ফল ও সবজি হিসেবে ডাটাশাক বেশ জনপ্রিয়। শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য একসময় বাড়ির আঙিনায় চাষ করা হতো শাকসবজিটি। আর এ বছর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রেরণায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম নামের এক শিক্ষিত যুবক চলতি মৌসুমে ডাটা চাষ করে সাফল্যের পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক সারা ফেলেছেন।
তিনি বিএ পাস করার পর দীর্ঘদিন চাকরি না পেয়ে কৃষি কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বছরের পর বছর পড়ে থাকা জমিতে ডাটাশাক চাষ এনে দিয়েছে আবুল কালামের জীবনে নতুন গতি। কৃষক আবুল কালাম জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র। দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার কটিয়াদী সংবাদদাতা মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক এর প্রতিবেদনে বিস্তারিত।
জানা যায়,নিজের আত্মতৃপ্তি আর ভালো লাগা থেকেই নিজের জমিতে প্রথমে পেপে চাষবাদ করেন। পরের বছর পেঁপে চাষে সফলতা পেয়ে লেবুর আবাদ শুরু করেন। পরের বছর ভালো মানের পেঁপের বীজ সংগ্রহ এবং চারা উৎপাদন করেন। পেঁপে চাষাবাদে সফলতার মুখ দেখতে পান। সেই প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সার্বিকভাবে সহযোগিতা ফলদ ও বৃক্ষে সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এ বছর ডাটাশাক চাষে আবুল কালামের এই সাফল্যের পিছনে কটিয়াদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলতাব হোসেন সার্বিকভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করে আসছেন।

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগেও কটিয়াদী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভায় ডাটাশাক তেমন একটা চাষ হতো না। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে জমিতে অর্থাৎ পাঁচ বছরে ডাটাশাক চাষ দ্বিগুণ হয়েছে কটিয়াদী উপজেলায়।
ডাটাশাক চাষি আবুল কালাম জানান, বাবার জমি থাকায় নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পেশা হিসেবে কৃষি কাজকেই বেছে নেই এবং মনোযোগী হয়ে পরি। প্রতিবছর একটার পর একটা সফলতার মুখ দেখে চলতি বছর ৬বিঘা জমিতে ডাটাশাক চাষ করি। চাষ করতে জমি তৈরি,সার,কীটনাশক,শ্রমিকের মুজরি সব কিছু মিলেই এই খরচ হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। আর ডাটাশাক ৪ লাখ টাকা বিক্রি করি। তিনি আরও বলেন,বর্তমানে ডাটা চাষ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল আমি।
ডাটাশাকের পাশাপাশি জমিতে বিভিন্ন সবজির আবাদ করছি। একটি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। পাশাপাশি পেঁপে,লেবু,কলাসহ আরও অন্যান্য সব ধরনের বাগান রয়েছে। যা আমি পর্যায়কমে মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরব। ডাটা চাষে আমার সাফল্য দেখে আশপাশের অনেকে কৃষিকাজ করতে উৎসাহিত হচ্ছে। আগামীতে আরো বেশি জমি নিয়ে বিভিন্ন সবজির চাষ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পাইকারি বিক্রেতা কাজল মিয়া বলেন, ডাটাশাক আকারে বড় এবং সুস্বাদ ও উৎপাদন ভালো হচ্ছে। প্রতিবছরই এর উৎপাদন বাড়ছে। এখন কটিয়াদী উপজেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ অন্য জেলারও প্রয়োজন মেটাচ্ছে। প্রতিদিনই উপজেলার বাইরে পাঠাচ্ছি আমরা। বাজারে এর চাহিদা ভালোই।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মুকশেদুল হক বলেন,রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কটিয়াদী উপজেলার উৎপাদিত শাকসবজির বেশি চাহিদা রয়েছে। আর সবজি উৎপাদনে এ উপজেলার বেশ সুনামও রয়েছে। অনেক কৃষক শাকসবজি ভালো চাষে বেশ সফল হয়েছে। ডাটা চাষে সফল কৃষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবুল কালাম। তিনি ডাটা চাষ করে নিজের ভাগ্য বদলেছেন। তাকে দেখে উপজেলার অনেকে এখন ডাটা চাষে ঝুঁকছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব




















