বাংলা নববর্ষের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ ও র্যাব ফোর্সেস এর প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ এবং উপস্থিত সকলের মাধ্যমে সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী সকলকে বাংলা নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
এ শুভক্ষণে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বাঙ্গালি জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’কে, যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের; স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই দেশের যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশী পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। বন্ধুগণ, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি।এখানে সকল ধর্মের, সকল বর্ণের মানুষ যেন তাদের সকল উৎসব সুষ্ঠুভাবে ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য র্যাব ফোর্সেসসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সজাগ রয়েছে।
পহেলা বৈশাখ বাংলা বছরের প্রথম দিন। বাংলা নববর্ষ বাঙ্গালিদের জন্য একটি সার্বজনীন লোক উৎসব। বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত সম্রাট আকবরের সময় থেকে পুরনো বছরের হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে নতুন হালখাতা খোলার মাধ্যমে নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন ব্যবসায়ীরা। ক্রমান্বয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সংগে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে পহেলা বৈশাখ আনন্দময় ও উৎসবমূখী হয়ে উঠে এবং বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালিত হতে থাকে। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় বাংলা নববর্ষ।
গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা মহামারীর প্রকোপ চলছে। আমি সকলের প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
পহেলা বৈশাখ-১৪২৯ কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক বছরের ন্যায় এবছরও র্যাব ফোর্সেস কর্তৃক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। সকল ধরণের অনাকাংঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যাব ফোর্সেস কর্তৃক পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলা নববর্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সারাদেশ ব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। আজকে থেকে নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে।
ঢাকা মহানগরীর রমনার বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র সরোবর, শিল্পকলা একাডেমি, বিআইসিসি ভবন, নজরুল একাডেমি, উত্তরা মাঠসহ বিভিন্নস্থানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত এলাকাসমূহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব কর্তৃক বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
টিএসসি, শাহবাগ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং রমনা বটমূলকে এ বিভক্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিক্ষণ চেকপোস্ট, টহল ও অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
রমনা বটমূল, টিএসসি ও চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে র্যাব বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড দ্বারা সুইপিং সম্পন্ন করা হবে।
সারাদেশব্যাপী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তার জন্য থাকবে র্যাবের কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ,পেট্রোল, মোটরসাইকেল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল, বোট পেট্রোলিং,ভেহিক্যাল স্ক্যানার, অবজার্ভেশন পোস্ট, চেক পোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিং।
যে কোন নাশকতা/হামলা মোকাবেলায় র্যাব স্পেশাল ফোর্স-এর কমান্ডো টীমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জ। পাশাপাশি, যে কোন পরিস্থিতিতে র্যাবের এয়ার উইং-এর হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
ব্যাটলিয়নসমূহ নিজ নিজ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে তাদের জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে সমন্নয় করবে।র্যাব সদর দপ্তরে কন্ট্রোল রুমের (কন্ট্রোল রুমের হটলাইন নাম্বারঃ ০১৭৭৭৭২০০২৯) মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হবে।
সকল মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় চেকপোষ্ট স্থাপন করা হবে। সকল মেট্রোপলিটন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরসমূহে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স রিজার্ভ থাকবে।
ভার্চুয়াল জগতে নর্ববর্ষকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরণের গুজব/উস্কানিমূলক তথ্য/মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে র্যাব সাইবার মনিটরিং টীম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখছে।
আমরা আশা করছি পূর্বের বছরগুলোর ন্যায় এ বছরও অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে সারা দেশব্যাপি বাংলা নববর্ষ উদ্যাপিত হবে।
পুরো এলাকার আইন শৃঙ্খলায় র্যাব সদর দপ্তর সার্বিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করবে।




















