করোনা ভাইরাসে যখন আক্রান্ত দেশ, তখন আর বসে থেকে লাভ কি! স্কুলও বন্ধ থাকার কারনে গত
১বছর ঘড়ে বসে সময় নষ্ট না করে কমলা বাগান পরির্চযায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জাতীয় পুরুষ্কার প্রাপ্ত কমলা চাষী ফাতেমা মজুমদার। তিনি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: ফাতেমা মজুমদার। প্রধানমন্ত্রী দেয়া পরামর্শ আর জাতীয় পুরুস্কারই আরো উৎসাহ বাড়িয়ে দেয় ফাতেমার জীবনে।
জানা গেছে, জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার মিলন বাজার মোজাম্মেল হোসেন আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পশ্চিম সারডুবী এলাকার খলিলুর রহমান এর স্ত্রী পশ্চিম সাড়ডুবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা মজুমদার গত ২০০৫ ইং সালে কমলা খেয়ে বীজ রোপন করে পরীক্ষা মুলক ১ টি চারা গাছ থেকে আজ বিশাল বাগান করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান নাগপুরি সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ৫ শতাধিক গাছে কমলা ধরেছে। চারা গাছ ও কমলা বিক্রী করে প্রতি মৌসুমে ৫ লাখ টাকা আয় করেন। ইতো মধ্যে তিনি একজন সফল কমলা চাষী হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। এছাড়াও সাংবাদিক কর্তৃক বাগানের ছবি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসক সহ একের পর এক সরকারী, বেসরকারী উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের আগমন ঘটেছিল তার কমলা বাগান পরিদর্শনে। ২০১৪ সালে শুরু হয় বাগান থেকে কমলা বিক্রী, এরই এক পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কমলা চাষী হিসেবে ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জাতীয় পুরুস্কার লাভ করেন ফাতেমা মজুমদার। ফাতেমা মজুমদার বলেন, কমলা একটি অর্থকারী ফল হলেও আমরা উত্তরাঞ্চলের মানুষ হিসেব করি না। অথচ এ অঞ্চলের মাটি কমলা চাষের উপযোগি, তার বাস্তব প্রমান আমার বাগান। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নে নারীরাও পারেন সহযোগিতা করতে। তাই আমি করোনায় ঘরে বসে সময় নষ্ট না করে কৃষিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মে অংশ নিচ্ছি। তার বড় প্রমাণ হল কমলা বাগান করা। একটি থেকে পর্যায়ক্রমে বাগান সম্প্রসারিত করে ৫ শতাধিক কমলা গাছ থেকে কমলা ও নার্সারী থেকে হাজার হাজার কলম চারা বিক্রী করে বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকুরী জীবি (শিক্ষক) হয়েও অসম্ভব কে সম্ভব করে এ বিশাল কমলা বাগান লালমনিরহাট জেলার বহুল প্রসংশনীয় বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। দুজনের চাকুরী জীবন, স্কুল টাইম ও দায়িত্ব পালন শেষে অবসর সময়ের সফলতা ও বারতি আয় বদলে দিয়েছে ১ ছেলে ৩ মেয়েসহ ৫ সদস্য’র পরিবারের ভবিষ্যৎ চলার গতি ধারাকে।
ওই এলাকার আলামীন বলেন, আমরা তার কমলা বাগান দেখে হতভাগ হয়েছি এবং আমি নিজেও কিছু কমলার চারা লাগিয়েছি, মাঝে মধ্যে এসে ফাতেমা আপার কাছে পরামর্শ নিয়ে যাই। আপার কমলা বাগান দেখার জন্য প্রতিদিন অনেক দুর থেকে অনেক লোকজন আসে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ফাতেমা মজুমদারের মতো যদি সবাই কাজকে ভালোবাসতো তাহলে এই জেলায় আরও অনেক সফল কমলা চাষি হতো। আমরা তার কাজকে সাধুবাদ জানাই এবং আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।




















