সরিষা ফুলের সমারোহে হলুদাভ হয়ে উঠেছে মাঠগুলো। দিগন্তছোঁয়া হলুদাভ বর্ণে বদলে গেছে উল্লাপাড়র রূপ। ফুলে ফুলে মৌমাছির মন মাতানো গুন গুন সঙ্গীত প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নেয়। কৃষকরা আশা করছেন এবার বাম্পার ফলনের তাই রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও। এ বছর উল্লাপাড়া উপজেলায় ১৯ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে এর মধ্যে বেসির ভাগ জমিতে বাড়ি সরিষা ১৭ এবং বাড়ি সরিষা ১৮ জানা যায় কৃষি অফিস সূত্র।
উল্লাপাড়া উপজেলার মাঠগুলো ভরে উঠেছে হলুদ বর্ণের সরিষা ফুলে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সরিষা আবাদে তেমন কোনো পোকার আক্রমণ না থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলন হবে বলে মনে করছেন। সবাই বলছে তুলনামূলকভাবে এ বছর সরিষার আবাদ অনেক ভালো হয়েছে। তা ছাড়া সময়মতো সার-কীটনাশক ব্যবহারের কারণে সরিষার আবাদ করতে কৃষককে বেগ পেতে হচ্ছে না। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে জেলা কৃষি অফিস থেকে আগেই বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণ ইয়সমিন জানিয়েছেন, এ বছর উল্লাপাড়া উপজেলায় ১৯ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার কয়রা গ্রামের কৃষক সাজাহান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার কারণে আগাম সরিষার চাষ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি অরো বলেন, একসময় আমাদের মাঠগুলো কৃষকরা শুধু ইরি-বোরোর মতো এক ফসল আবাদ করে হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত রাখত। কালের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষকদেরও চাষ পদ্ধ অনেক উন্নত হয়েছে। কৃষকরা বিগত দেড় যুগ ধরে ইরি-বোরো, আমন, ভুট্টা ও সরিষার আবাদে ঝুঁকছে।
গত কয়েক বছর ধরে বন্যার পানি কম ও দ্রত পানি মাঠ থেকে নেমে যাওয়ার ফলে সরিষার আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উল্লাপাড়া উপজেলায় বাঙ্গালা ইউনিয়নে মহেশপুর গ্রামের কৃষক নাজমুল আলম বলে, সময়মতো বীজ ও সার পাওয়ায় এবং বন্যার পানি যথাসময়ে নেমে যাওয়ায় আমাদের মাঠে ব্যাপক হারে সরিষার আবাদ হয়েছে। তা ছাড়া এ বছর সরিষার গাছ যে সুন্দর দেখা যাচ্ছে তাতে ঘন কুয়াশা ও খুব বেশি শীত না পড়লে এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ না হলে সরিষার আশাতীত ফলন হবে। ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে খুব অল্প পরিশ্রমে সরিষা ঘরে তোলা সম্ভব।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবার্ণ ইসমিন বলেন, এ বছর কৃষককে সরিষা চাষে ব্যাপকভাবে সচেতন করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মতবিনিময় সভা ও উঠান বৈঠক করা হয়েছে। সরিষা চাষের পদ্ধতি ও পোকার আক্রমণ হলে কী করণীয় সে বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে। তা ছাড়া কর্মকর্তারা সবসময় মাঠ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নিঃসন্দেহে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে।




















