ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় এবং ঢাকায় পোশাক কারখানায় একসাথে দীর্ঘদিন চাকরী পরে প্রেম থেকে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপনের পর বিবাহ করতে অস্বীকার করায় প্রেমিকা নিজেই বিবাহের দাবীতে প্রেমিক বুলবুল আহম্মেদ বিপুলের বাড়িতে।
ঘটনাটি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের গজারমারা গ্রামে। অভিযুক্ত বুলবুল আহম্মেদ বিপুল মন্ডতোষ ইউনিয়নের গজারমারা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। ঐ নারীর বাড়ি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ঝিকরা গ্রামে। সে গত ২৮ মঙ্গলবার থেকে বিপুলের বাড়িতে অবস্থান করছে। ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে বিপুলের বাড়ির লোকজন মারধোর করে তরুনীকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। ঘটনার দিন থেকে বিপুল পলাতক রয়েছে ।
জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে বিপুলের সাথে তার পরিচয় হয় সিরাজগঞ্জের ঐ তরুনীর পরে ঢাকায় একসাথে চাকরি করার সুবাদে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
এরপর তাদের পরিচয় প্রেমের পরিনয়ে রুপ নেয়। এর কিছুদিন পর বিপুল তাকে দেখা করার জন্য চাপ দিলে ঐ নারী তার সাথে ঢাকার বিভিন্ন যায়গায় ও ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন যায়গায়, এসে দেখা করে। ঐ সময় বিপুল তাকে তার কালিবাড়ি বোনের বাড়িতে নিয়ে বান্ধবী পরিচয়ে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় ও ঘটনাটি কৌশলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারন করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে নারীর ভাষ্যমতে দুই বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষন করে। এক পর্যায়ে ঐ যুবতী গর্ভবতী হয়ে পরলে পাঁচ মাস গর্ভাবস্থায় ঔষধের মাধ্যমে বাচ্চা নষ্ট করতে বাধ্য করে বিপুল। এরপর সে বিপুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। বিপুল বিষয়টি এড়িয়ে যেতে শুরু করলে ঐ যুবতী গত ২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গুড়া উপজেলার সিএনজি স্ট্যান্ডে এসে বিপুলের খোঁজ করতে থাকে। সেখানে উপস্থিত লোকজন বিপুলকে চিনতে পেরে বিপুলকে খবর দিলে বিপুল সেখানে উপস্থিত হলেও কৌশলে সেখান থেকে চম্পট দেয়।উপায় না পেয়ে ঐ যুবতী উপস্থিত লোকেদের মাধ্যমে ঠিকানা নিয়ে বিয়ের দাবীতে বিপুলের বাড়িতে উপস্থিত হয়। পরে বিপুলের পিতা মেয়েটিকে নিয়ে চাটমোহরের গুনাইগাছা নামক স্হানে ভ্যানগাড়ীতে রেখে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি অনেক কষ্টে আবারও বিপুলের বাড়িতে আসে।
বিষয়টি মন্ডতোষ ইউপি চেয়ারম্যান আফসার আলী জানতে পারে এবং মেয়েটির যেনো কোনো ক্ষতি না হয় তার নিরাপত্তায় গ্রাম পুলিশের নিয়োগ করেন। গ্রাম পুলিশের পাহারায় গত দুই দিন সেখানে থাকলেও ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে ঐ নারীকে বিপুলের পরিবারের লোকজন মারধোর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
নারীকে মারধোর করে তাড়িয়ে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে বিপুলের পিতা ইসমাইল হোসেন সেখানে উপস্থিত সকলের সামনে জানান, উপর মহলের নির্দেশেই তিনি ঐ যুবতীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন।
ঘটনা শুনে চেয়ারম্যান আফসার আলী পুনরায় সেখানে উপস্থিত হয়ে বিপুলের পিতা ইসমাইল হোসেনকে তার ছেলে কে হাজির করতে চাপ প্রয়োগ করেন। এবং ঐ নারীকে যেনো আর মারধোর করা না হয় সেই বিষয়ে গ্রাম পুলিশকে নির্দেশনা দেন।
মন্ডতোষ ইউপি চেয়ারম্যান আফসার আলী বলেন, প্রেমের কারণে সম্মান বিসর্জন দিয়ে সাধারনত কোনো মেয়ে অন্যের বাড়িতে চলে আসতে পারে না। মেয়ের অভিযোগ তাকে ভিডিও দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে আমিও সেটা বিশ্বাস করি। ছেলের বাবাকে তার ছেলেকে হাজির করতে বলা হয়েছে এবং মেয়ের পরিবারকে সংবাদ পাঠানো হয়েছে তারা আসলে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এবিষয়ে কথা বলতে পলাতক বুলবুল আহাম্মেদ বিপুল পলাতক থাকার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি। এব্যপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, এবিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করে নি। ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মুঃ ফয়সাল বিন আহসান বলেন, এবিষয়ে কেউ অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর





















