১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত দৌলতপুরের কামার শিল্পীরা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বেড়ে গেছে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা। কামার শিল্পীরা দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে ঈদুল আযহার কোরবানির পশুর মাংস কাটার বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরিতে। কোরবানির ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, ততই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন কামার ও ক্রেতারা।
উপজেলার কামার শিল্পীদের বেশির ভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। গ্রামগুলোতে গেলেই চোখে পড়ে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততম জীবন চিত্র। তবে করোনকালে সময়মত তৈরি করা সব সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারবে কিনা সেই হতাশায় রয়েছে দৌলতপুরের কামাররা। সারাবছর কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদের এ সময়টা বরাবরই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনতেও লোকজন ভিড় করছেন। কামারের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে পশু জবাইএর বিভিন্ন উপকরণে। লোহার গুণাগুণের ও পন্যের উপর ভিত্তি করে যন্ত্রপাতির দাম ধরা হয়েছে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত। দৈনন্দিন জীবন যাপনের কাজ সহ ঈদুল আযহার কুরবানীর পশুর মাংস কাটার যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরীতে কামারদের মধ্যে প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে।
তাদের অনেকেই পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এ পেশা। কামারদের তৈরী যন্ত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে দা, বটি, ছুঁড়ি, চাপাটি, কোদাল, কুড়াল, হাশুয়া এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, যা ঈদুল আযহার কোরবানির জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
লোহার দাম বৃদ্ধি, লাগাম হীন বাজার ব্যবস্থা ও স্টেইনলেসস্টিলের যন্ত্রপাতি থাকায় পরিশ্রমের তুলনায় কমমূল্য পাওয়া এসব সঙ্গত কারনেই বছরের বেশীর ভাগ সময়ই কামার শিল্পীদের কর্মহীন জীবন চালাতে হয়। বর্তমান বাজারে কামার শিল্পিদের তৈরী যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমেগেছে ফলে হারাতে বসেছে তাদের পৈত্রিক পেশা। তবে ঈদ উপলক্ষে কাজ কর্ম বেশি থাকায় বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
উপজেলার হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কামার শিল্পী শ্রী প্রভাশ কর্মকার জানান, বছরের বেশির ভাগ সময়ই আমাদের কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাতে হয়। বহু কষ্টে ছেলে মেয়ে নিয়ে দিনযাপন করি। ঈদুল আযহা এলেই মনে হয় যেন আমাদের ভাগ্যের সুদিন এসেছে। তাই নিরলস পরিশ্রম করে তৈরী করি বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামার শিল্পী শ্রী প্রসান্ত কর্মকার জানান আমার বাবা স্বর্গীয় জিতেন কর্মকার বুদ্ধি বয়স থেকে এই কাজ করতেন জীবনের নব্বই বছর পার করেছেন এই পেশায় এখন আর তিনি বেচে নেই, আমার বড় ভাই শ্রী সুশান্ত কর্মকার এই কাজ করেন, আমরা দুই ভাই জীবনের প্রায় শুরু থেকে বংশানুক্রমিক ভাবে এ কাজ করে আসছি, আমার দাদাও এই কাজ কর্তেন। কিন্তু বর্তমানে একটা ঈদের জন্য আমাদের অপেক্ষা করে থাকতে হয় সারা বছর। আগে এমন অবস্থার শিকার হইনি কখনো। খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করতে হয়। ঈদ আসে ঈদ যায় তবু আমাদের জীবনের কোন পরিবর্তন হয় না। তারপরও ঈদ এলেই মনের আনন্দে নিরলস ভাবে কাজ শুরু করি মুসলমানদের ঈদ উদযাপনের জন্য।

মো. রাকিবুল ইসলাম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শাহজাদপুর ১ লাখ ৩৫ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত

ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত দৌলতপুরের কামার শিল্পীরা

প্রকাশিত : ০২:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জুলাই ২০২১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বেড়ে গেছে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা। কামার শিল্পীরা দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে ঈদুল আযহার কোরবানির পশুর মাংস কাটার বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরিতে। কোরবানির ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, ততই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন কামার ও ক্রেতারা।
উপজেলার কামার শিল্পীদের বেশির ভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। গ্রামগুলোতে গেলেই চোখে পড়ে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততম জীবন চিত্র। তবে করোনকালে সময়মত তৈরি করা সব সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারবে কিনা সেই হতাশায় রয়েছে দৌলতপুরের কামাররা। সারাবছর কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদের এ সময়টা বরাবরই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনতেও লোকজন ভিড় করছেন। কামারের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে পশু জবাইএর বিভিন্ন উপকরণে। লোহার গুণাগুণের ও পন্যের উপর ভিত্তি করে যন্ত্রপাতির দাম ধরা হয়েছে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত। দৈনন্দিন জীবন যাপনের কাজ সহ ঈদুল আযহার কুরবানীর পশুর মাংস কাটার যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরীতে কামারদের মধ্যে প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে।
তাদের অনেকেই পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এ পেশা। কামারদের তৈরী যন্ত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে দা, বটি, ছুঁড়ি, চাপাটি, কোদাল, কুড়াল, হাশুয়া এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, যা ঈদুল আযহার কোরবানির জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
লোহার দাম বৃদ্ধি, লাগাম হীন বাজার ব্যবস্থা ও স্টেইনলেসস্টিলের যন্ত্রপাতি থাকায় পরিশ্রমের তুলনায় কমমূল্য পাওয়া এসব সঙ্গত কারনেই বছরের বেশীর ভাগ সময়ই কামার শিল্পীদের কর্মহীন জীবন চালাতে হয়। বর্তমান বাজারে কামার শিল্পিদের তৈরী যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমেগেছে ফলে হারাতে বসেছে তাদের পৈত্রিক পেশা। তবে ঈদ উপলক্ষে কাজ কর্ম বেশি থাকায় বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
উপজেলার হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কামার শিল্পী শ্রী প্রভাশ কর্মকার জানান, বছরের বেশির ভাগ সময়ই আমাদের কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাতে হয়। বহু কষ্টে ছেলে মেয়ে নিয়ে দিনযাপন করি। ঈদুল আযহা এলেই মনে হয় যেন আমাদের ভাগ্যের সুদিন এসেছে। তাই নিরলস পরিশ্রম করে তৈরী করি বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামার শিল্পী শ্রী প্রসান্ত কর্মকার জানান আমার বাবা স্বর্গীয় জিতেন কর্মকার বুদ্ধি বয়স থেকে এই কাজ করতেন জীবনের নব্বই বছর পার করেছেন এই পেশায় এখন আর তিনি বেচে নেই, আমার বড় ভাই শ্রী সুশান্ত কর্মকার এই কাজ করেন, আমরা দুই ভাই জীবনের প্রায় শুরু থেকে বংশানুক্রমিক ভাবে এ কাজ করে আসছি, আমার দাদাও এই কাজ কর্তেন। কিন্তু বর্তমানে একটা ঈদের জন্য আমাদের অপেক্ষা করে থাকতে হয় সারা বছর। আগে এমন অবস্থার শিকার হইনি কখনো। খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করতে হয়। ঈদ আসে ঈদ যায় তবু আমাদের জীবনের কোন পরিবর্তন হয় না। তারপরও ঈদ এলেই মনের আনন্দে নিরলস ভাবে কাজ শুরু করি মুসলমানদের ঈদ উদযাপনের জন্য।

মো. রাকিবুল ইসলাম