ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মাহবুবুল আলম মনিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবলীগ।
বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) দুপুরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এডভোকেট আজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৬ জুলাই) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এ এইচ এম সালেহীন মামুনকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত ও
মারধরের ঘটনায় মনির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন ওই চিকিৎসক। ফলে জরুরি ভিত্তিতে জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে। দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশে মনিকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মনি বেলা ১টার দিকে হাসপাতালের নম্বরে ফোন করে বলেন, তার মায়ের করোনার উপসর্গ আছে। বাসায় গিয়ে তার নমুনা নিতে হবে।
ডা. মামুন তাকে জানান, বাসায় গিয়ে নমুনা নেয়ার নিয়ম নেই, রোগীকে হাসপাতালে আনতে হবে। এর কিছুক্ষণ পর যুবলীগ নেতা মনি ও তার সহযোগীরা হাসপাতালে গিয়ে ওই দরজা আটকে গালিগালাজ করে চিকিৎসককে মারধর করে।
মঙ্গলবার রাতেই ডাক্তার সালেহীন বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেয়া তথ্যে বুধবার বেলা ১১টার দিকে কামরুজ্জামান, জুয়েল, রানা দে ও শরীফ নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি পালন করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ওইদিন বিকেলে মনিসহ ওই চারজনকে ময়মনসিংহের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে তোলা হলে বিচারক ইমাম হাসান বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান বলেন, চিকিৎসক, পুলিশ এবং সাংবাদিকরা হচ্ছে করোনার সম্মুখ সারির যোদ্ধা। তাদের উপর আঘাত কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। সে যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















