আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বসেছে কয়েকটি গরুর হাট। এর মধ্যে হবিগঞ্জ গরুর বাজার, পইল গরুর বাজার, নবীগঞ্জ গরুর বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ গরুর বাজার ও চুনারুঘাট গরুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গরুর বাজার জমে উঠেছে। হবিগঞ্জ গরুর বাজারে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারী ও ব্যবসায়ীরা বাজারে গরু নিয়ে আসেন। ছোট আকারের গরু কম থাকলেও বড় ও মাঝারী গরুর সংখ্যা ছিল বেশি। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শণার্থীর উপচে পড়া ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। গরুর হাটে স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন সদস্য দায়িত্বপালন করলেও প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। ফলে স্বস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয় গরুর বাজারে। বাজারে ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও তেমন একটা গরু বেচা-কেনা হয়নি। তুলনা মূলকভাবে এবার গরুর দাম বেশি হওয়ায় হিমশিমে পড়েন অনেক সাধারণ ক্রেতা।
হবিগঞ্জ গরুর বাজারে নিখুঁত কালো রঙ্গের ‘বাদশা” নামে একটি গরু নিয়ে আসেন বানিয়াচং উপজেলার আতুকুড়া করিমনগর গ্রামের কৃষক আজিজুল মিয়া। গরুটি বিক্রি করতে তিনি বাজারে দাম হাঁকান ১০ লাখ টাকা। অনেক ক্রেতাই গরুটি ক্রয় করতে চাইলে সাধ্যের বাইরে থাকায় কেনা সম্ভব হয়নি।
গরুর মালিক আজিজুল মিয়া জানান, বাদশার উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট, লম্বা ৯ ফুট ও বুকের মাপ সাড়ে ৮ ফুট। যার বয়স আড়াই বছর এবং এর ওজন প্রায় ২২ মন। এবার কোরবানির পশুর হাটে সেটি ১০ লাখ টাকায় তিনি বিক্রি করতে চান। বিশাল আকৃতির গরুটির লালন পালনে কোন মোটা তাজা করণের ইনজেকশন দেয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
অপর দিকে, বাজারে ‘রাজা বাবু’ নামে আরেকটি গরু নিয়ে আসেন লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের হোসাইন আহমেদ সোহেল নামে এক ব্যক্তি। প্রায় ২০ মন ওজনের এই গরুটির দাম তিনি হাঁকান ৯ লাখ টাকা।
গরুর মালিক জানান, প্রায় ৩ বছর তিনি নিজ বাড়িতে রেখে গরুটি লালন পালন করেছেন। গরুটি মোটা তাজা করণের কোন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়নি। ৫/৬ লাখ টাকা হলে তিনি গরুটি বিক্রি করবেন। এছাড়াও, শহরতলীর ভাদৈ গ্রামের হুমায়ুন মিয়া এক খামারী কয়েকটি গরু নিয়ে আসেন বাজারে। তিনি ৩/৪টি গরুর দাম হাকান ৫ থেকে ৯ লাখ টাকা।
এবার গরুর হাটের প্রথম দিকে তেমন একটা বেচা-কেনা হয়নি। তবে ঈদের আগ মূহুর্তে শহর এলাকার ক্রেতারা গরু ক্রয় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বাজারের শেষের দিকে গরু ক্রয়-বিক্রয় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খামারী ও ব্যবসায়ীরা।





















