জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ছোট ছেলে শাহাতা জারাব এরিক এরশাদ বলেছেন, তার ও তার মা বিদিশার কিছু হলে সে¶েত্রে তার চাচা জিএম কাদের দায়ী থাকবেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদপুত্র এরিক এরশাদ সম্পর্কে মিথ্যা সংবাদ ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট। এরিক তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান এবং চাচা জিএম কাদেরের শাস্তিও দাবি করেন। এরিক বলেন, আমি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সন্তান। আজ আমার বাবা নেই। এই সুযোগে আমার চাচা জিএম কাদের জন্ম পরিচয় তুলে আমার ও আমার মা বিদিশা এরশাদের বিরুদ্ধে গত দুদিন ধরে নিউজ করাচ্ছেন। এরিক এরশাদ বলেন, ‘আমার মায়ের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তা আমার চাচা জিএম কাদেরের ষড়যন্ত্র। আমার ও আমার মায়ের কিছু হলে আমার চাচা জিএম কাদের দায়ী থাকবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে এরিক এরশাদ ও এরশাদ পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, বাবার অধিকার ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে এরিক এরশাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সম্প্রতি দু’একটি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এরশাদপুত্র এরিক এরশাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এরশাদের উত্তরসূরি হিসেবে এরিককে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জাতীয় পার্টির অফিসিয়াল পেজে এরিক ও বিদিশার বিরুদ্ধে প্রকাশিত নিউজ শেয়ার করা হচ্ছে। সব ষড়যন্ত্রে জিএম কাদের দায়ী। এরিককে সরাতে পারলে তিনি ট্রাস্টের সম্পদ দখল করতে পারবেন। জিএম কাদের এরশাদ পরিবারকে ধ্বংস করার যড়যন্ত্রে লিপ্ত। কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রয়াত এরশাদের জীবদ্দশায় এরিকের জন্ম নিয়ে কোনো প্রশ্ন না করলেও এখন অসৎ উদ্দেশ্যে এগুলো করা হচ্ছে। এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে যত মামলা হয়েছিল প্রত্যেকটিতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন। আজ তাকে নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ বিদিশার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কোন আইনি পদক্ষেপ নিবেন কি না – এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাস্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশে এখন দেশে সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। সাধারণ ভার্চুয়াল আদালতে মামলা করা যায় না। ফলে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা এই গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে কাজী মামুনুর রশীদ জোর দিয়ে বলেন, এরিক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সন্তান এটা সূর্যের মত সত্য ও পরিস্কার। নিজ সন্তান বলেই জীবত থাকতেই এরশাদ নিজের সকল সম্পদের জন্য ট্রস্টি বোর্ড গঠন করে এরিকের নামে দিয়ে যান। চলমান সংকটে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলনে এরিক এরশাদ বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর থেকে সহায় সম্পত্তির লোভে চাচা জিএম কাদের ষড়যন্ত্র করে আসছেন। এখনও তিনি ষড়যন্ত্র করছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ট্রাস্ট এবং এরিক একই সূত্রে গাঁথা। স্যারের জীবদ্দশায় তার প্রিয় পুত্র এরিক স্যারের কাছেই পরম আদরে ছিলেন। স্যার চলে যাওয়ার পর ট্রাস্টসহ আমাদের উপর এরিকের দায়ভারও বর্তায়। পিতৃহীন এরিককে তার প্রাপ্য অধিকার পাইয়ে দিতে ট্রাস্ট এবং আমরা বদ্ধ পরিকর। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পুত্র এরিক একজন স্পেশাল চাইল্ড। পুত্রকে মাননীয় প্রেসিডেন্ট খুব বেশি পছন্দ করতেন। এ কারনেই তিনি নিজে ট্রাস্ট গঠন করে ট্রাস্টের সম্পত্তি ভোগ দখলের অধিকার দিয়ে যান এরিককে। আর এখানেই স্বার্থান্বেষী মহলের যত আপত্তি। এখন তারা এরিকের মতো একজন স্পেশাল চাইল্ড এর পিতৃপরিচয় নিয়ে মিথ্যা সংবাদ ও কুৎসা রটনা করছেন। সম্মেলনে প্রশ্ন রাখা হয় মাননীয় প্রেসিডেন্ট এবং স্বয়ং এরিকের পিতা যেখানে তাকে সন্তানের মর্যাদা দিয়ে গেছেন, সেখানে অন্যদের এটা নিয়ে আপত্তি কেন থাকবে? তারা কী করে এ ধরনের একটি ঘৃণ্য প্রচারণা চালাচ্ছেন? প্রেসিডেন্টের জীবদ্দশায় তিনি এরিককে পরম আদরে নিজের কাছে রেখেছেন। নিজের পুত্র না হলে প্রেসিডেন্ট কী এভাবে তাকে ট্রাস্টের সবকিছু ভোগ দখলের অধিকার দিয়ে যেতেনÑ বলেন কাজী মামুনূর রশিদ। পত্রিকায় প্রকাশিত নানা মিথ্যা তথ্য নিয়ে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করা জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও হুইপ গোলাম রেজা সম্পর্কে কাজী মামুনূর রশীদ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জীবিত থাকা অবস্থায়ই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে গেছেন। গোলাম রেজার শৃঙ্খলাভঙ্গ, বেঈমানী আর বিশ্বাসঘাতকতার ব্যাপারটি টের পেয়েই মাননীয় প্রেসিডেন্ট তাকে বহিষ্কৃত করেন। এখন প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে বিশ্বাসঘাতকরা আবার স্বরূপে আবির্ভুত হয়েছে। তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে বলে দিতে চাই এ ধরনের ষড়যন্ত্র কোনোমতেই বরদাশত করা হবে না।’ সংবাদ সম্মেলনে ওঠে এসেছে এরিকের মা বিদিশা প্রসঙ্গও। এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘মূলত এরিককে সম্পদ বঞ্চিত করতেই বারবার এরিক ও তার মাকে টার্গেট করা হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বিদিশার বিদেশি একাউন্টে বিপুল টাকার পাহাড় রয়েছে বলে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে ২০০১-২০০২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের একাউন্ট থেকে টাকা সরিয়েছেন বিদিশা। ২০ বছর আগের এমন মিথ্যা অভিযোগ বিদিশার বিরুদ্ধে আনা হলেও মূলত এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদকেই ছোটো করা হয়েছে। তাহলে কী স্বার্থান্বেষী মহল বলতে চাইছেন মরহুম প্রেসিডেন্ট কালো টাকার মালিক ছিলেন?’
অভিযোগের তীর জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদেররের দিকে তাক করে বলা হয়, এ ধরনের মনগড়া তথ্যগুলো যখন জাতীয় পার্টির অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ছড়ানো হয় তখন এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রেরই প্রমাণ মেলে। জ্যেষ্ঠতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দলের চেয়ারম্যানের পদ অবৈধভাবে আকড়ে থাকা জনাব জিএম কাদেরের কাছে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিজীবন এবং তার পুত্রকে নিয়ে এমন মিথ্যা মনগড়া সংবাদ ও তথ্য কী করে জাতীয় পার্টির অফিশিয়াল পেজে শেয়ার হচ্ছে সে প্রশ্ন রাখা হয়। এ ধরনের খবরে কেবল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সম্মাণহানি হচ্ছে এমন নয়, বরং পার্টির ইমেজও কী ক্ষুন্ন হচ্ছে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ আর ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডে দলীয় পদের এমন ন্যাক্কাজনক ব্যবহার সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা জাতীয় পার্টির লক্ষ কোটি সমর্থক কোনো মতেই মেনে নেবে না। এ ধরনের কর্মকান্ড পার্টি চেয়ারম্যান হিসেবে জনাব জিএম কাদেরের অযোগ্যতা, অদূরদর্শিতার বড় প্রমাণÑ বলেন কাজী মামুনূর রশিদ। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বলেন, জাতি জানে এরিককে তার বাবার অধিকার বঞ্চিত করতে পারলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা কার হবে। সবশেষে সবার কাছে এরিকের এর মতো একজন স্পেশাল চাইল্ডকে ঘৃণ্য রাজনীতির বলি না বানানোর আহ্বান জানানো হয়। ##




















