চাকুরিতে বিদ্যমান মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও আদালত অবমাননার শামিল। কারণ এ ব্যাপারে করা রিট আবেদন সম্প্রতি উচ্চ আদালত খারিজ করে দিয়েছে। তাই এ ব্যাপারে আন্দোলনের কোন নৈতিক ও আইনী অধিকার কারো নেই।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কোটা বিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আজ এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এ কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীন ও দপ্তর সম্পাদক আহমাদ রাসেলের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শহীদ সাংসদ নূরুল হক হাওলাদারের কন্যা জোবায়দা হক অজন্তা, সহ-সভাপতি ওমর ফারুক সাগর ও আকবর হোসেন মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক রসিম উদ্দিন ও নাজমা আক্তার, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রশিদ মন্ডল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সরকার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নাঈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সোহেল আহমেদ বিপ্লব, সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার জুয়েল, নান্দাইল উপজেলা শাখার সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আহসান কাদের মাহমুদ ভূইয়া।
সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, সাধারণ ছাত্রদের কাঁধে ভর করে জামাত-শিবির চক্র ঐতিহাসিক মার্চ মাসে রাজধানীর রাজপথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে যে নারকীয় তান্ডব চালিয়েছে তা কোন সভ্য মানুষ মেনে নিতে পারে না। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড করার পূর্বাভিজ্ঞতা শুধুমাত্র শিবির ক্যাডারদেরই রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অভিলম্বে এসব সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুন্ঠিত করার দৃষ্টতা দেখানোর সাহস না পায়।
তারা বলেন, কোন মহলের ইন্ধনে বা গুটি কয়েক লোকের অযৌক্তিক দাবির মুখে চাকুরিতে বিদ্যমান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিলে সারা বাংলায় আগুন জ্বলবে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা কোনভাবেই তা মেনে নেবে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ যখন মধ্যম আয়ে উন্নীত হতে যাচ্ছে। দেশে যখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, তখন আন্দোলনের নামে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টাও তাদের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে আমরা মনে করি। একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে সামনে নিয়ে এসে তারা গোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছে।
তারা বলেন, এই কোটা কারো দয়ার দানে প্রাপ্ত নয়। এটি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সাংবিধানিক অধিকার। কোটা নিয়ে কোন ধরনের কুট চালাকি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বরদাস্ত করবে না। শাহবাগে কিছু সংখ্যক জামায়াত-শিবির মার্কা লোকের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিলে সারা বাংলার লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাস্তায় নেমে আসবে।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘কোটায় শূন্য পদগুলো মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হবে।’ এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুকৌশলে বলার চেষ্টা করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মেধাবী নয়। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের অপমান করা হয়েছে। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও যেহেতু একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, তাহলে তিনিও কি মেধাহীন? এটা সুস্পষ্টভাবে প্রধানমন্ত্রীরও অবমাননা। অতএব অবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে এর সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন, দাবিগুলো হলো- ১) জাতির পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের শাস্তি দিতে হবে। ২) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ৩) প্রিলিমিনারী থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৪)মুক্তিযোদ্ধা কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। ৫) প্রশাসন থেকে রাজাকার ও তাদের বংশধরদের বের করতে চিরনী অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্য পদগুলোতে চলতি বছরেই নিয়োগ দিতে হবে।






















