কুষ্টিয়ার মিরপুরে জান্নাত খাতুন (৬) নামের এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার মশান গ্রামের শাহপাড়া ফুফুর বাড়ির পাশের খাল থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জান্নাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফুফু জহুরা ও তার স্বামী আমিরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত না থাকার কারনে ফুফাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ আগস্ট) উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের মশান গ্রামের শাহপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। শিশু জান্নাত একই গ্রামের শাহপাড়ার জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। জান্নাত ও তার ফুফুর বাড়ি একই এলাকায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন আগে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জান্নাতের মা আঁখি খাতুনের সঙ্গে তার ফুফু জহুরা খাতুনের ঝগড়া হয়। দু’টি পরিবারের মধ্যে প্রায়ই তাদের বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়া লেগে থাকত।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শত্রæতার জের ধরে জান্নাতকে তার ফুফু বাড়ীতে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। মা-বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতেই শিশু জান্নাতকে তার ফুফু ও ফুফুর পরিবারের লোকজন গলা কেটে হত্যা করে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় জান্নাত। এরপর তাকে কোথাও খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার পরে ফুফু জহুরার বাড়ির পাশে ক্যানালে গলাকাটা অবস্থায় জান্নাতের লাশ দেখতে পায় প্রতিবেশী ও নিহতের পরিবার। এরপর ফুফু ও তার স্বামীকে স্থানীয়রা আটক করে মিরপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের দুজনকে আটক করে।
বারুইপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, জান্নাত বুধবার বিকালে বাড়ি থেকে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি। দু’তিন দিন আগে জান্নাতের মা-বাবার সঙ্গে তার ফুফুর ঝগড়া হয়েছিল। পরে ফুফুর বাড়ির পাশের ক্যানালে জান্নাতের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রæতার জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয় মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে ওই শিশুর লাশটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পূর্ব শত্রæতার জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তার ফুফু ও ফুফাকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

এদিকে পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম এক প্রেস ব্রিফিং এ জানান, ফুফুকে হত্যাকান্ডের কারন সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা যায় যে, গত ০৮/০৮/২০২১ তারিখ রবিবার জোহরা খাতুনের সাথে নিহত জান্নাতুল এর মা আখি বেগমের পারিবারিক বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আখি বেগম তার ননদ জোহরাকে তার বাড়ী থেকে বের করে দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জোহরা খাতুনের মনে তার ভাই ও ভাবীর প্রতি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ইং-১১/০৮/২০২১ তারিখ জান্নাতুল জোহরার বাড়ীতে খেলা করতে আসে। আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জোহরা কৌশলে জান্নাতুলকে তার রান্না ঘরে নিয়ে বটি দিয়ে কুপিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে শিশুটিকে হত্যা করে। পরে নিহত শিশুটিকে বাজার করা প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে ফেলে আসে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত বটি ও প্লাষ্টিকের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















