১১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে চলতি সপ্তাহে

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদামে থাকা পণ্য ভিজে নষ্ট হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়েছে এই বাজারের কয়েকশ কোটি টাকারও বেশি পণ্য। প্রকৃতপক্ষে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর জানা যাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সময় কয়েকশ কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

৩১ অক্টোবর সোমবার বিকাল ৪টার দিকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কার্যকরী কমিটি এক জরুরি সভায় বসে। সংগঠনের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশও প্রদান করা হয়। আগামী ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ করা হবে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন জানান, আজ (সোমবার) বিকাল ৪টার দিকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কার্যকরি কমিটির এক জরুরি সভার সিদ্ধান্তক্রমে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে এখানকার ব্যবসায়ীদের কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত করে আগামী ২ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিবে। এরপর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসেবটা সরকার ও সংশ্লিষ্টদের জানাবো।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জোয়ারের পানির যন্ত্রণায় ভোগছি। সিডিএসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা মিলেনি। আমরা আর ক্ষতির বোঝা নিতে পারছি না। স্লুইস গেটের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী।

সভায় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সহ-সভাপতি মো. ফারুক আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সজল মুহুরী, অর্থ সম্পাদক হারাধন চৌধুরী, সহ-অর্থ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তপনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ও অমাবশ্যার কারণে জোয়ারে পানির স্তর বেড়ে রাত ১০টা থেকে খাতুনগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকা তলিয়ে যেতে থাকে। ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে গেলেও খবর পেয়ে ফিরে আসতে আসতেই মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। জোয়ারের পানি চাক্তাই ও রাজাখালী খাল দিয়ে এসে ঢুকেছে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও আছদগঞ্জে। ফলে দোকান ও গুদামে থাকা পণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, চিনি, হলুদ, আদা, পেঁয়াজ, রসুন, চিড়া, ভুষা মালামাল, চাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত স্লুইচগেটগুলোর পাম্প মেশিন এখনো বসানো হয়নি। খাতুনগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাক্তাই খালের দুই পাশে নির্মিতব্য রিটার্নিং ওয়ালের কারণে খাল থেকে তুলে রাখা মাটির কারণে পানি যেতে না পারায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেছে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে স্লুইচগেটগুলোর নির্মাণ কাজ কয়েক বছর ধরে থমকে থাকায় জোয়ারের পানিতে খাতুনগঞ্জের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলেও খাতুনগঞ্জের উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। যার কারণে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যবসা কেন্দ্রের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মান্ধাতা আমলের। এর কারণে স্বল্প বৃষ্টিপাতেও এই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা করতে নানান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। তবে এবারের জোয়ারের পানি আশঙ্কার চেয়েও বেশি উঠে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি।

খাতুনগঞ্জে কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি ভোগ্যপণ্য সারাদেশে বিকিকিনি হয়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস হয়ে ব্যবসায়ী সারাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারিতে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল বিক্রি করেন। প্রতিদিন এই বাজারের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে চলতি সপ্তাহে

প্রকাশিত : ০৪:১৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদামে থাকা পণ্য ভিজে নষ্ট হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়েছে এই বাজারের কয়েকশ কোটি টাকারও বেশি পণ্য। প্রকৃতপক্ষে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর জানা যাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সময় কয়েকশ কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

৩১ অক্টোবর সোমবার বিকাল ৪টার দিকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কার্যকরী কমিটি এক জরুরি সভায় বসে। সংগঠনের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশও প্রদান করা হয়। আগামী ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ করা হবে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন জানান, আজ (সোমবার) বিকাল ৪টার দিকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কার্যকরি কমিটির এক জরুরি সভার সিদ্ধান্তক্রমে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে এখানকার ব্যবসায়ীদের কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত করে আগামী ২ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিবে। এরপর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসেবটা সরকার ও সংশ্লিষ্টদের জানাবো।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জোয়ারের পানির যন্ত্রণায় ভোগছি। সিডিএসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা মিলেনি। আমরা আর ক্ষতির বোঝা নিতে পারছি না। স্লুইস গেটের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী।

সভায় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সহ-সভাপতি মো. ফারুক আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সজল মুহুরী, অর্থ সম্পাদক হারাধন চৌধুরী, সহ-অর্থ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তপনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ও অমাবশ্যার কারণে জোয়ারে পানির স্তর বেড়ে রাত ১০টা থেকে খাতুনগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকা তলিয়ে যেতে থাকে। ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে গেলেও খবর পেয়ে ফিরে আসতে আসতেই মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। জোয়ারের পানি চাক্তাই ও রাজাখালী খাল দিয়ে এসে ঢুকেছে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও আছদগঞ্জে। ফলে দোকান ও গুদামে থাকা পণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, চিনি, হলুদ, আদা, পেঁয়াজ, রসুন, চিড়া, ভুষা মালামাল, চাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত স্লুইচগেটগুলোর পাম্প মেশিন এখনো বসানো হয়নি। খাতুনগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাক্তাই খালের দুই পাশে নির্মিতব্য রিটার্নিং ওয়ালের কারণে খাল থেকে তুলে রাখা মাটির কারণে পানি যেতে না পারায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেছে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে স্লুইচগেটগুলোর নির্মাণ কাজ কয়েক বছর ধরে থমকে থাকায় জোয়ারের পানিতে খাতুনগঞ্জের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলেও খাতুনগঞ্জের উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। যার কারণে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যবসা কেন্দ্রের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মান্ধাতা আমলের। এর কারণে স্বল্প বৃষ্টিপাতেও এই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা করতে নানান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। তবে এবারের জোয়ারের পানি আশঙ্কার চেয়েও বেশি উঠে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি।

খাতুনগঞ্জে কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি ভোগ্যপণ্য সারাদেশে বিকিকিনি হয়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস হয়ে ব্যবসায়ী সারাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারিতে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল বিক্রি করেন। প্রতিদিন এই বাজারের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ