০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমান বন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তে নিহত ২৩ জনের জানাজা আর্মি স্টেডিয়ামে শেষ হয়েছে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সাতদিন পর হতভাগা প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেল স্বজনরা। নিহতদের পারিবারিকভাবে দাফন করা হবে। এর আগে সকালে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসে নিহতদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (১৯ মার্চ) বিকাল ৫টা ২৩ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে নিহতদের জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান। পরে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা শুরু হয়।

প্রথমে নিহত ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বৈমানিক পৃথুলা রশীদের মরদেহ পরিবারের কাছে দেয়া হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে ২৩টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে বিকেল ৪টা ৫মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে নিহত ২৩ জনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। সেখান থেকে ৪টা ৪৫ মিনিটে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো আর্মি স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হয়। মরদেহগুলো আর্মি স্টেডিয়ামে স্থাপিত বিশেষ মঞ্চে নিয়ে যেতে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সেখানে উপস্থিত স্বজনরাসহ সবাই। এসময় সেখানে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই ২৩ জনের মধ্যে পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথূলা রশীদ এবং কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মো. শফি ও শারমিন আক্তার নাবিলা রয়েছেন। আর যাত্রীদের মধ্যে ফয়সাল আহমেদ, বিলকিস আরা, বেগম হুরুন নাহার বিলকিস বানু, আখতারা বেগম, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান, হাসান ইমাম, আঁখি মনি, মিনহাজ বিন নাসির, ফারুক হোসেন প্রিয়ক, তার মেয়ে প্রিয়ন্ময়ী তামারা, মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানভিন শশী রেজা, বেগম উম্মে সালমা, মো. নুরুজ্জামান, রফিক জামান, তার স্ত্রী সানজিদা হক বিপাশা, তাদের ছেলে অনিরুদ্ধ জামানের মরদেহ রয়েছে।

এছাড়া তিন বাংলাদেশির মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি। তারা হলেন- নজরুল ইসলাম, পিয়াস রয় ও আলিফুজ্জামান। ডিএনএ পরীক্ষার পর তাদের মরদেহ শনাক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

গত ১২ মার্চ (সোমবার) ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১০ বাংলাদেশি আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।

এরপর আহত ছয় বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়। রবিবার বিকালে আহত শাহিন বেপারীকে দেশে ফিরেয়ে আনা হয়। এর আগে শেহরিন আহমেদ, কামরুন্নাহার স্বর্ণা, মেহেদী হাসান, আলমুন্নাহার অ্যানি ও রাশেদ রুবায়েত দেশে ফেরেন। তারা সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

বিমানটিতে মোট ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দুজন শিশু ছিল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি

২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন

প্রকাশিত : ০৬:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমান বন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তে নিহত ২৩ জনের জানাজা আর্মি স্টেডিয়ামে শেষ হয়েছে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সাতদিন পর হতভাগা প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেল স্বজনরা। নিহতদের পারিবারিকভাবে দাফন করা হবে। এর আগে সকালে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসে নিহতদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (১৯ মার্চ) বিকাল ৫টা ২৩ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে নিহতদের জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান। পরে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা শুরু হয়।

প্রথমে নিহত ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বৈমানিক পৃথুলা রশীদের মরদেহ পরিবারের কাছে দেয়া হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে ২৩টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে বিকেল ৪টা ৫মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে নিহত ২৩ জনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। সেখান থেকে ৪টা ৪৫ মিনিটে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো আর্মি স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হয়। মরদেহগুলো আর্মি স্টেডিয়ামে স্থাপিত বিশেষ মঞ্চে নিয়ে যেতে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সেখানে উপস্থিত স্বজনরাসহ সবাই। এসময় সেখানে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই ২৩ জনের মধ্যে পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথূলা রশীদ এবং কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মো. শফি ও শারমিন আক্তার নাবিলা রয়েছেন। আর যাত্রীদের মধ্যে ফয়সাল আহমেদ, বিলকিস আরা, বেগম হুরুন নাহার বিলকিস বানু, আখতারা বেগম, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান, হাসান ইমাম, আঁখি মনি, মিনহাজ বিন নাসির, ফারুক হোসেন প্রিয়ক, তার মেয়ে প্রিয়ন্ময়ী তামারা, মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানভিন শশী রেজা, বেগম উম্মে সালমা, মো. নুরুজ্জামান, রফিক জামান, তার স্ত্রী সানজিদা হক বিপাশা, তাদের ছেলে অনিরুদ্ধ জামানের মরদেহ রয়েছে।

এছাড়া তিন বাংলাদেশির মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি। তারা হলেন- নজরুল ইসলাম, পিয়াস রয় ও আলিফুজ্জামান। ডিএনএ পরীক্ষার পর তাদের মরদেহ শনাক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

গত ১২ মার্চ (সোমবার) ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১০ বাংলাদেশি আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।

এরপর আহত ছয় বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়। রবিবার বিকালে আহত শাহিন বেপারীকে দেশে ফিরেয়ে আনা হয়। এর আগে শেহরিন আহমেদ, কামরুন্নাহার স্বর্ণা, মেহেদী হাসান, আলমুন্নাহার অ্যানি ও রাশেদ রুবায়েত দেশে ফেরেন। তারা সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

বিমানটিতে মোট ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দুজন শিশু ছিল।