ঢাকা সকাল ১০:৩৩, শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

খাল উদ্ধারে কৃষকের স্বস্তি

‘জাল যার, জলা তার’ এই নীতি বদলে দিয়েছিল প্রতাপশালীরা। এখানে ‘ক্ষমতা যার, জলা তার’ এমন নীতিই চলছিল। এক সময়ের প্রবহমান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর খাল-নালাগুলো কব্জায় নিয়ে চলছিল মাছ চাষ বাণিজ্য। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল কৃষকরা।

তবে এখন দখলদারদের হাত থেকে ছুঁটছে খাল-নালাগুলো।

 

গত দেড় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দখল হওয়া এরকম ৮০০ একর জমির সরকারি খাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। দণ্ড দেওয়া হয়েছে ১৪ জন দখলদারকে। এতেই নড়েচড়ে বসেছেন সরকারি খাল দখল করা প্রতাপশালীরা। তবে এখনও ছোট-বড় প্রায় ১০০ খাল বেদখল হয়ে আছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, খালগুলো উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর থেকে উপজেলার বিভিন্ন খাল-নালা উদ্ধারে  অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ছয়টি খালের ২৯টি বাঁধ কেটে প্রায় ৮০০ একর জমির সরকারি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব খালের ১১ জন দখলদারকে চার লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া তিনজনকে দেওয়া হয়েছে কারাদণ্ড।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এসব সরকারি খাস খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করতো প্রভাবশালীরা। এতে বর্ষা মৌসুমে ফসলি খেতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকরা। তারা বলছেন, শুকনো মৌসুমে প্রভাবশালীদের দখল করা খাল থেকে পানি ক্রয় করে চাষাবাদ করতে হতো। এখন যে কয়েকটি খাল দখলমুক্ত হয়েছে ওইসব খালের আশপাশের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দখলমুক্ত হওয়ায় খাল এলাকাগুলোতে প্রায় ৭০০ কৃষকের ৫০০ হেক্টর জমি চাষাবাদ উপযোগী হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা গ্রামের কৃষক সায়েম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানের বাঙরের খালটি (জায়দার খাল) দীর্ঘদিন ধরে দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। সেই খালের বাঁধ কেটে উন্মুক্ত করায় প্রায় ২০০ একর জমির চাষি উপকৃত হয়েছে। ’

প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, এখনও ছোট-বড় প্রায় এক শ’ খাল দখল করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলো দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে  আমাদের বেশ কিছু সমস্যা ছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রকৃতির খাল (সরকারি খাস খাল) সেগুলো ব্যক্তি উদ্যোগে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রভাবশালী ওইসব লোকজন তাদের মতো দখল করে রেখেছিল। বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয়ের  নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ও  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে কাজির হাওলার খাল, সেনের হাওলা, বিষার খালসহ এরকম বড় বড় অনেকগুলো খাল ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে।

জানতে চাইলে সরকারি খাল উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সালেক মূহিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খালগুলো বাঁধ কেটে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ওইসব দখলদারদের দখলে থাকা ছয়টি খালের ২৯টি বাঁধ কেটে প্রায় ৮০০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ’

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, ‘রাঙ্গাবালীতে প্রচুর খাল-বিল, নদী-নালা, জলাশয় এবং স্লুইসগেট রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন লোকজন বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে তারা ভোগ করছিল। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে খাল নালাগুলোর ইজারা বন্ধ আছে। সম্প্রতি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে খাল-নালা এবং স্লুইসগেট উন্মুক্ত ঘোষণা করেছি। ’

এ বিভাগের আরও সংবাদ