০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসে রমরমা মাদক ব্যবসা

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। ছাত্রাবাস তিনটি ভবনের কক্ষে দিনরাত চলছে মাদক সেবন আর রমরমা ব্যবসা। কিছুক্ষণ পরপরই বিভিন্ন বয়সী মাদকসেবীদের বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও মাদক বেচা-কেনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর নতুন করে অন্য জায়গায় ছেলেদের জন্য দুটি ও মেয়ের জন্য একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসের তিনটি ভবনে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি মাদকের রমরমা ব্যবসা এবং আড্ডা বসে। এতে উদ্বিগ্ন কলেজ এলাকার সাধারণ মানুষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সকাল থেকেই ছাত্রাবাসের পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়। তবে বিকেলের দিকে এ আনাগোনা আরও বেড়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে স্থানীয়রা এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। মাঝে মাঝে পুলিশ মাদক সেবনকারীদের ধাওয়া করলেও কয়েকদিন পর আবারও একই চিত্র দেখা যায়।
কুষ্টিয়া জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, সরকারি কলেজের মতো এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস থাকতেই পারে। তবে সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনার বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির বলেন, কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসে মাদকের আড্ডার বিষয়টি আমার জানা আছে। এখানকার মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের খুঁটি অনেক শক্ত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কলেজের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের গাড়ি দেখলেই মাদকসেবী ও কারবারিরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসে রমরমা মাদক ব্যবসা

প্রকাশিত : ০৪:২০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। ছাত্রাবাস তিনটি ভবনের কক্ষে দিনরাত চলছে মাদক সেবন আর রমরমা ব্যবসা। কিছুক্ষণ পরপরই বিভিন্ন বয়সী মাদকসেবীদের বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও মাদক বেচা-কেনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর নতুন করে অন্য জায়গায় ছেলেদের জন্য দুটি ও মেয়ের জন্য একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসের তিনটি ভবনে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি মাদকের রমরমা ব্যবসা এবং আড্ডা বসে। এতে উদ্বিগ্ন কলেজ এলাকার সাধারণ মানুষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সকাল থেকেই ছাত্রাবাসের পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়। তবে বিকেলের দিকে এ আনাগোনা আরও বেড়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে স্থানীয়রা এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। মাঝে মাঝে পুলিশ মাদক সেবনকারীদের ধাওয়া করলেও কয়েকদিন পর আবারও একই চিত্র দেখা যায়।
কুষ্টিয়া জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, সরকারি কলেজের মতো এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস থাকতেই পারে। তবে সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনার বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির বলেন, কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসে মাদকের আড্ডার বিষয়টি আমার জানা আছে। এখানকার মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের খুঁটি অনেক শক্ত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কলেজের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের গাড়ি দেখলেই মাদকসেবী ও কারবারিরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ