ঢাকা দুপুর ১:৪৮, বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শীতকালীন আগাম জাতের সবজি চাষে ব্যস্ত যশোরের চাষীরা

কুয়াশার চাদরে জড়ানো শীত মৌসুমের আগাম জাতের সবজি চাষে ধুম পড়েছে যশোরে। আগাম শীতকালীন শাকসবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। বৃষ্টির কারণে চাষিরা সময়মতো সবজি চাষ শুরু করতে না পারলেও শেষ দিকে পুরোদমে চাষে নেমে পড়েছেন তারা। কৃষক বলছেন, সামনে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমান শীতকালীন আগাম জাতের সবজি উৎপাদন হবে।
জেলার সাতমাইল, চুড়ামনকাটি, বারিনগর, হৈবতপুর, কাশিমপুর, বন্দবিলা, লেবুতলা, নোঙরপুর, ইছালি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ জুড়ে চাষ করা হয়েছে বাঁধা কপি, ফুলকপি, সীম, মূলা, লালশাক-পালংশাক, সবুজ শাকসহ নানা ধরনের সবজি। আগাম শীতকালীন চাষ করলে ফসলের বেশি দাম পাওয়া যায়। তাই সবজি ফলাতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের কৃষকরা। পুরোদমে চলছে মাঠ প্রস্তুত, বীজ বপন, চারা রোপন ও পরিচর্যার কাজ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু সবুজের সমারহ।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে,দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সবজিই যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের হাত ধওে চলে যায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায়। প্রায় বছরজুড়েই এ অ লের চাষিরা নানা জাতের সবজি চাষ করে থাকেন। তবে শীত মৌসুমকে ঘিরে সবজি চাষে ধূম পড়ে এ জেলায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে যশোরে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির টার্গেট নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ জমিতেই বিভিন্ন জাতের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এসব সবজি পরিচর্যা করছে কৃষকরা। আর এক থেকে দেড় মাসের ভেতর এসব সবজি বাজারে তুলবেন কৃষক।
শুক্রবার সকালে যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, মাঠকে মাঠ শুধু সবজির ক্ষেত। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পালং শাক, লালশাক, সবুজ শাক, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ শুরু করেছেন কৃষক। এসব ক্ষেত পরিচর্যা করছেন চাষিরা। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশেই রাজাপুর মাঠে কথা হয় সবজি চাষি আব্দুল গফুরের সাথে। তিনি বলেন, এবছর দীর্ঘ অনাবৃষ্টি আর তীব্র গরমের কারণে সময়মতো শীতকালীন সবজির চাষ শুরু করতে পারেনি। যেকারণে একটু দেরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ থেকে এ অ লে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আমরা এখন পুরোদমে চাষ শুরু করেছি। তিনি বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে কপি ও ১০ কাটা জমিতে লাল শাকের চাষ করেছি। আশা করি এখান থেকে ভালো লাভ করবো।
একই মাঠে কথা হয়, সাহেব আলী নামে আরেকজন কৃষকের সাথে। তিনি বলেন, শীতকালীন সবজি উৎপাদনে উপযুক্ত সময়ের আগেই আমরা সবজি বাজারে তুলতে চাই। এজন্য একটু আগেভাগে সবজি চাষ শুরু করেছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে এবং ভালো দাম পাবো। তবে সবজি বাজারে তোলার সময় কাঙ্খিত দাম পাবো কীনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি আমরা।
পাশেই নোঙরপুর মাঠে কথা হয় সবজি চাষি শরিফুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, প্রতিবছর আমরা এ অঞ্চলের চাষিরা বিপুল পরিমান জমিতে বাঁধাকপির আবাদ করি। কয়েকদিনের মধ্যে এসব ফসল বাজারে তুলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
য়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যশোর হচ্ছে সবজি জোন হিসেবে পরিচিত। প্রায় সারাবছর ধরেই এ জেলার চাষিরা নানা জাতের সবজি চাষ করে থাকেন। এবছর বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষক ভালো লাভবানও হয়েছে। এসব কারণে চাষিরা শীতকে সামনে রেখে যত্ন সহকারে সবজি চাষ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, শীতকালীন আগাম জাতের এসব সবজি চাষকে লাভজনক করে তুলতে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি নানাভাবে সহযোগিতা করছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ