দীর্ঘদিনের ভালোবাসার মানুষ মিনহাজ বিন নাসিরের সঙ্গে পারিবারিক আয়োজনে গাঁটছাড়া বেঁধেছিলেন আঁখিমনি। স্বপ্ন দেখে ছিলেন নতুন জীবন সাজানোর। কিন্তু সেই স্বপ্নে এতো দ্রুত আঘাত আসবে, তা কে ভেবেছিলো! নেপালে হানিমুনে যায় নব দম্পত্তি আঁখিমনি জেসি ফারিয়া ও তার স্বামী আমেরিকা প্রবাসী মিনহাজ।
ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানে উঠেন তারা। সময়মতো কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও পৌঁছান কিন্তু মাটি স্পর্শ করেননি তারা; করেছে নিথর দেহ।
নেপাল সরকারের দেয়া মৃতদের তালিকার ৩৭ ও ৩৮ নাম্বার সিরিয়ালে রয়েছে এই হতভাগ্যদের নাম।
মার্চ মাসের শুরুতেই বউ সেজে ছিলেন আঁখি মনি। মাত্র ১৩ দিন আঁখি ও মিনহাজের বিয়ে হয়েছে। সবার কাছে বিদায় নিয়ে সোমবার নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে হানিমুনের উদ্দেশে রওনা দেন।
আজ মঙ্গলবার নিহত আঁখির বন্ধু কুশল ইয়াসির এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিহত নব দম্পতি আঁখি ও মিনহাজের বাসা রাজধানীর মহাখালীতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হলুদ আর ৩ মার্চ রিসিপশন হয় আঁখি ও মিনহাজের। জাঁকজমকপূর্ণ ওই অনুষ্ঠানের পর পরিবারের উদ্যোগে তাদের নেপালে হানিমুনে পাঠানো হয়।
কুশল জানান, কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আঁখি ও মিনহাজের মোবাইল ফোন থেকেই দেশে তাদের মৃত্যুর খবর আসে। বর্তমানে কাঠমান্ডুর হাসপাতালের মর্গে এই নবদম্পতির লাশ রয়েছে।
পরিবারের লোকজন সোমবার সকাল ১১টায় তাদের এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে আসে। যাওয়ার সময় কী এক অজানা আশঙ্কায় আঁখিমনি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল। সেই অজানা আশঙ্কায়ই যেন এখন সত্যি হল!
এমন দুর্ঘটনায় আঁখিমনির বাবা-মা মেয়ের শোকে পাগলপ্রায়। মেয়ের টানে আজ সকালে নেপালের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন আঁখিমনির বাবা। নবদম্পত্তির রুহের শান্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে আঁখিমনির পরিবার।






















