০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

এইচএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে নতুন কৌশল

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে নতুন কৌশল নিতে যাচ্ছে সরকার। পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রশ্নের আগের চেয়ে বেশি সেট পাঠানো হবে। তবে কোন সেটে পরীক্ষা হবে, সেটি সেটি জানানো হবে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে।

কেন্দ্রে সব সেটের প্রশ্ন পৌঁছে দেয়ার পর ঢাকায় লটারি করে নির্ধারণ করা হবে কোন সেটে পরীক্ষা নেয়া হবে।

রবিবার সচিবালয়ে সভাকক্ষে পরীক্ষা মনিটরিং কমিটির সভায় এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে এই সভা হয়।

গত কয়েক বছর ধরেই পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস একটি আলোচিত বিষয়। নির্বাচনের বছরে সরকারের জন্য এটি বড় চাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। আর এই অপকর্ম রুখতে সরকারও নানা পন্থা গ্রহণ করছে।

সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় প্রতিটি বিষয়ের নৈর্ব্যত্তিক বা এমসিকিউ এর প্রশ্ন আগেভাগেই সামাজিক মাধ্যমে এসেছে। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা থেকে দুই বা আড়াই ঘণ্টা আগে প্রশ্নগুলো উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।

সরকারের ধারণা, ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানোর সময় ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে দেয়া হয়েছে। সেটি যেন এইচএসসি পরীক্ষায় না হতে পারে, সে জন্যই এই কৌশল নেয়া হয়েছে।

আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা। মন্ত্রী বলেন, ‘এই পরীক্ষায় যাতে প্রশ্নফাঁস না হয় সেজন্য সরকার সব ধরনের কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

মন্ত্রী জানান, পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্নের একাধিক সেট থাকবে। তবে মোট কত সেট প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে তা এখন বলা যাবে না।

‘সকল সেট একসাথে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্ন ভর্তি এ প্যাকেট খোলা হবে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে। ঢাকা থেকে লটারির মাধ্যমে জানানো হবে কোন সেটে পরীক্ষা নিতে হবে।’

এসএসসির মতো এইচএসসিতেও পরীক্ষার্থীদেরকে আধা ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে ঢুকতে হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে প্রবেশে বাধ্য করে আমরা ভালো ফল পেয়েছি। এ সিদ্ধান্ত এবারও বলবৎ থাকবে।’

প্রশ্নফাঁস রোধে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আপনারা অনেক সময় প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদে সূত্র উল্লেখ করেন না। এটা ঠিক নয়। যারা প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত তারা কোন সূত্র হতে পারে না। তাদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।’

‘প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে মনিটরিং করা। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত থেকে থেকে শুরু করে পরীক্ষার হলে পৌঁছা পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত। তাদের মধ্যে থেকে যেকোনো একজন প্রশ্ন ফাঁস করে অনলাইনে প্রকাশ করে দিলে তার দায় মন্ত্রণালয় কীভাবে নেবে?’

সচিব বলেন, ‘তবে হ্যাঁ, আমরা এটা নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। সেটা আমরা করেছি। ফলে আপনারা (সাংবাদিকরা) দেখেছেন এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শেষের পাঁচটি বিষয়ে আর প্রশ্নফাঁস হয়নি।’

প্রশ্ন ফাঁস মানেই শতভাগ কমন পড়ে এমন ধারণা সত্য নয় বলেও দাবি করেন সচিব।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা এই সভায় যোগ দেন।

বৈঠকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

এইচএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে নতুন কৌশল

প্রকাশিত : ০৯:১১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১৮

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে নতুন কৌশল নিতে যাচ্ছে সরকার। পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রশ্নের আগের চেয়ে বেশি সেট পাঠানো হবে। তবে কোন সেটে পরীক্ষা হবে, সেটি সেটি জানানো হবে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে।

কেন্দ্রে সব সেটের প্রশ্ন পৌঁছে দেয়ার পর ঢাকায় লটারি করে নির্ধারণ করা হবে কোন সেটে পরীক্ষা নেয়া হবে।

রবিবার সচিবালয়ে সভাকক্ষে পরীক্ষা মনিটরিং কমিটির সভায় এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে এই সভা হয়।

গত কয়েক বছর ধরেই পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস একটি আলোচিত বিষয়। নির্বাচনের বছরে সরকারের জন্য এটি বড় চাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। আর এই অপকর্ম রুখতে সরকারও নানা পন্থা গ্রহণ করছে।

সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় প্রতিটি বিষয়ের নৈর্ব্যত্তিক বা এমসিকিউ এর প্রশ্ন আগেভাগেই সামাজিক মাধ্যমে এসেছে। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা থেকে দুই বা আড়াই ঘণ্টা আগে প্রশ্নগুলো উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।

সরকারের ধারণা, ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানোর সময় ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে দেয়া হয়েছে। সেটি যেন এইচএসসি পরীক্ষায় না হতে পারে, সে জন্যই এই কৌশল নেয়া হয়েছে।

আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা। মন্ত্রী বলেন, ‘এই পরীক্ষায় যাতে প্রশ্নফাঁস না হয় সেজন্য সরকার সব ধরনের কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

মন্ত্রী জানান, পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্নের একাধিক সেট থাকবে। তবে মোট কত সেট প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে তা এখন বলা যাবে না।

‘সকল সেট একসাথে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্ন ভর্তি এ প্যাকেট খোলা হবে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে। ঢাকা থেকে লটারির মাধ্যমে জানানো হবে কোন সেটে পরীক্ষা নিতে হবে।’

এসএসসির মতো এইচএসসিতেও পরীক্ষার্থীদেরকে আধা ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে ঢুকতে হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে প্রবেশে বাধ্য করে আমরা ভালো ফল পেয়েছি। এ সিদ্ধান্ত এবারও বলবৎ থাকবে।’

প্রশ্নফাঁস রোধে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আপনারা অনেক সময় প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদে সূত্র উল্লেখ করেন না। এটা ঠিক নয়। যারা প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত তারা কোন সূত্র হতে পারে না। তাদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।’

‘প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে মনিটরিং করা। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত থেকে থেকে শুরু করে পরীক্ষার হলে পৌঁছা পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত। তাদের মধ্যে থেকে যেকোনো একজন প্রশ্ন ফাঁস করে অনলাইনে প্রকাশ করে দিলে তার দায় মন্ত্রণালয় কীভাবে নেবে?’

সচিব বলেন, ‘তবে হ্যাঁ, আমরা এটা নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। সেটা আমরা করেছি। ফলে আপনারা (সাংবাদিকরা) দেখেছেন এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শেষের পাঁচটি বিষয়ে আর প্রশ্নফাঁস হয়নি।’

প্রশ্ন ফাঁস মানেই শতভাগ কমন পড়ে এমন ধারণা সত্য নয় বলেও দাবি করেন সচিব।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা এই সভায় যোগ দেন।

বৈঠকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।