হায় রে প্রেম, হায় রে ভালবাসা। প্রেম মানে না কোন জাতকুল, প্রেম মানে না দেশ বিদেশ। প্রেম আসে স্বর্গ থেকে, তাইতো প্রেমের টানে সুদূর সিঙ্গাপুর থেকে কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ীতে ছুটে এসেছেন ফিলিপাইনের এক তরুণী।
বুধবার (২৮ মার্চ) বিকালে ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর মাঠেরপাড় গ্রামে প্রেমিক রুবেল আহমেদের বাড়িতে বিদেশি ওই তরুণীকে দেখতে শতশত মানুষ ভিড় জমায়। ইয়াসমিন নামের ফিলিপাইনের ওই তরুণী গত সোমবার প্রেমিক রুবেলের বাড়িতে আসেন।
বৃহস্পতিবার রুবেল জানান, সিঙ্গাপুরে একটি গ্লাস কোম্পানিতে কর্মরত থাকায় তার সঙ্গে ফিলিপাইনের ফারান্দ ইসলামের মেয়ে ইয়াসমিনের সঙ্গে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকেই তাদের মধ্যে পরিণয়।
রুবেল ১০ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে ছিলেন এবং পাঁচ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি রুবেল ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন। দীর্ঘ পাঁচ মাস থেকে তাদের মধ্যে দেখা সাক্ষাত না থাকায় প্রেমের টানে ইয়াসমিন বাংলাদেশে তার কাছে চলে আসেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ইয়াসমিন বাংলাদেশে আসার পর রুবেলের পরিবারের লোকজন বিষয়টি শুনে তাদের সম্পর্কের স্বীকৃতি দেয়। তারা ঢাকায় একটি আদালতে এফিডেভিডের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তারা দুজন ইসলাম ধর্ম মতে স্বামী-স্ত্রী। এক সপ্তাহ পর নতুন এই দম্পতি আবারো সিঙ্গাপুরে তাদের কর্মস্থলে ফিরে যাবে।
রুবেলের বাবা বেলাল বলেন, আমি কৃষক মানুষ। ছেলের ভালোই আমার ভালো। তারা যেহেতু একজন অন্যজনকে পছন্দ করে সেজন্য তাদের সুখের কথা চিন্তা করে আমরা তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়ে কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দিয়েছি। বাড়িতে অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের বৌভাত খাওয়ানো হয়েছে। ছেলের বিয়ের আনন্দ এখনো কাটেনি। সবাই আমার ছেলে ও ছেলের নতুন বউয়ের জন্য দোয়া করবেন। তারা যেন ভালো থাকে।
রুবেলের চাচা আবদুল খালেক জানান, বাড়িতে বউভাতের আয়োজন করা হয়েছে। এক সপ্তাহ পর নতুন এই দম্পতি আবার সিঙ্গাপুরে তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে যাবেন।
এ ব্যাপারে কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলজার হোসন ও ফুলবাড়ী থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




















