ঢাকা রাত ১:৩৬, বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রদেশে মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা টুটুলসহ ৮ জন গ্রেফতার

মুদি দোকানদার থেকে ওভারসীজ এর মালিক বনে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারীচক্রের অন্যতম হোতা’কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ১৩ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখে টুটুল ওসহযোগী তৈয়বসহ ০৮ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪ এর আভিযানিক দল।সাম্প্রতিক সময়েকয়েকজন নারী ভিকটিমের অবিভাবক মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচার সংক্রান্ত র‍্যাব-৪ এ একটি আভিযানিকদল বাড্ডা থানাধীন লিংক রোডস্থ টুটুল ওভারসীজ, লিমন ওভারসীজ ও লয়াল ওভারসীজে অভিযানচালিয়ে প্রতারক চক্রের এই ০৪ জন কে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৪ এর আভিযানিক দল।

এইচএসসি পাশ টুটুল মেহেরপুরের গাংনী থানাধীন কামন্দী গ্রামে মুদি দোকানদার হিসেবে কাজ করতো।মাঝে মাঝে ঢাকায় আসত। অতি অল্পসময়ে অধিক টাকার মালিক হওয়ার লোভে ধীরে ধীরেমানবপাচারকারী কোন চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমেবিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতে থাকে। পরবর্তীতে নিজেই রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়প্রতারণামূলকভাবে “টুটুল ওভারসীজ, লিমন ওভারসীজ ও লয়াল ওভারসীজ” নামে ০৩ টি ওভারসীজএজেন্সির অফিস খুলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার ও শিক্ষিত বহু নারী ও পুরুষকে বিদেশে পাঠানোরকথা বলে তাদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা প্রতারণামূলকভাবে গ্রহণ করেছে টুটুল।

টুটুলের এই প্রতারণার কাজে অন্যতম দালাল বা সহযোগী আবু তৈয়ব। সে কোন পড়াশুনা জানেনা।চায়ের দোকান করতো। টুটুলের প্ররোচনায় মানব পাচারকারী চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং বহুলোককে প্রতারণামূলক ভাবে বিদেশে প্রেরণ এবং দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়ার নামেপ্রতারণামূলক ভাবে টাকা পয়সা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তৈয়ব নিজেকে দেশের একটি সনামধন্যএয়ারলাইন্সের ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে চাকুরী এবংদেশের নামী-দামী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকুরী দেওয়ার নাম করে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎকরেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েকজন ভিকটিমকে চাকরি প্রদানের ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়েছে।

এই পাচারকারী চক্রের কিছু সদস্য দেশের বেকার ও অস্বচ্ছল যুবক-যুবতীদের সৌদি আরব, জর্ডান ওলেবাননসহ বিভিন্ন দেশের বাসাবাড়ীতে লোভনীয় বেতনে কাজ দেওয়ার নাম করে রাজি করিয়ে ঢাকায়নিয়ে এই চক্রের মূলহোতা টুটুল ও তৈয়বের কাছে নিয়ে আসে।

প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই পাচারকারী চক্রের কয়েকজন সদস্য নিজেদেরকে উচ্চশিক্ষিত বলে পরিচয় দিয়েদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভিকটিমদের’কে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বাসাবাড়িতে কাজেরপ্রশিক্ষণ দিয়ে ভিকটিমদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আদায় করতো।

পাচারকারী চক্রের মূলহোতা টুটুল ও তৈয়বের নির্দেশে ভিকটিমদের বিদেশে যাওয়ার জন্য লোক দেখানোমেডিকেল সম্পূর্ন করা হতো।

সকল প্রক্রিয়া সম্পর্ন করে কয়েকজনকে বিদেশে পাঠিয়ে বাসাবাড়ীতে কাজের কথা বলে বিশেষকরে নারীভিকটিমদের’কে বাসাবাড়ীতে বিক্রি এবং পুরুষ ভিকটিমদের’কে অমানবিক কাজে নিয়োজিত করারউদ্দেশ্যে সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ, জর্ডান ও লেবাননে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতো। উল্লেখ্য যেবিদেশে পাচারকৃত ভিকটিমরা বিদেশে গিয়ে পরিবারের সাথে আর কোন যোগাযোগ করতে পারত না।যাদেরকে বিদেশে পাঠাতে পারত না তারা টাকা ফেরতের আশায় অফিসে যোগাযোগ করলে তাদেরকেবিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের টাকা না দিয়ে আত্মসাৎ করে আসছিল।

চাকুরী প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতারনা করেন চক্রের অন্যতম মূলহোতা গ্রেফতারকৃত তৈয়ব নিজেকে একটিসনামধন্য এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিত। এই চক্রের কিছু সদস্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলহতে শিক্ষিত বেকার তরূণ-তরূণীদের উচ্চ বেতনে লোভনীয় চাকুরীর কথা বলে সংগ্রহ করে তৈয়বেরঅফিসে নিয়ে আসতো। প্রতারক তৈয়ব উক্ত ভিকটিমদের দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে চাকুরীসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে ভ‚য়া চাকুরীর যোগদাপত্র প্রদান করে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করেআসছিল।

র‍্যাব-৪ এর কাছে জনৈক মোঃ আশরাফুল ইসলাম, জেলা-গাইবান্ধা অভিযোগ করেন তার ভাতিজিআসমা বেগম (পিতা-মৃত ফরিদ মিয়া) তৈয়ব ও টুটুলের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে গত ০৯ জুন২০২১ জর্ডান যায়। তাকে বাসাবাড়িতে কাজের কথা বলে পাঠানো হলেও সে পাচার হয়েছে বলে তারাআশঙ্কা করেন। যাওয়ার প্রায় ০১ সপ্তাহ যোগাযোগ থাকলেও এখন আসমার কোন খোঁজ পাওয়াযাচ্ছেনা। এরকম বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষকে প্রতারণামূলকভাবে সৌদআরবে পাঠিয়ে বিক্রিকরেছেন মর্মে তিনি জানতে পারেন বলে র‍্যাব -৪ এর কাছে অভিযোগ করেন।

ভিকটিম মোরশেদা বেগম,হামিদা আক্তার,মোরশেদা বিবি,এবং মালেকা বেগম একই উপায়ে তৈয়বেরকাছে বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট সহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে মোরশেদা বেগম (৩৪) ও হামিদা আক্তার (৩২) দুইজনকে অভিযানকালে উক্ত কথিত টুটুল এর অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়।এবং মোরশেদা বিবি ও মালেকা বেগম প্রতারনার

শিকার হয়ে দুই বছরের অধিক সময় তৈয়ব ও টুটুলেরনিকট ঘোরাফিরা করছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়কঅতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ