নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ‘আমরা আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে পৃথক সাত সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছি। আজকের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আফসানা’র অবস্থার অবনতি হয়েছে। তার অবস্থা খারাপের দিকে। কিডনির কাজ করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ব্লাড প্রেসারও কমে যাচ্ছে। এরপরও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি লাইফ সাপোর্ট চালিয়ে যাবো।’
বোর্ডের প্রধান প্রফেসর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার মতো অবস্থায় এখন নেই। আর বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো কিছু নেই। বিদেশে যে জন্য তাকে পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে সেসব ধরনের উন্নত চিকিৎসা আমাদের এখানেই আছে।’
তিনি বলেন, ‘তার শারীরিক লক্ষণ যা দেখলাম তাতে ক্লিনিক্যাল ডেডও বলা যাবে না। উনি ডায়াবেটিক ছিলেন, আর স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ দুটিই তার এই অবস্থার কারণ বলে মনে হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, রবিবার (১৮ মার্চ) সকালে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয়। রাতে আরেকবার স্ট্রোক করেন আফসানা। এরপর তার আরেক দফা অপারেশন হয়। অপারেশন শেষে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
আফসানার আত্মীয় শামীমা নার্গিস বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি সুস্থই ছিলেন। তবে রবিবার ভোরে তিনি ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন আমাকে। বাসায় যাওয়ার পর দেখতে পান আফসানা কথা বলতে পারছেন না, হাত-পা নেতিয়ে পড়েছে। প্রথমে তাকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে নিউরোসায়েন্সে আনা হয়।
গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় পাইলট আবিদ সুলতানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও একদিন পর ১৩ মার্চ তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গত সোমবার তাকে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

























