থ্যালাসেমিয়াকে আমাদের দেশে হতে নির্মূল করতে হলে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হেমাটোকেরের যৌথ উদ্যোগে “থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ- জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে বাহক নির্ণয়ের গুরুত্ব” নিয়ে ২৬ মে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স বাংলাদেশ, ভবনে শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় সেখানে তিনি এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিকন ফার্মাসেটিক্যালের ব্যবস্থপনা পরিচালক. মোহাম্মদ এবাদুল করিম এমপি। এমিরেটাস অধ্যাপক এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আবদুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, প্রাক্তন সচিব ডঃ মিহির কান্তি মজুমদার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর ও প্রাক্তন সচিব এন আই খান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ এনামুল হক এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির উপদেষ্টা সৈয়দ দিদার বখত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডঃ এম এ মতিন। অনুষ্ঠান শেষে সবাই কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডাঃ মাফরুহা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি ও বি এম টি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য থ্যালাসেমিয়া একটি গুরুতর সমস্যা। এটি মূলত জীনগত ও জন্মগত একটি রক্তশূন্যতাজনিত রোগ। আক্রান্ত রোগীদের সারাজীবন চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। যেমন বারবার রক্ত পরিসঞ্চালন করা, আয়রন কমানোর ঔষধ সেবন ইত্যাদি। সামষ্টিক চিকিৎসা ব্যায় অনেক বেশি। যেহেতু বংশগত রোগ তাই পিতা ও মাতা উভয়েই যদি থ্যালাসেমিয়া বাহক হন তবে অনাগত সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগ হতে পারে।
উল্লেখ্য যে বাহকের নিজের তেমন কোন শারীরিক সমস্যা থাকে না। তাই বাহক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়েই সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাব থাকে। অথচ রক্তের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রফরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই নির্ণয় করা যায়।
দেশে শতকরা ১০-১২ ভাগ মানুষ থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোগ্লোবিন-ই বাহক অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ১.৫ কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগ জীন বহন করে। থ্যালাসেমিয়া একটি রক্তস্বল্পতা জনিত মারাত্মক বংশগত রোগ। বাবা ও মা উভয়ই এই রোগের জীন বহন করলে সন্তানেরা এই রোগ নিয়ে জন্ম গ্রহণের সম্ভবনা থাকে। বাংলাদেশে এখন এই সঠিক কোন তথ্য উপাত্ত নেই তবে বিভিন্ন গবেষণা হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয় দেশে প্রতি বছর ৮০০০-৯০০০ হাজার শিশু থ্যালসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। আর এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
থ্যালাসেমিয়াকে আমাদের দেশে হতে নির্মূল করতে হলে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। বিবাহের আগে প্রত্যেক তরুণ তরুণীর রক্তের একটি পরীক্ষা (হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রফরেসিস) করে জেনে নিতে হবে সে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক কিনা? বাহক নির্ণয়ের পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য দেশে পর্যাপ্ত ও উন্নত মানের চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যবস্থা করে হবে এবং মানুষ কে আরো সচেতন করতে হবে যাতে তারা তাদের বাহক নির্ণয় পরীক্ষা করে এবং বাহকে বাহকে বিবাহ বন্ধ করে। মানুষকে সচেতন এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের যথাপুযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা যাতে নিশ্চিত করা হয় এই লক্ষ্যে এই বছরের প্রতিপাদ্য- থ্যালাসেমিয়া নিজে জানি, যত্নবান হই এবং অপরকে সচেতন করি।
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিবহর আগে প্রত্যেক তরুণ তরুণীর রক্তের একটি পরীক্ষা করে জেনে নিতে হবে সে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক কিনা। মানুষকে কে আরো সচেতন করতে হবে যাতে তারা তাদের বাহক নির্ণয় করবে। মানুষকে সচেতন এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের যথাপুযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রধান অতিথি মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ কখনোই কোন যুদ্ধে পরাজিত হয়নি এই থ্যালাসেমিয়ার কাছে আমরা পরাজিত হবো না। সকল তরুণ তরুণীদের বিবাহ করার পুর্বে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। থ্যালাসেমিয়া থেকে আমরা মুক্ত না হতে পারলে আগামীতে আরো অনেক খারাপ অবস্থা হতে পারে। এই জন্য আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। মিডিয়ার মাধ্যমে এই সচেতনতা করতে হবে। এবং থ্যালাসেমিয়া মুক্ত পরিবার গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















