১২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাটখিল জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি, জন্মের ভোগান্তি যেনো জন্মনিবন্ধনে

নোয়াখালীর চাটখিলের ২নং রামনারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরজমিনের গিয়ে দেখা মিলে জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই।
নতুন করে জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে অনেককেই ঝুট-ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ।  উপজেলায় প্রায় ইউনিয়নের এ চিত্র পাওয়া গেছে। ঝামেলার কারণে অনেকেই জন্ম সনদ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন না।
একজন ভুক্তভোগীর সাথে আলাপ করে জানা যায়,সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে আসছে ইউনিয়ন পরিষদে সেখানে শর্ত জুড়িয়ে পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন লাগবে,ইউপি চেয়ারম্যানের সাক্ষরকৃত জন্ম নিবন্ধন আছে পিতার সন্তানের জন্য করতে গিয়ে দেখে মিলে পিতার জন্ম নিবন্ধনের নাম্বারেরপাশে  বালামে অন্য কারো নাম নেই অনলাইনেও।এখন পড়তে হলো ঝামেলায় পিতার জন্ম নিবন্ধন করতে লাগে তার (দাদার) পিতার মাতার জন্ম নিবন্ধন। এবার দৌড়াতে হবে পিতার জন্ম নিবন্ধন করতে দাদার জন্ম নিবন্ধনের জন্য এটাও যদি বালাম বইয়ে না থাকে উপায় কি?এ ভুল গুলো কার?
একই ইউনিয়নের প্রবাসী মিজানুর রহমান জন্ম নিবন্ধনের জন্য দিয়েছে পাসপোর্ট কপি সেখানেও বয়সের ভুল করে রাখে ইউনিয়ন পরিষদ বার বার ঘুরেও ব্যার্থ তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় পাশের ইউনিয়ন ৮নং নোয়াখলা সেখানেও এক বাচ্চার নামের ভুল পুনরায় করতে দেয় সমাধান পড়তে হয় মহাবিপদে এবার জন্মতারিখটি ও ভুল।
আগে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই যে কারও জন্ম নিবন্ধন করা যেত। গত পহেলা জানুয়ারি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে আটকা পড়েন অনেক বাবা-মা। আগে তাদের জন্ম নিবন্ধন করতে হয়, তারপর হয় সন্তানের জন্ম সনদ।
সনদ পেতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি শর্ত। এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অনেকেরই হাঁসফাঁস অবস্থা। যাদের জন্ম ২০০১ সালের পর তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেকে।
নতুন নিয়ম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সাল এবং তারপর থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্ম সনদ পেতে হলে আগে তার মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। আর ২০০১ সালের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিলেই হয়।
এ নিয়ম চালু হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শূন্য থেকে ৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য টিকার কার্ড, পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।
অপরদিকে ৪৬ দিন থেক ৫ বছর বয়সীদের জন্ম নিবন্ধন নিতে টিকার কার্ড-স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যয়নপত্র স্বাক্ষর ও সিলসহ প্যাডে হতে হবে, পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নসহ বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নের সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগবে, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর,  ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
আর বয়স ৫ বছরের বেশি হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (পিএসসি/জেএসসি/এসএসসি) শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র না থাকলে সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রত্যয়ন সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১নং কলামের স্বাক্ষর ও সিল বাধ্যতামূলক। যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের ক্ষেত্রে পিতামাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির আগে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, যদি জন্ম ২০০১ সালের আগে হয় সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা মৃত হলে মৃত্যুসনদ বাধ্যতামূলক।
যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের পিতা-মাতা মৃত হলে প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ করার পর অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে হবে। উভয় সনদ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সন, আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আবেদনের সঙ্গে কাগজপত্র সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-নারী সদস্যদের স্বাক্ষরসহ সিল বাধ্যতামূলক।
ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

চাটখিল জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি, জন্মের ভোগান্তি যেনো জন্মনিবন্ধনে

প্রকাশিত : ০৬:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১
নোয়াখালীর চাটখিলের ২নং রামনারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরজমিনের গিয়ে দেখা মিলে জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই।
নতুন করে জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে অনেককেই ঝুট-ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ।  উপজেলায় প্রায় ইউনিয়নের এ চিত্র পাওয়া গেছে। ঝামেলার কারণে অনেকেই জন্ম সনদ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন না।
একজন ভুক্তভোগীর সাথে আলাপ করে জানা যায়,সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে আসছে ইউনিয়ন পরিষদে সেখানে শর্ত জুড়িয়ে পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন লাগবে,ইউপি চেয়ারম্যানের সাক্ষরকৃত জন্ম নিবন্ধন আছে পিতার সন্তানের জন্য করতে গিয়ে দেখে মিলে পিতার জন্ম নিবন্ধনের নাম্বারেরপাশে  বালামে অন্য কারো নাম নেই অনলাইনেও।এখন পড়তে হলো ঝামেলায় পিতার জন্ম নিবন্ধন করতে লাগে তার (দাদার) পিতার মাতার জন্ম নিবন্ধন। এবার দৌড়াতে হবে পিতার জন্ম নিবন্ধন করতে দাদার জন্ম নিবন্ধনের জন্য এটাও যদি বালাম বইয়ে না থাকে উপায় কি?এ ভুল গুলো কার?
একই ইউনিয়নের প্রবাসী মিজানুর রহমান জন্ম নিবন্ধনের জন্য দিয়েছে পাসপোর্ট কপি সেখানেও বয়সের ভুল করে রাখে ইউনিয়ন পরিষদ বার বার ঘুরেও ব্যার্থ তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় পাশের ইউনিয়ন ৮নং নোয়াখলা সেখানেও এক বাচ্চার নামের ভুল পুনরায় করতে দেয় সমাধান পড়তে হয় মহাবিপদে এবার জন্মতারিখটি ও ভুল।
আগে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই যে কারও জন্ম নিবন্ধন করা যেত। গত পহেলা জানুয়ারি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে আটকা পড়েন অনেক বাবা-মা। আগে তাদের জন্ম নিবন্ধন করতে হয়, তারপর হয় সন্তানের জন্ম সনদ।
সনদ পেতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি শর্ত। এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অনেকেরই হাঁসফাঁস অবস্থা। যাদের জন্ম ২০০১ সালের পর তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেকে।
নতুন নিয়ম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সাল এবং তারপর থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্ম সনদ পেতে হলে আগে তার মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। আর ২০০১ সালের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিলেই হয়।
এ নিয়ম চালু হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শূন্য থেকে ৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য টিকার কার্ড, পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।
অপরদিকে ৪৬ দিন থেক ৫ বছর বয়সীদের জন্ম নিবন্ধন নিতে টিকার কার্ড-স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যয়নপত্র স্বাক্ষর ও সিলসহ প্যাডে হতে হবে, পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নসহ বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নের সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগবে, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর,  ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
আর বয়স ৫ বছরের বেশি হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (পিএসসি/জেএসসি/এসএসসি) শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র না থাকলে সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রত্যয়ন সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১নং কলামের স্বাক্ষর ও সিল বাধ্যতামূলক। যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের ক্ষেত্রে পিতামাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির আগে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, যদি জন্ম ২০০১ সালের আগে হয় সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা মৃত হলে মৃত্যুসনদ বাধ্যতামূলক।
যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের পিতা-মাতা মৃত হলে প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ করার পর অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে হবে। উভয় সনদ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সন, আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আবেদনের সঙ্গে কাগজপত্র সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-নারী সদস্যদের স্বাক্ষরসহ সিল বাধ্যতামূলক।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ