০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যমুনায় পানি বৃদ্ধি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার ও শহরের হার্ডপয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতেও পানির চাপ বাড়ছে। ফলে পাট ও আমন ধানের বীজতলা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

বুধবার (৩ আগস্ট) যমুনায় পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পানি পরিমাপক) হাসানুর রহমান।

 

এদিকে নদীতে পানি বাড়ার কারণে জেলার কাজিপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। প্রতিদিনই ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হাসানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কাজিপুর উপজেলার মেঘাই ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯৭ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জে শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। পানি বাড়ার কারণে সে সময় জেলায় বন্যার সর্তকবার্তা জারি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার ৩৮ ইউনিয়নের প্রায় ৮ হাজার ৪০০ পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ সে সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

গত ২৩ জুলাই থেকে যমুনা নদীতে তৃতীয় দফা পানি বাড়তে শুরু করে। টানা এক সপ্তাহ পানি বেড়ে গত শুক্রবার সকাল থেকে কমতে শুরু করে। গত বোরবার (৩১ জুলাই) বিকেল থেকে আবারও যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান মো. জিয়াউর রহমান জিয়া মুন্সি জানান, প্রতি বছর কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রায় ৮ মাস পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। এবছর পরপর তিনবার পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের প্রায় সব জায়গা পানিতে ডুবে আছে। এবার জমিতে শয্য রোপন করতেও পারছে না কৃষকেরা। চলতি বছরের বন্যায় সব চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে চরাঞ্চলের কৃষকেরা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, যমুনা নদীর পানি শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট ও কাজীপুর পয়েন্টে বাড়লেও বন্যার কোন আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণেই যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে।

 

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, এ বছর আউস ধান, পাট, তিল, কাউন, বাদামসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৭৫ হেক্টর।

তিনি আরও বলেন, পরপর তিনবার যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যা না হলে কিছুটা ক্ষতি পুশিয়ে নিতে পারবেন কৃষকরা।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

যমুনায় পানি বৃদ্ধি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশিত : ০৪:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অগাস্ট ২০২২

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার ও শহরের হার্ডপয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতেও পানির চাপ বাড়ছে। ফলে পাট ও আমন ধানের বীজতলা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

বুধবার (৩ আগস্ট) যমুনায় পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পানি পরিমাপক) হাসানুর রহমান।

 

এদিকে নদীতে পানি বাড়ার কারণে জেলার কাজিপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। প্রতিদিনই ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হাসানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কাজিপুর উপজেলার মেঘাই ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯৭ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জে শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। পানি বাড়ার কারণে সে সময় জেলায় বন্যার সর্তকবার্তা জারি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার ৩৮ ইউনিয়নের প্রায় ৮ হাজার ৪০০ পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ সে সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

গত ২৩ জুলাই থেকে যমুনা নদীতে তৃতীয় দফা পানি বাড়তে শুরু করে। টানা এক সপ্তাহ পানি বেড়ে গত শুক্রবার সকাল থেকে কমতে শুরু করে। গত বোরবার (৩১ জুলাই) বিকেল থেকে আবারও যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান মো. জিয়াউর রহমান জিয়া মুন্সি জানান, প্রতি বছর কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রায় ৮ মাস পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। এবছর পরপর তিনবার পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের প্রায় সব জায়গা পানিতে ডুবে আছে। এবার জমিতে শয্য রোপন করতেও পারছে না কৃষকেরা। চলতি বছরের বন্যায় সব চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে চরাঞ্চলের কৃষকেরা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, যমুনা নদীর পানি শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট ও কাজীপুর পয়েন্টে বাড়লেও বন্যার কোন আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণেই যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে।

 

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, এ বছর আউস ধান, পাট, তিল, কাউন, বাদামসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৭৫ হেক্টর।

তিনি আরও বলেন, পরপর তিনবার যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যা না হলে কিছুটা ক্ষতি পুশিয়ে নিতে পারবেন কৃষকরা।