০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

উন্নয়নকে আমাদের টেকসই করতে হবে: দুদক চেয়ারম্যান

উন্নয়নকে আমাদের টেকসই করতে হবে। এটাকে টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক দিকে যে অর্জন আমরা করেছি, সেই অর্জন যদি আমরা ধরে রাখতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। এটির লাগাম যদি টেনে না ধরতে পারি তাহলে আরো ছয় বা নয় বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি বলেন, তাই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির জন্য আমাদেরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই শক্ত অবস্থানে যেতে হবে।

সোমবার সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮’ এর উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ও কমিশনের পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

জাতীর পিতা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ভৌগলিকভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি, এটা আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা হয়ত সেই রাজনৈতিক বা ভৌগলিক মুক্তিটা পেয়েছি, কিন্তু আমরা কী অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তি, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মুক্তি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি? এটা একটি বড় প্রশ্ন। যদিও আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এরপরও অপনারা দেখেছেন যে, আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি কিন্তু এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দুর্নীতি দমন কমিশনের এক হাজার ৭৩ জন লোক নিয়ে ১৬ কোটি মানুষের দেশকে দুর্নীতি মুক্ত নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এটি কেউ যদি আশা করেন তাহলে ভুল হবে। সবাই যদি আমরা একযোগে এক সাথে একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ না করতে পারি তাহলে সম্ভবত দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে না। আমরা যাদেরকে দেখি দুর্নীতিবাজ তারা অনেক বেশি ধুর্ত, শক্তিশালী এবং তারা অনেক প্রভাবশালীও বটে। এদেরকে ধরা শুধু একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান শুরু করতে পারে, প্রতিষ্ঠানকে যদি সবাই মিলে সাহায্য সহযোগিতা না করে তাহলে অসম্ভব ব্যাপার। এই জন্য আমরা আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য, দুর্নীতির লাগামকে টেনে ধরার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। সকল সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি এবং সব সংগঠন একত্রিত হয়ে আজকে প্রতিজ্ঞা করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান সেই অবস্থানকে আমরা ধরে রাখব।’

এর আগে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ও পোস্টার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্থাটির প্রধান। ২৬ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রদর্শনী সর্ব-সাধারণের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।

অনুষ্ঠানের আরো উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও এএফএম আমিনুল ইসলামসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। এবারের দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হলো ‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি’।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশন থেকে গুলিসহ একটি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯

উন্নয়নকে আমাদের টেকসই করতে হবে: দুদক চেয়ারম্যান

প্রকাশিত : ০১:০৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মার্চ ২০১৮

উন্নয়নকে আমাদের টেকসই করতে হবে। এটাকে টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক দিকে যে অর্জন আমরা করেছি, সেই অর্জন যদি আমরা ধরে রাখতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। এটির লাগাম যদি টেনে না ধরতে পারি তাহলে আরো ছয় বা নয় বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি বলেন, তাই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির জন্য আমাদেরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই শক্ত অবস্থানে যেতে হবে।

সোমবার সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮’ এর উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ও কমিশনের পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

জাতীর পিতা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ভৌগলিকভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি, এটা আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা হয়ত সেই রাজনৈতিক বা ভৌগলিক মুক্তিটা পেয়েছি, কিন্তু আমরা কী অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তি, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মুক্তি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি? এটা একটি বড় প্রশ্ন। যদিও আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এরপরও অপনারা দেখেছেন যে, আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি কিন্তু এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দুর্নীতি দমন কমিশনের এক হাজার ৭৩ জন লোক নিয়ে ১৬ কোটি মানুষের দেশকে দুর্নীতি মুক্ত নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এটি কেউ যদি আশা করেন তাহলে ভুল হবে। সবাই যদি আমরা একযোগে এক সাথে একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ না করতে পারি তাহলে সম্ভবত দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে না। আমরা যাদেরকে দেখি দুর্নীতিবাজ তারা অনেক বেশি ধুর্ত, শক্তিশালী এবং তারা অনেক প্রভাবশালীও বটে। এদেরকে ধরা শুধু একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান শুরু করতে পারে, প্রতিষ্ঠানকে যদি সবাই মিলে সাহায্য সহযোগিতা না করে তাহলে অসম্ভব ব্যাপার। এই জন্য আমরা আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য, দুর্নীতির লাগামকে টেনে ধরার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। সকল সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি এবং সব সংগঠন একত্রিত হয়ে আজকে প্রতিজ্ঞা করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান সেই অবস্থানকে আমরা ধরে রাখব।’

এর আগে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ও পোস্টার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্থাটির প্রধান। ২৬ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রদর্শনী সর্ব-সাধারণের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।

অনুষ্ঠানের আরো উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও এএফএম আমিনুল ইসলামসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। এবারের দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হলো ‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি’।