০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

৩৪ বছর ছদ্মবেশে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত মাজহারুলকে গ্রেফতার করেছে র্যাদব-৪

দীর্ঘ ৩৪ বছর বিভিন্ন ছদ্মবেশে পলাতক থাকা দুর্নীতি দমন আইনের মামলায় ১৩
বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ মাজহারুল আলম অবশেষে র্যামবের জালে ধরা
পড়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ঢাকা
মহানগরীর কাফরুল থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মাজহারুল আলম (৭০) মানিকগঞ্জ জেলার বেতিলা-মিতরা
ইউনিয়নের নালড়া গ্রামের গাজী কফিল উদ্দিনের ছেলে। সে ১৯৮১ সালে নিজের
সনদপত্র জাল-জালিয়াতি রে হরিরামপুর উপজেলা মুন্সেফি আদালত, মানিকগঞ্জে
নাজির হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করে।

র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪’র আওতাধীন মানিকগঞ্জ সিপিসি-৩’র
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন জানান, হরিরামপুর উপজেলা
মুন্সেফি আদালতে কর্মরত থাকাকালীন মাজহারুল বিজ্ঞ আদালতের উর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের সীল ও স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন লোককে টাকার মাধ্যমে অনেক
গুরুত্বপুর্ন ও সিক্রেট কাগজপত্র প্রদান করতো এবং জাল সীল ও স্বাক্ষর
দিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা গ্রহন করতো। এছাড়াও
বিভিন্ন সময়ে কৌশলে নানাভাবে মিথ্যা কাগজপত্র করে সরকারি টাকা নিজে
আত্মাসাৎ করতো। সরকারি অর্থ আত্মাসাৎ ও সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনা বিজ্ঞ
আদালতে কর্মরত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ জানতে পারলে মাজহারুল আলমের বিরুদ্ধে
জাল সনদপত্র দাখিল করিয়া চাকুরীতে যোগদান ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সীল ও
স্বাক্ষর জাল করিয়া লোকজনকে কাগজপত্র প্রদান সহ সরকারী টাকা আত্মাসাৎ
করার অপরাধে মামলা হয়।

মামলা দায়ের পর মাজহারুল আলম (নাজির) কে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে
সোর্পদ করে। দীর্ঘ ০৪ মাস হাজত বাসের পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে আত্মগোপনে
চলে যায় সে। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী মোঃ মাজহারুল আলম
(নাজির) এর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। চার্জশিটের
ভিত্তিতে বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত স্বাক্ষ্য প্রমানে ভিত্তিতে প্রতারনার
মাধ্যমে জাল সনদপত্র দিয়ে নিজে চাকুরীতে যোগদান ও সরকারি টাকা আত্মাসাৎ
এর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে বিগত ১লা ডিসেম্বর ১৯৮৮ তাকে ১৩
বছরের সাজা প্রদান সহ ৪০০০/- টাকা জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে
মাজহারুল আলম (নাজির) দীর্ঘ ৩৪ বছর পলাতক ছিলো।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা মহানগরীর কাফরুল থানা
এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল মোঃ
’কে গ্রেফতার করে। মাজহারুল আলম (নাজির) গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে লোক
চক্ষুর আড়ালে সে আত্মগোপনে করে । পরিচিত লোকজন থেকে নিজেকে আড়াল করে
রাখার জন্য ঘটনার পর পরই সে ঢাকা চলে যায় এবং প্রথম দিকে সে ঢাকায় মুদি
দোকানি ও পরে ঔষধের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। পরবর্তীতে সে ঢাকার
বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো ঠিকাদারি করতো। গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট
থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

৩৪ বছর ছদ্মবেশে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত মাজহারুলকে গ্রেফতার করেছে র্যাদব-৪

প্রকাশিত : ০৬:৪৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

দীর্ঘ ৩৪ বছর বিভিন্ন ছদ্মবেশে পলাতক থাকা দুর্নীতি দমন আইনের মামলায় ১৩
বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ মাজহারুল আলম অবশেষে র্যামবের জালে ধরা
পড়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ঢাকা
মহানগরীর কাফরুল থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মাজহারুল আলম (৭০) মানিকগঞ্জ জেলার বেতিলা-মিতরা
ইউনিয়নের নালড়া গ্রামের গাজী কফিল উদ্দিনের ছেলে। সে ১৯৮১ সালে নিজের
সনদপত্র জাল-জালিয়াতি রে হরিরামপুর উপজেলা মুন্সেফি আদালত, মানিকগঞ্জে
নাজির হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করে।

র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪’র আওতাধীন মানিকগঞ্জ সিপিসি-৩’র
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন জানান, হরিরামপুর উপজেলা
মুন্সেফি আদালতে কর্মরত থাকাকালীন মাজহারুল বিজ্ঞ আদালতের উর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের সীল ও স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন লোককে টাকার মাধ্যমে অনেক
গুরুত্বপুর্ন ও সিক্রেট কাগজপত্র প্রদান করতো এবং জাল সীল ও স্বাক্ষর
দিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা গ্রহন করতো। এছাড়াও
বিভিন্ন সময়ে কৌশলে নানাভাবে মিথ্যা কাগজপত্র করে সরকারি টাকা নিজে
আত্মাসাৎ করতো। সরকারি অর্থ আত্মাসাৎ ও সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনা বিজ্ঞ
আদালতে কর্মরত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ জানতে পারলে মাজহারুল আলমের বিরুদ্ধে
জাল সনদপত্র দাখিল করিয়া চাকুরীতে যোগদান ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সীল ও
স্বাক্ষর জাল করিয়া লোকজনকে কাগজপত্র প্রদান সহ সরকারী টাকা আত্মাসাৎ
করার অপরাধে মামলা হয়।

মামলা দায়ের পর মাজহারুল আলম (নাজির) কে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে
সোর্পদ করে। দীর্ঘ ০৪ মাস হাজত বাসের পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে আত্মগোপনে
চলে যায় সে। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী মোঃ মাজহারুল আলম
(নাজির) এর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। চার্জশিটের
ভিত্তিতে বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত স্বাক্ষ্য প্রমানে ভিত্তিতে প্রতারনার
মাধ্যমে জাল সনদপত্র দিয়ে নিজে চাকুরীতে যোগদান ও সরকারি টাকা আত্মাসাৎ
এর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে বিগত ১লা ডিসেম্বর ১৯৮৮ তাকে ১৩
বছরের সাজা প্রদান সহ ৪০০০/- টাকা জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে
মাজহারুল আলম (নাজির) দীর্ঘ ৩৪ বছর পলাতক ছিলো।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা মহানগরীর কাফরুল থানা
এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল মোঃ
’কে গ্রেফতার করে। মাজহারুল আলম (নাজির) গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে লোক
চক্ষুর আড়ালে সে আত্মগোপনে করে । পরিচিত লোকজন থেকে নিজেকে আড়াল করে
রাখার জন্য ঘটনার পর পরই সে ঢাকা চলে যায় এবং প্রথম দিকে সে ঢাকায় মুদি
দোকানি ও পরে ঔষধের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। পরবর্তীতে সে ঢাকার
বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো ঠিকাদারি করতো। গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট
থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ