ঢাকা রাত ৮:২৩, মঙ্গলবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আর নয় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু, চাই নিরাপদ বাসস্থান

“আজ যে শিশু
পৃথিবীর আলোয় এসেছে
আমরা তার তরে
একটি সাজানো বাগান চাই”। গানের এ কথা গুলো বাস্তব জীবনে কতটুকু মিল রয়েছে। শিশুদের বেড়ে উঠার জন্য আমরা নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করতে পেরেছি ?। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কেউ এর দায় এড়াতে পারবে না। শিশুদের সুস্থ্য রাখার জন্য রাষ্ট্র বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু সুস্থ্য ভাবে বেড়ে উঠার জন্য চাই নিরাপদ পরিবেশ ও বাসস্থান। আর এ পরিবেশের অভাবে আমাদের দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নৃত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

২০১৬ সালে দ্য সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশে (সিআইপিআরবি) এবং আইসিডিডিআর’বি পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৪০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে ৩০টি শিশুর বয়স পাঁচ বছরের কম।

তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীতে তিন লাখ ৫৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এর ৯০ শতাংশই মারা যায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এছাড়াও পানিতে ডোবার কারণে আরো ১৩ হাজার শিশু স্থায়ী পঙ্গুগুত্ব বরণ করে। আহত হয় আরও এক লাখ শিশু।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল রিপোর্ট অন ড্রাউনিং-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এক থেকে চার বছরের শিশুমৃত্যুর ক্ষেত্রে ৪৩ শতাংশ শিশুই মারা যায় পানিতে ডুবে।

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর কারন অভিভাবকদের অসেচতনতাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। বেশির ভাগই শিশুই খেলার ছলে ডোবা কিংবা পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়। আবার কিশোররা বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে মৃত্যুবরন করেন। তাছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যার পানিতে ডুবেও শিশুদের মৃত্যু হয়ে থাকে। যেহেতু পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক ভাবে প্রচার হয় না তাই এর সংখ্যা সঠিক ভাবে নিরুপন করাও সম্ভব হয় না। অনেকের মতে এটি একটি নীরব মহামারি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়েল পিএইচডি প্রার্থী ডাঃ রুকসানা আমিন ইভা একটি পত্রিকায় লিখেছেন জলের সুরক্ষা শিক্ষা সকল বয়সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে বিশেষত বাচ্চাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন পরামর্শক সংস্থা সিনার্গোস এর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভীর পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন আমাদের দেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে অনেক নদী-নালা, খাল-বিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে; যার সিংহভাগই অরক্ষিত। তাই যখনই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, সাধারণ মানুষ এটাকে খুব সহজে এটাকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাঁতার শেখালে ৯৫ শতাংশ মৃত্যু কমানো সম্ভব। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পানিতে ডুবে মুত্যু রোধে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ৪০ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছিল মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যার ব্যায় ধরা হয়েছিল প্রায় দুই কোটি ৫৭ লাখ টাকা। কিন্তু দুঃখ্যের বিষয় মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এর বাস্তবায়ন খুঁজে পায়নি। এ অবস্থার উত্তোরনের জন্য সরকারকে যুযোপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।

পানিতে ডুবে মৃত্যুরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা যেতে পারে। যেমন শিশুদের একা একা জলাধারের কাছে যেতে দেওয়া যাবে না। বাড়ির পাশে অপ্রয়োজনীয় ডোবা রাখা যাবে না এবং পুকুর থাকলে চারপাশে বেড়া দেওয়া যেতে পারে। পানিভর্তি পাত্র ঢেকে রাখতে হবে। শিশুর বয়স ৫ বছর হলে তাকে যত দ্রুত সম্ভব সাঁতার শেখানো উচিত। জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে অনেকটা মৃত্যুরোধ করা সম্ভব হবে।

 

এ বিভাগের আরও সংবাদ