কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় খরচ সাশ্রয়ের জন্য সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনেকেই প্রকাশ্যেই পোড়াবে কাঠ। ইট পোড়ানোর জন্য ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন ভাটায় কাঠ/খড়ি সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে। সরেজমিনে ঘুরে এসে দেখা যায় এসব ভাটাগুলো পড়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ও আশেপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হবে। ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ইটভাটা। সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন ইটভাটা মালিকদের। এটা দিনরাত চললেও দেখার মতো কেউ থাকবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনা যেখানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কথা চিন্তা করে কাঠ পোড়ানো ইটভাটা অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সেখানে কিছু কতিপয় ব্যক্তি সরকারের দেয়া নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে অবৈধ ইটভাটা সচল রেখেছেন। দেশে ইটভাটার পুরনো পদ্ধতি চালু থাকার কারণে বায়ু দূষণ ঘটছে মারাত্মকভাবে। নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ধ্বংস হচ্ছে পাহাড় ও গাছপালা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় এই পদ্ধতিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের। তারপর বন্ধ হয়নি পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটার কার্যক্রম। জানা যায় সারাদেশে ৭৯০২ টি ইট ভাটার কার্যক্রম চলছে। ইটভাটার কার্যক্রম চলছে এর মধ্যে ৩২০০ টি অবৈধ। উল্লেখ্য ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ সংশোধিত ২০১৮ অনুযায়ী আবাসিক সংরক্ষন বাণিজ্যিক এলাকা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা সদর ও কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এই আইন লঙ্ঘন করে চলছে অবৈধ ইটভাটা গুলোর কার্যক্রম। এ গুলো কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তুত ও দেশের ইটভাটায় কার্যক্রম বন্ধ করে ভবন নির্মাণে ইটের বিকল্প পরিবেশ বান্ধব ব্লক ব্যাবহারে যেতে হবে সংশ্লিষ্টদের। দেশে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে ব্লক তৈরির প্রায় ৮০ টির মত কারখানা গড়ে উঠেছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই অথচ। ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের সরকারি নির্মাণে ব্লক ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। এই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রা অগ্রগতি সামান্য। অথচ ব্লক এ প্রসার ঘটলে কম খরচে মানসম্মত নির্মাণ কাজে সম্ভব হতো। জানা যায় ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয় আমদানিকৃত নিম্নমানের কয়লা। এ কয়লা পোড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমাণে ছাই তৈরি হয়। অন্যদিকে ইটভাটা থেকে বায়ুমন্ডলে দূষিত উপাদান ও যোগ হচ্ছে। এসব দূষিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে পার্টিক্লোম্যাটেক, কার্বন মনো অক্সাইড, সালফার অক্সাইড, ও কার্বন ডাই অক্সাইড। গবেষণায় দেখা গেছে পার্টিক্লোম্যাটেক মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এটি মানবদেহের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করলে রেস পেরোটি সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এই কারণে ইটভাটার আশেপাশে বসবাসরত মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দেয় বেশি।
ফসলি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় এইসব ইটভাটাগুলো বন্ধ করার দাবি স্থানীয়দের।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
১১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
ভেড়ামারার ইটভাটা গুলোতে এবারো গাছকেটে খড়ি বানিয়ে পোড়ানো হবে ইট
-
মাহমুদুল হাসান চন্দন, ভেড়ামারা প্রতিনিধি - প্রকাশিত : ০৫:৪০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১
- 63
ট্যাগ :
জনপ্রিয়




















