১২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেটে মা-ছেলে খুন; আসামি সাত দিনের রিমান্ডে

সিলেট নগরীর খাঁরপাড়ায় মা ও ছেলে খুনের ঘটনায় এক আবাসন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার দিবাগত নাজমুল হাসান নামের ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিরচক গ্রামের মৃত করিম মিয়ার ছেলে।

বুধবার বিকেলে নাজমুলকে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নাজমুল হাসানকে গ্রেফতারের পর বুধবার বেলা আড়াইটায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ।

সেখানে থানার এসি গোলাম সাদেক কাউসার দস্তগীর জানান, ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তদন্ত চালায়। তাদের উপর নজরদারিও চালানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেট শহরতলির বটেশ্বর বাজার থেকে নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে দেখেছে, মা ও ছেলে খুনের ঘটনার রাতে আশপাশেই ছিলেন নাজমুল। খুনের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। তবে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা আরো তদন্তের পর বলা যাবে।
পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাদেক কাউসার দস্তগীর আরো বলেন, নাজমুল হাসানের ছবি খুন হওয়া রোকেয়া বেগমের শিশুকন্যা রাইসাকে দেখানো হলে সে চিনতে পেরেছে। রাইসা ছবি দেখে বলেছে ‘এটি আমার নাজমুল মামার ছবি’।

মা ও ভাই খুনের পর থেকে রাইসা ভয়ের মধ্যে আছে বলে মন্তব্য করেছেন কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া বেগম।

তিনি বলেন, রাইসার মনে এখনো ভয় কাজ করছে। সে যে কক্ষে থাকছে, সেটির চাবি বারবার লুকিয়ে রাখছে। তার ধারণা, কেউ এসে তাকে মেরে ফেলবে। সে পুরুষ দেখলে ভয় পাচ্ছে, লুকিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে নাজমুল হাসানকে গতকাল বিকেলে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তার দশ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন সহকারি পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে সিলেট নগরীর মিরাবাজার খাঁরপাড়া মিতালী ১৫/জি নম্বর বাসা থেকে পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতকরা রোকেয়ার শিশুকন্যা রাইসাকেও খুন করতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাইসার গলায় চেপে ধরা হলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে তাকে মৃত ভেবে চলে যায় ঘাতকরা। রাইসার গলা থেকে ঘাতকের আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই জোড়া খুনের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু আজ

সিলেটে মা-ছেলে খুন; আসামি সাত দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত : ১০:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ এপ্রিল ২০১৮

সিলেট নগরীর খাঁরপাড়ায় মা ও ছেলে খুনের ঘটনায় এক আবাসন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার দিবাগত নাজমুল হাসান নামের ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিরচক গ্রামের মৃত করিম মিয়ার ছেলে।

বুধবার বিকেলে নাজমুলকে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নাজমুল হাসানকে গ্রেফতারের পর বুধবার বেলা আড়াইটায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ।

সেখানে থানার এসি গোলাম সাদেক কাউসার দস্তগীর জানান, ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তদন্ত চালায়। তাদের উপর নজরদারিও চালানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেট শহরতলির বটেশ্বর বাজার থেকে নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে দেখেছে, মা ও ছেলে খুনের ঘটনার রাতে আশপাশেই ছিলেন নাজমুল। খুনের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। তবে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা আরো তদন্তের পর বলা যাবে।
পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাদেক কাউসার দস্তগীর আরো বলেন, নাজমুল হাসানের ছবি খুন হওয়া রোকেয়া বেগমের শিশুকন্যা রাইসাকে দেখানো হলে সে চিনতে পেরেছে। রাইসা ছবি দেখে বলেছে ‘এটি আমার নাজমুল মামার ছবি’।

মা ও ভাই খুনের পর থেকে রাইসা ভয়ের মধ্যে আছে বলে মন্তব্য করেছেন কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া বেগম।

তিনি বলেন, রাইসার মনে এখনো ভয় কাজ করছে। সে যে কক্ষে থাকছে, সেটির চাবি বারবার লুকিয়ে রাখছে। তার ধারণা, কেউ এসে তাকে মেরে ফেলবে। সে পুরুষ দেখলে ভয় পাচ্ছে, লুকিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে নাজমুল হাসানকে গতকাল বিকেলে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তার দশ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন সহকারি পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে সিলেট নগরীর মিরাবাজার খাঁরপাড়া মিতালী ১৫/জি নম্বর বাসা থেকে পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতকরা রোকেয়ার শিশুকন্যা রাইসাকেও খুন করতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাইসার গলায় চেপে ধরা হলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে তাকে মৃত ভেবে চলে যায় ঘাতকরা। রাইসার গলা থেকে ঘাতকের আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই জোড়া খুনের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।