ভোলা জেলায় চলতি রবি মৌসুমে ৬১ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ডাল জাতীয় শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে খেসারী ডাল ১৮ হাজার ৮২৬ মে. টন, মুগ ২৮ হাজার ৫৯৪, ফেলন ১২ হাজার ৫৪০ ও মসুর ডাল ১৫শ’ ১৫ মে. টন। আর এবছর মোট ডাল আবাদের টার্গেট নেওয়া হয়েছে ৫২ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে।

ইতোমধ্যে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৯৫ হেক্টর। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত আবাদ কার্যক্রম চলবে। ফলে সামনের দিনগুলোতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ডালের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। কৃষি কর্মকর্তারা বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, জেলায় মোট ডাল আবাদের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মুগ ডাল রয়েছে ২৪ হাজার ৬৮০ হেক্টর, ফেলন ১০ হাজার ৪০০, খেসারী ১৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর ও মসুর ৯৭৫ হেক্টর জমি রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত আবাদ হয়েছে সদরে ৪ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে, বোরহানউদ্দিনে ২ হাজার ২২৫ হেক্টর, দৌলতখানে ৬ হাজার ২৪২, লালমোহনে ৬ হাজার ৬৯৩, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ১৩৫, চরফ্যাসনে ১৩ হাজার ৪৫ হেক্টর ও মনপুরা উপজেলায় ১০ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রসান্ত কুমার সাহা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ডাল আবাদে কৃষকদের সরকারিভাবে ৪০ কেজি করে সার ও ৭ কেজি করে উন্নত জাতের ডাল বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুগ ডালের জন্য ৭০০ কৃষক, খেসারী ১২০০ ও ফেলন ডালের ৬৭৫ কৃষক রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এছাড়া জেলায় মসুর ডালের ৩৫, খেসারীরর ৯৫, ফেলন ১৪৫ ও মুগ ডালের ১১০টিসহ মোট ৩৮৫টি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে ডালের ফসলের অবস্থা ভালো রয়েছে। ইতোমধ্যে মুগ ছাড়া অন্য ডালের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
ডালে সাধারনত রোগ-বালাই’র আক্রমণ তেমন হয় না। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশ্যই ডালের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কৃষি বিভাগের প্রধান এ কর্মকর্তা। উপজেলা সদরের ধনীয়া ইউনিয়নের কোরার হাট এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন ও রফিক মাঝি বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, তারা ৫০ শতাংশ জমিতে মুগ ও খোসরীর আবাদ করেছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তারা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মর্তা হুমায়ুন কবির বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, জেলায় গত বছরের নভেম্বরের প্রথম দিকে ডালের আবাদ শুরু করা হয়।
প্রতিবছরই ডাল আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে ব্যাপক ফলন হয় এখানে। গত বছর ডালের উৎপাদন হয়েছে ৪৫ হাজার ৬৩৪ মে. টন। এবছর উৎপাদন আরো বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি।




















