০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভ; দফায় দফায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক এলাকায় কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছে। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ১০ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও ৬ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে অন্তত ১০ শ্রমিকসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিসিক এলাকার চারটি পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এমন পরিস্থিতিতে ৩টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারখানার শ্রমিক সানোয়ার হোসেন জানান, গত শনিবার টিভলি অ্যাপারেলস লিমিটেড এর ফিনিশিং সেকশনের সহকারি রিপা আক্তারকে লাঞ্ছিত করে কারখানার পঞ্চম তলার উৎপাদন ব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান। বিষয়টি কারখানার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে জানাজানি হলে ওইদিনই বিচারের দাবিতে শ্রমিকরা উৎপাদন কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করে। পরে শ্রমিকরা ১২টি দাবি উল্লেখ করে মালিক পক্ষের নিকট একটি দাবিনামা উপস্থাপন করেন। সোমবারও শ্রমিকরা উৎপাদন কাজে যোগ না দিয়ে বাসায় চলে যায়। পরে মালিক কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণার নোটিশ ফ্যাক্টরির সামনে টাঙিয়ে দেয়।

মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে এসে বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাশের রেডিসন গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার সামনে এসে আন্দোলনে যোগ দেয় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এসময় পুলিশ গ্যাসগান ও শর্টগান চালিয়ে নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এরপর আবারও শ্রমিকরা সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড, আর বি এস আর ফ্যাশন লিমিটেড এবং বিসিক ফকির মার্কেটে জড়ো হয়ে পুলিশের উপর ত্রিমুখী হামলা চালায়। পরে পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ১০ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও ৬ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় শ্রমিকরা যাওয়ার পথে পেট্রিয়ট ইকো লিমিটেড কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এমন পরিস্থিতিতে সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড, আর বি এস আর ফ্যাশন লিমিটেড ও রেডিসন অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।

টিভলী অ্যাপারেলস লিমিটেডের মালিক মোশারফ হোসেন বলেন, শ্রমিকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ঘটনার দিনই উৎপাদন ব্যবস্থাপককে অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা তা সত্ত্বেও কিছু অযৌক্তিক দাবি পেশ করেন যা শ্রম আইনের পরিপন্থি।

উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ জানান, টিভলি অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে অন্যান্য কারখানাগুলোতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে পুলিশ বাঁধা দিলে পুলিশের ওপরও ইইটপাটকেল ছুঁড়ে। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। কারখানার পাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভ; দফায় দফায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ

প্রকাশিত : ০৫:১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২২

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক এলাকায় কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছে। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ১০ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও ৬ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে অন্তত ১০ শ্রমিকসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিসিক এলাকার চারটি পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এমন পরিস্থিতিতে ৩টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারখানার শ্রমিক সানোয়ার হোসেন জানান, গত শনিবার টিভলি অ্যাপারেলস লিমিটেড এর ফিনিশিং সেকশনের সহকারি রিপা আক্তারকে লাঞ্ছিত করে কারখানার পঞ্চম তলার উৎপাদন ব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান। বিষয়টি কারখানার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে জানাজানি হলে ওইদিনই বিচারের দাবিতে শ্রমিকরা উৎপাদন কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করে। পরে শ্রমিকরা ১২টি দাবি উল্লেখ করে মালিক পক্ষের নিকট একটি দাবিনামা উপস্থাপন করেন। সোমবারও শ্রমিকরা উৎপাদন কাজে যোগ না দিয়ে বাসায় চলে যায়। পরে মালিক কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণার নোটিশ ফ্যাক্টরির সামনে টাঙিয়ে দেয়।

মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে এসে বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাশের রেডিসন গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার সামনে এসে আন্দোলনে যোগ দেয় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এসময় পুলিশ গ্যাসগান ও শর্টগান চালিয়ে নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এরপর আবারও শ্রমিকরা সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড, আর বি এস আর ফ্যাশন লিমিটেড এবং বিসিক ফকির মার্কেটে জড়ো হয়ে পুলিশের উপর ত্রিমুখী হামলা চালায়। পরে পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ১০ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও ৬ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় শ্রমিকরা যাওয়ার পথে পেট্রিয়ট ইকো লিমিটেড কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এমন পরিস্থিতিতে সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড, আর বি এস আর ফ্যাশন লিমিটেড ও রেডিসন অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।

টিভলী অ্যাপারেলস লিমিটেডের মালিক মোশারফ হোসেন বলেন, শ্রমিকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ঘটনার দিনই উৎপাদন ব্যবস্থাপককে অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা তা সত্ত্বেও কিছু অযৌক্তিক দাবি পেশ করেন যা শ্রম আইনের পরিপন্থি।

উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ জানান, টিভলি অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে অন্যান্য কারখানাগুলোতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে পুলিশ বাঁধা দিলে পুলিশের ওপরও ইইটপাটকেল ছুঁড়ে। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। কারখানার পাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ