চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের বাহানা তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাস ভবনে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ রাস্তা অবরোধ ও জণদুর্ভোগ সৃষ্টিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটি।
সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীনের পরিচালনায় শান্তিনগরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার এক জরুরি সভায় নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
সভায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একজন সম্মানিত ব্যক্তি, রাতের অন্ধকারে তাঁর শয়ন কক্ষে হামলা চালিয়ে যে তান্ডব চালিয়েছে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে হানাদার বাহিনীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় ঢুকেনি। অথচ দুবৃত্তরা রববিার এ ঘটনাই ঘটিয়েছে। এদের অবশ্যই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা বলেন, কোন মহলের ইন্ধনে বা কিছু মানুষের অযৌক্তিক দাবির মুখে চাকরিতে বিদ্যমান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিলে সারা বাংলার মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা কোনভাবেই তা মেনে নেবে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সাধারণ ছাত্রদের নাম দিয়ে যারা মুক্তিযোদ্ধা ও নারী কোটা বাতিল চায় তারা কোন ভাবেই সাধারণ নয়। সাধারণ ছাত্রের লেবাসে শিবিরের নেতাকর্মী এবং পশ্চাদপদশীল কিছু লোক এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, রবিবার একজন ছাত্র মারা যাওয়ার গুজব ছিড়িয়ে যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা বলেন, চাকরিতে কোটার বিষয়টি নতুন কোন কনসেপ্ট নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই কোটা প্রবর্তন করেন। জাতির জনককে হত্যার পর দীর্ঘ একুশ বছর ও ২০০১ সালের পর আরো সাত বছর এই কোটায় কোন মুক্তিযোদ্ধার চাকুরি হয়নি। এই কোটা না মানায়, তা ভোগ করেছে অমুক্তিযোদ্ধারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই কোটা কারো দয়ার দানে প্রাপ্ত নয়। এটি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সাংবিধানিক অধিকার। শাহবাগে কিছু সংখ্যক জামায়াত-শিবির মার্কা লোকের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিলে সারা বাংলার লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার মনে ক্ষোভের সঞ্চার হবে।
সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. কাজী সাইফুদ্দীন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর সভাপতি জোবায়দা হক অজন্তা, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান রোহেল, ইমরুল কায়েস রানা, নিলুফার আনজুম, সহসভাপতি আকবর হোসেন মিঠু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ রনি, আজহারুল ইসলাম অপু, দফতর সম্পাদক আহমাদ রাসেল, প্রচার সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী পন্নী, শিল্প বাণিজ্য সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম মুন্না, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শেখ আনিসুর রহমান, সৈয়দ আবু সাঈদ নাঈম এ সময় বক্তৃতা করেন।

























