০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, ব্রয়লার মুরগির

কাঁচাবাজারে শীতের এই মৌসুমে ক্রেতারা চাইলেই পছন্দ করতে পারছেন হরেক সবজি। পাশাপাশি খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বাজারে নানা পদের ছোট মাছের সরবরাহও প্রচুর। সঙ্গে চাষের রুই, কাতল, শিং, কই আর পাবদা তো আছেই। বাজারে ক্রেতারা অনেক কিছু পছন্দ করতে পারলেও কিছু সবজির দাম বেশি। এ সময় নতুন লাউয়ের সঙ্গে পছন্দের মাছ যোগ করে খাওয়ার ইচ্ছাটা অনেকেরই থাকে। তবে শুক্রবার বাজারে একটি লাউয়ের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। একটু তরতাজা মনে হলে সেটি ৮০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।

খিলগাঁও বাগানবাড়ি বাজারে লাউয়ের দামের এমন অবস্থা নিয়ে ক্রেতাদের বক্তব্য, ‘এ সময়েও কীভাবে লাউয়ের এত দাম হয়।’গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে সরকরি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ বা টিসিবিও। তাদের তথ্যে জানা গেছে, এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এই সময়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে টিসিবি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ৩০ টাকা কেজিতে। দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেড়েছে আগের সপ্তাহের তুলনায়। সর্বোচ্চ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে আমদানি করা পেঁয়াজ। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৫ টাকা। এ ছাড়া সংস্থাটির পক্ষ থেকে গত সপ্তাহের ১২টি পণ্যের দামের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ৯টি পণ্যেরই দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। গত ৬ ডিসেম্বর থেকে দাম বৃদ্ধি পাওয়া খোলা ময়দা এখনও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ময়দা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪০ টাকা। পুরোনো আলুর কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। আগের সপ্তাহে ছিল ২০ টাকা।

দেশি ও আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে। বাজারে বেড়েছে আদা, এলাচসহ ব্রয়লার মুরগির দামও। গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া ১৪০ টাকা কেজির ব্রয়লার মুরগি এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। বাঁধাকপি এখন বছরের সব সময়ই পাওয়া যায়। বিশেষ করে এ সময়টিতে সরবরাহ থাকে বেশি। পুরো সরবরাহ রয়েছে ফুলকপিরও। ফুলকপি এখন প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। বাঁধাকপি আকার অনুযায়ী ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শাকপাতার মধ্যে পালংশাক, লালশাকের আঁটি ১৫-২০ টাকা, লাউশাকের আঁটি ৩০-৪০ টাকা, মুলাশাক, সরিষাশাক ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খিলগাঁও বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দামই স্বাভাবিক আছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম খুব বেশি বাড়েনি। শীতের সবজি যেগুলোকে বলা হয়, সেগুলো আরও এক মাস আগেই বাজারে চলে এসেছে। ফলে নতুন করে কোনো কিছুরই দাম বাড়েনি, বরং অনেক সবজির দাম কমেছে।’

বাজারে কাঁচা টম্যাটো ৩০ টাকা, পাকা টম্যাটো ৬০ টাকা এবং ভালো মানের পাকা টম্যাটো ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গাজর ৬০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০, গোল বেগুন ৫০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা পিস। নতুন আলু ৫০ টাকা কেজি, পেঁপে ৩০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের দাম বিশেষ করে বড় মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে।

বড় রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা কেজিতে। কাতল ৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৫০ টাকা এবং মৃগেল বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা কেজিতে। তবে এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় চালের বাজার স্থিতিশীল। সরু চালের মধ্যে নাজির ও মিনিকেট বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৬৮ টাকায়, যা আগের সপ্তাহেও একই দর ছিল। মাঝারি মানের চালের মধ্যে পাইজাম ও লতা বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা কেজি। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা ও চায়না ইরি বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংসের কেজি ৫৮০-৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কাদিয়ারভাঙ্গা প্রধানগোষ্ঠী ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে আদর্শ সমাজ গঠনে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, ব্রয়লার মুরগির

প্রকাশিত : ০৬:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২১

কাঁচাবাজারে শীতের এই মৌসুমে ক্রেতারা চাইলেই পছন্দ করতে পারছেন হরেক সবজি। পাশাপাশি খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বাজারে নানা পদের ছোট মাছের সরবরাহও প্রচুর। সঙ্গে চাষের রুই, কাতল, শিং, কই আর পাবদা তো আছেই। বাজারে ক্রেতারা অনেক কিছু পছন্দ করতে পারলেও কিছু সবজির দাম বেশি। এ সময় নতুন লাউয়ের সঙ্গে পছন্দের মাছ যোগ করে খাওয়ার ইচ্ছাটা অনেকেরই থাকে। তবে শুক্রবার বাজারে একটি লাউয়ের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। একটু তরতাজা মনে হলে সেটি ৮০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।

খিলগাঁও বাগানবাড়ি বাজারে লাউয়ের দামের এমন অবস্থা নিয়ে ক্রেতাদের বক্তব্য, ‘এ সময়েও কীভাবে লাউয়ের এত দাম হয়।’গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে সরকরি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ বা টিসিবিও। তাদের তথ্যে জানা গেছে, এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এই সময়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে টিসিবি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ৩০ টাকা কেজিতে। দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেড়েছে আগের সপ্তাহের তুলনায়। সর্বোচ্চ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে আমদানি করা পেঁয়াজ। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৫ টাকা। এ ছাড়া সংস্থাটির পক্ষ থেকে গত সপ্তাহের ১২টি পণ্যের দামের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ৯টি পণ্যেরই দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। গত ৬ ডিসেম্বর থেকে দাম বৃদ্ধি পাওয়া খোলা ময়দা এখনও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ময়দা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪০ টাকা। পুরোনো আলুর কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। আগের সপ্তাহে ছিল ২০ টাকা।

দেশি ও আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে। বাজারে বেড়েছে আদা, এলাচসহ ব্রয়লার মুরগির দামও। গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া ১৪০ টাকা কেজির ব্রয়লার মুরগি এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। বাঁধাকপি এখন বছরের সব সময়ই পাওয়া যায়। বিশেষ করে এ সময়টিতে সরবরাহ থাকে বেশি। পুরো সরবরাহ রয়েছে ফুলকপিরও। ফুলকপি এখন প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। বাঁধাকপি আকার অনুযায়ী ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শাকপাতার মধ্যে পালংশাক, লালশাকের আঁটি ১৫-২০ টাকা, লাউশাকের আঁটি ৩০-৪০ টাকা, মুলাশাক, সরিষাশাক ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খিলগাঁও বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দামই স্বাভাবিক আছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম খুব বেশি বাড়েনি। শীতের সবজি যেগুলোকে বলা হয়, সেগুলো আরও এক মাস আগেই বাজারে চলে এসেছে। ফলে নতুন করে কোনো কিছুরই দাম বাড়েনি, বরং অনেক সবজির দাম কমেছে।’

বাজারে কাঁচা টম্যাটো ৩০ টাকা, পাকা টম্যাটো ৬০ টাকা এবং ভালো মানের পাকা টম্যাটো ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গাজর ৬০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০, গোল বেগুন ৫০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা পিস। নতুন আলু ৫০ টাকা কেজি, পেঁপে ৩০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের দাম বিশেষ করে বড় মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে।

বড় রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা কেজিতে। কাতল ৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৫০ টাকা এবং মৃগেল বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা কেজিতে। তবে এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় চালের বাজার স্থিতিশীল। সরু চালের মধ্যে নাজির ও মিনিকেট বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৬৮ টাকায়, যা আগের সপ্তাহেও একই দর ছিল। মাঝারি মানের চালের মধ্যে পাইজাম ও লতা বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা কেজি। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা ও চায়না ইরি বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংসের কেজি ৫৮০-৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।