১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন জঙ্গি সংগঠনে জামায়াতের ‘যোগসূত্র’ খতিয়ে দেখছে সিটিটিসি

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র কোনো সংযোগ-যোগাযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, এ সংগঠনের সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক ডা. রাফাত জামায়াত আমিরের ছেলে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বাবার সংগঠনের (জামায়াত) কোনো নির্দেশনা ছিল কি না বা তাদের দ্বারা নির্দেশিত হয়ে নতুন এ জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন কি না তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বুধবার দুপুরে সিলেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় জামায়াত আমিরের ছেলে ডা. রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহকে।

সিটিটিসির দাবি, গ্রেফতার ডা. রাফাত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১ নভেম্বর রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেজাদুল ইসলাম সাহাব তানিম ওরফে ইসা ওরফে আরাফাত ওরফে আনোয়ার ওরফে আনবির, মো. জাহিদ হাসান ভূঁইয়া ও সৈয়দ রিয়াজ আহমদ নামে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সিলেট থেকে হিজরত করেছিলেন। বাংলাদেশে সম্প্রতি যত যুবক হিজরত করেছেন এর মধ্যে সিলেটে বেশি। সর্বপ্রথম সিলেট থেকেই হিজরত করে। সেই হিজরতকালীন মাস্টারমাইন্ড ডা. রাফাত। ডা. রাফাত একটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নি করছিলেন। তাকে আমরা গ্রেফতার করেছি।

‘আগে গ্রেফতার তানিম, আনবির ও জাহিদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, তিন যুবকসহ যারাই সিলেট থেকে হিজরত করেছেন, নতুন করে দীক্ষা ও রেডিক্যালাইজড হয়েছে এর নেপথ্যে মূল ব্যক্তি ছিলেন গ্রেফতার ডা. রাফাত।’

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ডা. রাফাতের নেতৃত্বেই ২০২১ সালের জুন মাসে ১১ যুবক সিলেট থেকে হিজরত করেন। তখন তা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। তারা বান্দরবানে যায় কিন্তু কোনো কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তারা সাতদিন পর সিলেটে ফিরে আসেন। কিন্তু তারা তৎপরতা বন্ধ রাখেননি। ডা. রাফাতের মতো বড় সহযোগী ও সংগঠক তাহহিয়াত। তিনি আবার গত বছরের আগস্টে পুনরায় হিজরত করেন। নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ে প্রশিক্ষণ ফেরত এক যুবককে আমরা শনাক্ত ও গ্রেফতারে জিজ্ঞাসাবাদ করি।

‘তাহহিয়াতের ছবি দেখালে তিনি তা শনাক্ত করেন। তাহহিয়াতসহ বেশ কয়েকজন তখন ২০২১ সালের আগস্টে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দেন। সিলেট অঞ্চল থেকে যেসব যুবক হিজরত করেছেন তাদের দীক্ষা, প্রভাবিত করা, দাওয়াত দেওয়া, হিজরতে উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন ডা. রাফাত।’

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর নতুন জঙ্গি সংগঠনের নাম উঠে আসে। এরপর সিটিটিসিসহ অন্যান্য বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। তারা গা ঢাকা দেয়। তারা আবার সিলেট থেকে হিজরতের প্রস্তুতি নেয়। গত ১ নভেম্বর গ্রেফতার তানিম, আনবির ও জাহিদের আরও অনেককে নিয়ে পুনরায় বড় রকমের হিজরতের কথা ছিল। তবে তাদের দেওয়া তথ্যে ডা. রাফাতকে গ্রেফতার করা হয়।

আসাদুজ্জামান বলেন, ডা. রাফাত দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের ধর্মভীরু যুবকদের জিহাদ ও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ, প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। কোরআন প্রশিক্ষণের আড়ালে জঙ্গিবাদের দীক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। তারা বেশ কয়েকজন জিহাদে উদ্বুদ্ধ যুবককে বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এছাড়া প্রশিক্ষণের সক্ষমতাও তারা যাচাই করেছেন। আমরা সেই বোমা বানানো কারিগরকে শনাক্ত করেছি। তাকে গ্রেফতার অভিযান চলছে।

ডা. রাফাতের সঙ্গে জামায়াত বা শিবিরে কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সময় শিবির করেছেন ডা. রাফাত। তবে তার কোনো পর্যায়ের নেতা ছিলেন সেটা জানাননি। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তার যে সিক্রেট যোগাযোগ তা খতিয়ে দেখছি।

অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের ন্যায় নতুন জঙ্গি সংগঠনের হামলা-নাশকতার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, এই সংগঠনের মাস্টারমাইন্ড শামীন মাহফুজ। তার সহযোগী তমাল। তাদের গ্রেফতার করা গেলে এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানা যাবে। জঙ্গি সংগঠন মাত্রই হামলা, শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা থাকে। সেই লক্ষ্যে হামলা করে। তবে নতুন এই জঙ্গি সংগঠন এখন পর্যন্ত সেখানে যেতেই পারেনি। প্রস্তুতি পর্বেই আমরা তাদের থামিয়ে দিতে পেরেছি।

বিজনেস বাংলাদেশ / বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নতুন জঙ্গি সংগঠনে জামায়াতের ‘যোগসূত্র’ খতিয়ে দেখছে সিটিটিসি

প্রকাশিত : ০৯:১৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০২২

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র কোনো সংযোগ-যোগাযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, এ সংগঠনের সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক ডা. রাফাত জামায়াত আমিরের ছেলে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বাবার সংগঠনের (জামায়াত) কোনো নির্দেশনা ছিল কি না বা তাদের দ্বারা নির্দেশিত হয়ে নতুন এ জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন কি না তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বুধবার দুপুরে সিলেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় জামায়াত আমিরের ছেলে ডা. রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহকে।

সিটিটিসির দাবি, গ্রেফতার ডা. রাফাত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১ নভেম্বর রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেজাদুল ইসলাম সাহাব তানিম ওরফে ইসা ওরফে আরাফাত ওরফে আনোয়ার ওরফে আনবির, মো. জাহিদ হাসান ভূঁইয়া ও সৈয়দ রিয়াজ আহমদ নামে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সিলেট থেকে হিজরত করেছিলেন। বাংলাদেশে সম্প্রতি যত যুবক হিজরত করেছেন এর মধ্যে সিলেটে বেশি। সর্বপ্রথম সিলেট থেকেই হিজরত করে। সেই হিজরতকালীন মাস্টারমাইন্ড ডা. রাফাত। ডা. রাফাত একটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নি করছিলেন। তাকে আমরা গ্রেফতার করেছি।

‘আগে গ্রেফতার তানিম, আনবির ও জাহিদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, তিন যুবকসহ যারাই সিলেট থেকে হিজরত করেছেন, নতুন করে দীক্ষা ও রেডিক্যালাইজড হয়েছে এর নেপথ্যে মূল ব্যক্তি ছিলেন গ্রেফতার ডা. রাফাত।’

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ডা. রাফাতের নেতৃত্বেই ২০২১ সালের জুন মাসে ১১ যুবক সিলেট থেকে হিজরত করেন। তখন তা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। তারা বান্দরবানে যায় কিন্তু কোনো কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তারা সাতদিন পর সিলেটে ফিরে আসেন। কিন্তু তারা তৎপরতা বন্ধ রাখেননি। ডা. রাফাতের মতো বড় সহযোগী ও সংগঠক তাহহিয়াত। তিনি আবার গত বছরের আগস্টে পুনরায় হিজরত করেন। নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ে প্রশিক্ষণ ফেরত এক যুবককে আমরা শনাক্ত ও গ্রেফতারে জিজ্ঞাসাবাদ করি।

‘তাহহিয়াতের ছবি দেখালে তিনি তা শনাক্ত করেন। তাহহিয়াতসহ বেশ কয়েকজন তখন ২০২১ সালের আগস্টে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দেন। সিলেট অঞ্চল থেকে যেসব যুবক হিজরত করেছেন তাদের দীক্ষা, প্রভাবিত করা, দাওয়াত দেওয়া, হিজরতে উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন ডা. রাফাত।’

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর নতুন জঙ্গি সংগঠনের নাম উঠে আসে। এরপর সিটিটিসিসহ অন্যান্য বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। তারা গা ঢাকা দেয়। তারা আবার সিলেট থেকে হিজরতের প্রস্তুতি নেয়। গত ১ নভেম্বর গ্রেফতার তানিম, আনবির ও জাহিদের আরও অনেককে নিয়ে পুনরায় বড় রকমের হিজরতের কথা ছিল। তবে তাদের দেওয়া তথ্যে ডা. রাফাতকে গ্রেফতার করা হয়।

আসাদুজ্জামান বলেন, ডা. রাফাত দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের ধর্মভীরু যুবকদের জিহাদ ও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ, প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। কোরআন প্রশিক্ষণের আড়ালে জঙ্গিবাদের দীক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। তারা বেশ কয়েকজন জিহাদে উদ্বুদ্ধ যুবককে বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এছাড়া প্রশিক্ষণের সক্ষমতাও তারা যাচাই করেছেন। আমরা সেই বোমা বানানো কারিগরকে শনাক্ত করেছি। তাকে গ্রেফতার অভিযান চলছে।

ডা. রাফাতের সঙ্গে জামায়াত বা শিবিরে কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সময় শিবির করেছেন ডা. রাফাত। তবে তার কোনো পর্যায়ের নেতা ছিলেন সেটা জানাননি। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তার যে সিক্রেট যোগাযোগ তা খতিয়ে দেখছি।

অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের ন্যায় নতুন জঙ্গি সংগঠনের হামলা-নাশকতার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, এই সংগঠনের মাস্টারমাইন্ড শামীন মাহফুজ। তার সহযোগী তমাল। তাদের গ্রেফতার করা গেলে এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানা যাবে। জঙ্গি সংগঠন মাত্রই হামলা, শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা থাকে। সেই লক্ষ্যে হামলা করে। তবে নতুন এই জঙ্গি সংগঠন এখন পর্যন্ত সেখানে যেতেই পারেনি। প্রস্তুতি পর্বেই আমরা তাদের থামিয়ে দিতে পেরেছি।

বিজনেস বাংলাদেশ / বিএইচ