোসেন।
পরবর্তীতে আমি আমার মেয়ে সন্তানদের অন্যত্র বিবাহ দেই। বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদী সোনিয়া আক্তার, ইয়াছিন, লিজা আক্তার ১নং বিবাদী প্রায় সময়ই আমার ঘর-বাড়ী ও জায়গা জমি রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং আমার অবাধ্যমতে চলাফেরা করে ১নং বিবাদী রাতের বেলায় যেকোন স্থানে চলে গিয়ে কিছুৃক্ষন পর বাড়ীতে আসলে আমি জিজ্ঞাসা করলে আমাকে মারধর করে নানাভাবে অত্যাচার করতে থাকে। আমি ঘটনার বিষয়টি ২, ৩ ও ৪ নং বিবাদীদেরকে জানালে তারা কোন সদোত্তর না দিয়ে আমাকেই জ্বালা যন্ত্রনা করে আসছে এবং ১নং বিবাদী বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেয় যে, আমাকে সহ আমার পূর্বের স্ত্রীর সন্তানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিবে এবং বিভিন্ন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আমার মান-সম্মান ক্ষুন্ন করবে বলে হুমকি দেয়। এরই মধ্যে গত ৭ জুন ২, ৩ ও ৪নং বিবাদীদের প্ররোচনায়। ১নং বিবাদী রাবিয়া কৌশলে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য উপলব্ধি করে জাতীয় জরুরী সেবায় ফোন করে আমার বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন,অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















