০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে ফিরেছে বাকি তিনজনের মরদেহ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত আলিফউজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়ের লাশ দেশে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ২২ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে বাংলাদেশের বিজি-০৭২ ফ্লাইটে তাদের লাশ ঢাকায় আনা হয়।

এর আগে সকালে নেপাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে তিনজনের লাশ হস্তান্তর করে। পরে সকাল ১০টায় দূতাবাসের সামনে আলিফউজ্জামান ও মো. নজরুল ইসলামের জানাজা হয় এবং হিন্দু ধর্ম মোতাবেক পিয়াস রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে, দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে চিহ্নিত ২৩ জনের লাশ গত সোমবার (১৯ মার্চ) বিমান বাহিনীর একটি কার্গো বিমানে করে নেপাল থেকে দেশে আনা হয়। তারা হলেন- আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল, সানজিদা ও নুরুজ্জামান।

ওই সময় নজরুল ইসলাম, পিয়াস রয় ও আলিফুজ্জামানের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস গতকাল বুধবার জানান, নজরুল ইসলাম, পিয়াস রয় ও আলিফুজ্জামানের মরদেহ শনাক্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আর তাদের লাশ দেশে ফেরত পাঠাতে কোনো বাধা নেই।

জানা গেছে, লাশগুলো বিমানবন্দর থেকে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে বের করা লাশগুলো বের করা হয়। এর মধ্যে আলিফউজ্জামানের লাশ খুলনায়, মো. নজরুল ইসলামের লাশ রাজশাহী এবং পিয়াস রায়ের লাশ বরিশালে যাবে।

গত ১২ মার্চ (সোমবার) ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১০ বাংলাদেশি আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। এরপর আহত সাত বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়। বাকি তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও ভারতে পাঠানো হয়।

বিমানটিতে মোট ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দুজন শিশু ছিল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশন থেকে গুলিসহ একটি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯

দেশে ফিরেছে বাকি তিনজনের মরদেহ

প্রকাশিত : ০৭:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত আলিফউজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়ের লাশ দেশে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ২২ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে বাংলাদেশের বিজি-০৭২ ফ্লাইটে তাদের লাশ ঢাকায় আনা হয়।

এর আগে সকালে নেপাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে তিনজনের লাশ হস্তান্তর করে। পরে সকাল ১০টায় দূতাবাসের সামনে আলিফউজ্জামান ও মো. নজরুল ইসলামের জানাজা হয় এবং হিন্দু ধর্ম মোতাবেক পিয়াস রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে, দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে চিহ্নিত ২৩ জনের লাশ গত সোমবার (১৯ মার্চ) বিমান বাহিনীর একটি কার্গো বিমানে করে নেপাল থেকে দেশে আনা হয়। তারা হলেন- আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল, সানজিদা ও নুরুজ্জামান।

ওই সময় নজরুল ইসলাম, পিয়াস রয় ও আলিফুজ্জামানের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস গতকাল বুধবার জানান, নজরুল ইসলাম, পিয়াস রয় ও আলিফুজ্জামানের মরদেহ শনাক্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আর তাদের লাশ দেশে ফেরত পাঠাতে কোনো বাধা নেই।

জানা গেছে, লাশগুলো বিমানবন্দর থেকে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে বের করা লাশগুলো বের করা হয়। এর মধ্যে আলিফউজ্জামানের লাশ খুলনায়, মো. নজরুল ইসলামের লাশ রাজশাহী এবং পিয়াস রায়ের লাশ বরিশালে যাবে।

গত ১২ মার্চ (সোমবার) ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১০ বাংলাদেশি আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। এরপর আহত সাত বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়। বাকি তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও ভারতে পাঠানো হয়।

বিমানটিতে মোট ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দুজন শিশু ছিল।