পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়ন। সবশেষ এই ইউনিয়নে ২০০৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান। নানা জটিলতায় নির্বাচন না হওয়ায় টানা ১৮ বছরই দায়িত্বপালন করেছেন তিনি। সম্প্রতি চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২৬ ডিসেম্বর। দীর্ঘ ১৮ বছর পর নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়নের লীলারমেলা বাজার, বটতলীহাট, রানীগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চা স্টল আর ছোট ছোট দোকানগুলোতে বসে চলছে আড্ডা। আলোচনার বিষয়ের মধ্যে ছিল নির্বাচনও।
এদিকে, তফসিল ঘোষণার পর এই ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করেছে ক্ষমতাসীন দল। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও তিনি পাননি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আ.লীগ মনোনীত দেলোয়ার হোসেন, আ.লীগের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এবং চন্দন রায়। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৩৭ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বলরামপুর ইউনিয়নে সবশেষ নির্বাচন হয় ২০০৩ সালে। এই ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে বোদা পৌরসভা গঠিত। সীমানা জটিলতার কারণে এই ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই সমস্যা সমাধানের পর ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর ইউনিয়নে নির্বাচন দিতে আর কোনো বাধা নেই মর্মে গেজেট প্রকাশিত হয়।
পরে ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ, ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস, ভোটারদের জাতীয় অসংগতির সংশোধনীসহ বিভিন্ন কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যসহ তিনজন ইউপি সদস্য মারা গেছেন। একজন ইউপি সদস্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি জাতীয়করণ হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।
লীলারমেলা বাজারে কথা হয় তরুন ভোটার ওমর ফারুকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ভোটার হয়েছি কিন্তু এখনো ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দিবো পছন্দের প্রার্থীকে।
ত্রিশুলিয়া গ্রামের শোভা রানী বলেন, ২০০৩ সালে আমার বিয়ে হয়। ওই বছরই ভোট দিয়েছি। এর মধ্যে আমাদের ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল হোসেন তার চাকরি জাতীয়করণ হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সদস্য ছাড়াই চলছে কার্যক্রম। এতে নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত ওয়ার্ডবাসী। এবার ভোট হবে, আমরা পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবো।
চেয়ারম্যান পদে আ.লীগ মনোনীত দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রচারণা চালিয়ে আসছি। সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। এখন দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতেছি। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আমি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোট না হওয়ায় ভোটাররা অসস্তিতে রয়েছে। তারা নতুন জনপ্রতিনিধি চায়। অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আমি আশা করছি বিজয়ী হবো।
উল্লেখ্য, বলরামপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১২ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৬৭ জন পুরুষ ও ৬ হাজার ৫২৮ জন নারী।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















