১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জর মাছ

সিরাজগঞ্জের জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করার, ফলে জেলা আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যা ফলশ্র“তিতে জেলার মাছের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে সারা দেশে।

সংশ্লিষ্ঠ সুত্র থেকে জানা যায়, করোনা মহামারির মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার “মৎস্য ক্ষেত্রে দেশ হবে স্বয়ংসম্পূণ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মাননীয় মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম ও সচিব এবং মহাপরিচালক মহাদয়ের দিক নিদেশনায়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সার্বিক ত্বতাবধানে সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তা ও কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছের উৎপাদন, অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জে প্রায় ১৭ হাজার ৮৯০ টি পুকুর রয়েছে, এর মধ্যে শুধু নিমগাছিতে রয়েছে ৭৮৩ টি পুকুর। এছাড়াও নিমগাছি মৎস্য প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ হাজার সুফল ভোগী মৎস্য চাষী রয়েছ্।ে চাষীদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে, এসব চাষীদের মাঝে প্রতি বৈশাখ মাসে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৭৬ টাকা মূল্যে পুকুর সমূহ ইজারা প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর পর দরপত্রের আহবানের মধ্যমে পুকুর সমূহ পুনঃ খনন করা হয়। পুকুরে মাছের রোগ নিণয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ রক্ষা এবং বাজার মনিটরিং, চলন বিলের দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও শুটকি করণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

রায়গঞ্জের ধামাইনগর ইউনিয়নের সুফল ভোগী চাষী মোঃ মাসুম জানান, আমরা নিমগাছি মৎস্য হাচ্যারী থেকে উৎকৃষ্ট মানের মাছের রেনু সংগ্রহ করে থাকি। মৎস্য কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় মাঝে মাঝে পুকুরের পানি পরীক্ষা থেকে শুরু ্করে মাছের রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকে।

এছাড়াও অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার ফলে বিলুপ্তপ্রায় এবং বিপন্ন ও দুর্লভ প্রজাতির মাছ, যথা একঠোঁট, টেরিপুঁটি, মেনি, রানী, গোড়া গুতুম, চিতল, ফলি, বামোস, কালিবাউশ, আইড়, টেংরা, সরপুঁটি, মধু পাবদা, রিঠা, কাজলি, চাকা, গজার, বাইম ইত্যাদির তাৎপর্যপূর্ণ পুনরাবির্ভাব ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভয়াশ্রমে দেশি কই, শিং, মাগুর, পাবদা ইত্যাদি মাছের পোনা ছাড়ার ফলে এসব মাছের প্রাচুর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোনাখাড়া ইউনিয়নের সফল ব্যবসী আব্দুর জব্বার জানান, আমাদের অঞ্চলে যে সমূস্ত জমিতে ঠিক মত ফসল উৎপাদন হতো না , আজ এসমূস্ত জমিতে মাছের চাষ করে , আমরা যেমন স্বাভলম্বী, ঠিক তেমনি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

নিমগাছি হাচ্যারি সূত্রে জানা যায়, একঠোঁট, টেরিপুঁটি, মেনি, রানী, গোড়া গুতুম, চিতল, ফলি, বামোস, কালিবাউশ, আইড়, টেংরা, সরপুঁটি, মধু পাবদা, রিঠা, কাজলি, চাকা, গজার, বাইম ইত্যাদি দেশি মাছ গুলোর বিলুপ্তি রক্ষায়, রেনু সংগ্রহ পাশাপাশি চাষীদের মাঝে বিতরন করে, দেশী মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

রায়গঞ্জের আব্দুর রহিম নামে এক মৎস্যচাষী জানায়, দেশে চাকরিবাকরি নেই, তাই জায়গাজমি বিক্রি করে হলেও বিদেশে যেতে হবে, এই ভাবনা নিয়ে এক সময় বসে ছিলাম। কোন এক সময় , এক মৎস্যকর্মকর্তা উদ্ধুদ্ব করে বলে, বিদেশে শ্রমিকের কাজ করতে যে টাকা লাগে, তাই দিয়ে দেশে বসেও যে ভালো কিছু করা সম্ভব। আর তখন থেকেই আমার বদলে যাওয়া, মৎস্যকর্মকর্তা সার্বিক সহযোগিতায়, মৎস্যচাষে গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করার মাধ্যমে আজ আমি স্বাভলম্বী।

সিরাজগঞ্জ জেলা কর্মকর্তা সাহেদ আলী জানায়, সারা বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত, এর মধ্যেও জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, মাছের রেনু সংগ্রহ থেকে শুরু করে , পুকুর খনন, পুকুরে মাছের রোগ নিণয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ রক্ষা এবং বাজার মনিটরিং, চলন বিলের দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও শুটকি করণের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলা আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ । সিরাজগঞ্জে ২০২০-২০২১ সালে মোট মাছের উৎপাদন হয় ৭০ হাজার ৬১৯ মেট্রিক টন। এ জেলায় মাছের চাহিদা ৭০ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন। এছাড়া বাড়তি মাছ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ট্রেনে ঈদ যাত্রার দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি আজ

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জর মাছ

প্রকাশিত : ০৬:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১

সিরাজগঞ্জের জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করার, ফলে জেলা আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যা ফলশ্র“তিতে জেলার মাছের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে সারা দেশে।

সংশ্লিষ্ঠ সুত্র থেকে জানা যায়, করোনা মহামারির মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার “মৎস্য ক্ষেত্রে দেশ হবে স্বয়ংসম্পূণ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মাননীয় মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম ও সচিব এবং মহাপরিচালক মহাদয়ের দিক নিদেশনায়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সার্বিক ত্বতাবধানে সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তা ও কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছের উৎপাদন, অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জে প্রায় ১৭ হাজার ৮৯০ টি পুকুর রয়েছে, এর মধ্যে শুধু নিমগাছিতে রয়েছে ৭৮৩ টি পুকুর। এছাড়াও নিমগাছি মৎস্য প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ হাজার সুফল ভোগী মৎস্য চাষী রয়েছ্।ে চাষীদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে, এসব চাষীদের মাঝে প্রতি বৈশাখ মাসে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৭৬ টাকা মূল্যে পুকুর সমূহ ইজারা প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর পর দরপত্রের আহবানের মধ্যমে পুকুর সমূহ পুনঃ খনন করা হয়। পুকুরে মাছের রোগ নিণয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ রক্ষা এবং বাজার মনিটরিং, চলন বিলের দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও শুটকি করণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

রায়গঞ্জের ধামাইনগর ইউনিয়নের সুফল ভোগী চাষী মোঃ মাসুম জানান, আমরা নিমগাছি মৎস্য হাচ্যারী থেকে উৎকৃষ্ট মানের মাছের রেনু সংগ্রহ করে থাকি। মৎস্য কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় মাঝে মাঝে পুকুরের পানি পরীক্ষা থেকে শুরু ্করে মাছের রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকে।

এছাড়াও অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার ফলে বিলুপ্তপ্রায় এবং বিপন্ন ও দুর্লভ প্রজাতির মাছ, যথা একঠোঁট, টেরিপুঁটি, মেনি, রানী, গোড়া গুতুম, চিতল, ফলি, বামোস, কালিবাউশ, আইড়, টেংরা, সরপুঁটি, মধু পাবদা, রিঠা, কাজলি, চাকা, গজার, বাইম ইত্যাদির তাৎপর্যপূর্ণ পুনরাবির্ভাব ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভয়াশ্রমে দেশি কই, শিং, মাগুর, পাবদা ইত্যাদি মাছের পোনা ছাড়ার ফলে এসব মাছের প্রাচুর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোনাখাড়া ইউনিয়নের সফল ব্যবসী আব্দুর জব্বার জানান, আমাদের অঞ্চলে যে সমূস্ত জমিতে ঠিক মত ফসল উৎপাদন হতো না , আজ এসমূস্ত জমিতে মাছের চাষ করে , আমরা যেমন স্বাভলম্বী, ঠিক তেমনি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

নিমগাছি হাচ্যারি সূত্রে জানা যায়, একঠোঁট, টেরিপুঁটি, মেনি, রানী, গোড়া গুতুম, চিতল, ফলি, বামোস, কালিবাউশ, আইড়, টেংরা, সরপুঁটি, মধু পাবদা, রিঠা, কাজলি, চাকা, গজার, বাইম ইত্যাদি দেশি মাছ গুলোর বিলুপ্তি রক্ষায়, রেনু সংগ্রহ পাশাপাশি চাষীদের মাঝে বিতরন করে, দেশী মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

রায়গঞ্জের আব্দুর রহিম নামে এক মৎস্যচাষী জানায়, দেশে চাকরিবাকরি নেই, তাই জায়গাজমি বিক্রি করে হলেও বিদেশে যেতে হবে, এই ভাবনা নিয়ে এক সময় বসে ছিলাম। কোন এক সময় , এক মৎস্যকর্মকর্তা উদ্ধুদ্ব করে বলে, বিদেশে শ্রমিকের কাজ করতে যে টাকা লাগে, তাই দিয়ে দেশে বসেও যে ভালো কিছু করা সম্ভব। আর তখন থেকেই আমার বদলে যাওয়া, মৎস্যকর্মকর্তা সার্বিক সহযোগিতায়, মৎস্যচাষে গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করার মাধ্যমে আজ আমি স্বাভলম্বী।

সিরাজগঞ্জ জেলা কর্মকর্তা সাহেদ আলী জানায়, সারা বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত, এর মধ্যেও জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, মাছের রেনু সংগ্রহ থেকে শুরু করে , পুকুর খনন, পুকুরে মাছের রোগ নিণয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ রক্ষা এবং বাজার মনিটরিং, চলন বিলের দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও শুটকি করণের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলা আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ । সিরাজগঞ্জে ২০২০-২০২১ সালে মোট মাছের উৎপাদন হয় ৭০ হাজার ৬১৯ মেট্রিক টন। এ জেলায় মাছের চাহিদা ৭০ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন। এছাড়া বাড়তি মাছ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর