সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুনের পর বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা ৪৯ বলা হলেও আজ সোমবার তা আবার সংশোধন করে ৪১ জন বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ছাড়া ফায়ার সার্ভিসও এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪৯ বলে জানিয়েছিল।
মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান জানান, একই লাশ একাধিকবার গণনা করায় লাশের সংখ্যা বেশি হয়েছিল। একাধিক হাসপাতালে লাশ থাকায় গণনায় ভুল হয়েছিল। তারা ৪১টি লাশ পেয়েছেন। এর মাঝে ২৬ জনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনার স্থান থেকে চমেক হাসপাতালে ৪১ জনের লাশ আনা হয়। সেগুলোর মধ্যে বেলা ৩টা পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২২ জনের লাশ স্বজনদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাত ১০টার পর আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টার পর থেকে মৃতের খবর আসতে থাকে। প্রথমে দুজন, পরে চারজন, আরও পরে সাতজনের মারা যাওয়ার খবর আসে। এভাবে সময় যত গড়াতে থাকে মৃতের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, মৃতের সংখ্যা ৪৯ জন। এর ঘণ্টা দেড়েক পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান জানান, মৃতের সংখ্যা ৪৬ জন। রোববার রাত ৯টায় জেলা প্রশাসনের নোটিশ বোর্ডেও জানানো হয় মৃতের সংখ্যা ৪৬ জন। ফলে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আসলে কতজন মারা গেছেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সীতাকুণ্ডের ওই ডিপোতে আগুনের পর বিস্ফোরণের ঘটনায় রাসায়নিক পদার্থ থাকা চারটি কনটেইনার চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে অপসারণের চেষ্টা চলছে বলে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ১৮ ব্রিগেডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম হিমেল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।




















