০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার: প্রধানমন্ত্রী

রোভার স্কাউটদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আজকের শিশু-কিশোররাই হবে আগামী দিনের জাতির কর্ণধার। প্রিয় রোভার স্কাউটবৃন্দ, আগামীতে তোমরাই জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই তোমাদের মধ্যে দেশপ্রেম থাকতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকতে হবে, মানবিক মূল্যবোধ থাকতে হবে। আমি আশা করি তোমরা সেভাবে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলবে। যে কোনো সময় দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।’

রবিবার চাঁদপুরের হাইমচরে ষষ্ঠ জাতীয় কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই প্রতিটি স্কুলে স্কাউট বা রোভার স্কাউট কর্মসূচিটা থাকুক। তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা নিয়মানুবর্তিতা শিখতে পারবে, মানুষের সেবা করতে পারবে। লেখাপড়া আমরা করব, সেই সঙ্গে জনসেবা করা, সেটা ছোটবেলা থেকেই আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে। সেই সাথে লেখাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাও থাকবে।

এ সময় তিনি বলেন, স্কাউটস শতাব্দী ভবন নির্মাণ ও স্কাউটিং সম্প্রসারণের জন্য ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কাবিং সম্প্রসারণের জন্য আরেকটি প্রকল্প অচিরই অনুমোদন দেয়া হবে। জাতীয় স্কাউটস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ৯৫ একর বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। বিভিন্ন জেলায় ও অঞ্চলে স্কাউট ভবন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শৈশব থেকেই জনসেবা শিখে সারা জীবন তার চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। মানুষের পাশাপশি জীব-জন্তু আর দেশকে ভালোবেসে মমত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে সুশিক্ষা পায়, তাদের মনমানসিকতা যেন ইতিবাচক হয়, তারা যেন সৃষ্টিশীল হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি।

এছাড়া চাঁদপুরের হাইমচরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি হেলিকপ্টারে করে আসার সময় এখানকার জায়গাগুলো দেখেছি। হাইমচর অঞ্চলটি পছন্দ হয়েছে। এখানে আমরা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবো। এখানকার মানুষ কাজের সুযোগ পাবে, সঙ্গে একটি পর্যটন কেন্দ্র হবে, নৌ ভ্রমণের জন্য স্পট বানানো হবে।

এ অনুষ্ঠান শেষে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে বিশ্রাম গ্রহণ শেষে দুপুর আড়াইটার পর তিনি ২৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন ও ২৪টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর বেলা ৩টায় চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।

এর আগে, বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেন। বাংলাদেশ স্কাউটের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, ষষ্ঠ কমডেকার প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

এরপর শেখ হাসিনা কমডেকা স্কার্ফ, টুপি ও ব্যাচ পরিয়ে দেয়া হয়। পরে তাকে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সালাম দেয় স্কাউটের বিভিন্ন ইউনিট। এই ষষ্ঠ কমডেকায় সারাদেশ থেকে সাড়ে সাত হাজারের মতো স্কাউট অংশ নিচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দুই দেশ ভারত ও নেপাল থেকেও প্রতিনিধি দল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা একজন স্কাউটও এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে।

>>চাঁদপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০২:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮

রোভার স্কাউটদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আজকের শিশু-কিশোররাই হবে আগামী দিনের জাতির কর্ণধার। প্রিয় রোভার স্কাউটবৃন্দ, আগামীতে তোমরাই জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই তোমাদের মধ্যে দেশপ্রেম থাকতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকতে হবে, মানবিক মূল্যবোধ থাকতে হবে। আমি আশা করি তোমরা সেভাবে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলবে। যে কোনো সময় দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।’

রবিবার চাঁদপুরের হাইমচরে ষষ্ঠ জাতীয় কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই প্রতিটি স্কুলে স্কাউট বা রোভার স্কাউট কর্মসূচিটা থাকুক। তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা নিয়মানুবর্তিতা শিখতে পারবে, মানুষের সেবা করতে পারবে। লেখাপড়া আমরা করব, সেই সঙ্গে জনসেবা করা, সেটা ছোটবেলা থেকেই আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে। সেই সাথে লেখাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাও থাকবে।

এ সময় তিনি বলেন, স্কাউটস শতাব্দী ভবন নির্মাণ ও স্কাউটিং সম্প্রসারণের জন্য ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কাবিং সম্প্রসারণের জন্য আরেকটি প্রকল্প অচিরই অনুমোদন দেয়া হবে। জাতীয় স্কাউটস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ৯৫ একর বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। বিভিন্ন জেলায় ও অঞ্চলে স্কাউট ভবন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শৈশব থেকেই জনসেবা শিখে সারা জীবন তার চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। মানুষের পাশাপশি জীব-জন্তু আর দেশকে ভালোবেসে মমত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে সুশিক্ষা পায়, তাদের মনমানসিকতা যেন ইতিবাচক হয়, তারা যেন সৃষ্টিশীল হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি।

এছাড়া চাঁদপুরের হাইমচরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি হেলিকপ্টারে করে আসার সময় এখানকার জায়গাগুলো দেখেছি। হাইমচর অঞ্চলটি পছন্দ হয়েছে। এখানে আমরা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবো। এখানকার মানুষ কাজের সুযোগ পাবে, সঙ্গে একটি পর্যটন কেন্দ্র হবে, নৌ ভ্রমণের জন্য স্পট বানানো হবে।

এ অনুষ্ঠান শেষে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে বিশ্রাম গ্রহণ শেষে দুপুর আড়াইটার পর তিনি ২৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন ও ২৪টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর বেলা ৩টায় চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।

এর আগে, বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেন। বাংলাদেশ স্কাউটের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, ষষ্ঠ কমডেকার প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

এরপর শেখ হাসিনা কমডেকা স্কার্ফ, টুপি ও ব্যাচ পরিয়ে দেয়া হয়। পরে তাকে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সালাম দেয় স্কাউটের বিভিন্ন ইউনিট। এই ষষ্ঠ কমডেকায় সারাদেশ থেকে সাড়ে সাত হাজারের মতো স্কাউট অংশ নিচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দুই দেশ ভারত ও নেপাল থেকেও প্রতিনিধি দল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা একজন স্কাউটও এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে।

>>চাঁদপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী